• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে কারারক্ষীর চাকরি


প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৩, ১২:৪০ অপরাহ্ন / ৪৮
চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে কারারক্ষীর চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্রগ্রামঃ চট্টগ্রাম কারাগারের সাবেক কারারক্ষীর (বর্তমানে রাঙামাটি কারাগারে কর্মরত) বিরুদ্ধে স্থায়ী ঠিকানা ও সনদ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই কারারক্ষীর নাম রকিবুল ইসলাম। বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি নিজেও। এ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কার্যালয় তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি কারাগারের জেলার আতিকুর রহমান। দুদিন আগে মো. সাগর নামে কক্সবাজারের বাসিন্দা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ করেন। এরপর জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। চিঠিতে বলা হয়, কারারক্ষী রকিবুলের বাবার নাম আনছার প্রামাণিক ও জামিলা খাতুন। তিনি কক্সবাজারের রামুর স্থায়ী বাসিন্দা নন। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধাও নন। কারণ এ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম নেই। এখানে মোট মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন ১৯ জন। রকিবুল ভুয়া ঠিকানা ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই কারারক্ষী পদে চাকরিতে যোগ দেন। প্রকৃত ঠিকানা পাবনার ফরিদপুরের পার ফরিদপুর গ্রামে। অথচ চাকরির তথ্যে স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে-রামুর গ্রাম ও ডাকঘর গর্জনিয়া, কিন্তু তার জাতীয় পরিচয়পত্রে এ ঠিকানার উল্লেখ নেই। চিঠিতে চাকরির জন্য জালিয়াতি করে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে. রকিবুল কক্সবাজারের বা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথাই বলতে পারেন না। এছাড়া তিনি লেখাপড়া করেছেন পাবনার ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমিতে। এমনকি ছুটিতে তিনি কখনো কক্সবাজার যান না। তাহলে তার স্থায়ী ঠিকানা রামুতে কেন-সহকর্মীরা এসব উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন, ২০১৭ সালে মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি করে এ চাকরি নেন তিনি।

রাঙামাটি কারাগারে প্রধান কারারক্ষী হিসাবে আবদুল নবী বলেন, আমার বাড়ি রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে। কাগজে-কলমে রকিবুলের বাড়ি আমার পাশের ইউনিয়ন গর্জনিয়ায় বলা হচ্ছে। অথচ আমি তাকে চিনি না। এলাকায়ও কখনো দেখিনি।

জেলার আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি ডিআইজি অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। যেখানে নিয়োগ হয় সেখানে তদন্ত হয়। রকিবুল আমাদের এখানে চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে রকিবুল জানান, তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদটি দালালের মাধ্যমে বানিয়েছেন। তার বাড়িও রামু নয়। চাকরি পেতে তিনি এ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এটা তিনি ভুল করেছেন।