• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই মিশুক চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার ২


প্রকাশের সময় : মার্চ ১৬, ২০২৩, ১১:৫৩ অপরাহ্ন / ৫৯
ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যেই মিশুক চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার ২

শাহনাজ বেগম, মুন্সিগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জ থানা কর্তৃক মিশুক চালক আল আমিনের চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে৷ হত্যাকান্ড ঘটানোর সাত ঘন্টার মধ্যে এই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বেলা ২ টায় এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এ তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল মামুন বিপিএম পিপিএম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা যায়, ১৫ মার্চ বুধবার যাত্রীবেশে অভিযুক্ত নাইম উদ্দিন ও মোঃ হানিফ মিয়া আনুমানিক বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভিকটিম আল আমিন (২২) কে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে মুক্তারপুর ব্রীজ হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানাধীন আলদী বাজার হয়ে দিঘিরপাড় বাজারে যায়। সন্ধ্যার পর বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের আজিমপুরা রাস্তার ওপরে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে অভিযুক্ত নাইম ও হানিফ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার কথা বলে অটোরিকশাটি থামায়। এ সময় অভিযুক্ত নাইম ও হানিফ অটো রিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে ভিকটিম আল আমিন বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত হানিফ তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করলে আল আমিন নিচে পড়ে যায়। পরবর্তীতে নাইমের সহায়তায় হানিফ এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং আল আমিন পড়ে যায়।
আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আল-আমিনকে চিকিৎসার জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত আনুমানিক এগারোটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে আল আমিন।

ঘটনার পরপরই হাতিমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং আলামত জব্দ এর পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নিমিত্তে ঘটনাস্থলের আশপাশে এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনাস্থল থেকে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

হাতিমারা তদন্তকেন্দ্রের আইসি ইন্সপেক্টর অমর চন্দ্র দাস এবং এসআই ( নিরস্ত্র) কাজী এনামুল হক আলোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করে।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাত ঘন্টার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার দেওভোগ এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত নাঈম ও হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযুক্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় সরাসরি যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানা যায় ব্রিফিংয়ে। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে মুন্সিগঞ্জ থানা একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে যার নং ৪০, তারিখ ১৬/০৩/২৩ ধারা – ৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি। প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এর ফলশ্রুতিতে গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ভিকটিম আলআমিন (২২) মাদারীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর থানার আবু তালেবের পুত্র৷
অভিযুক্ত মো: নাইম উদ্দিন কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার ছনগাঁও গ্রামের মোঃ মতিউর রহমানের পুত্র ও মোঃ হানিফ মিয়া রংপুর জেলার পীরগাছা থানার মোংলা কুটি গ্রামের রাজা মিয়ার পুত্র।