• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

গোপাগঞ্জের মুকসুদপুরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে -১জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক সুদে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে – গ্রেপ্তার -৮


প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২২, ২:৫৭ অপরাহ্ন / ৪৩
গোপাগঞ্জের মুকসুদপুরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে -১জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক সুদে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে – গ্রেপ্তার -৮

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের পাইকদিয়া গ্রামে পাওনা টাকা না পেয়ে জিমি বেগম (৩০) কে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে অসীম মোল্লা নামে এক সুদ ব্যবসায়ী ও তার লোকজন। এ ঘটনায় তার স্বামী নুর আলমকে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে৷ পরে এ ঘটনায় নুর আলমের ভাই হাবিবুর রহমান মুন্সী বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় ২৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেছেন। হত্যার ঘটনায় ৮ জন‌কে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ৷

মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি ইরি মৌসুমের আগে নিহতের স্বামী নুর আলম মুন্সী প্রতিবেশী অসিম মোল্লার কাছ থেকে ইরি মৌসুম শেষে ৫০ মন ধান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২লাখ টাকা ধার নিয়েছিলো। কিন্তু, হঠাৎ করে বিলের পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। যে কারনে ধান বা টাকা কোনটাই পরিশোধ করতে পারেননি নুর আলম। এ নিয়ে সম্প্রতি এক শালিশ বৈঠকে আগামী ১৫ নভেম্বর টাকা পরিশোধ করার কথা ছিলো।কিন্তু তার আগেই গত রোববার (৩ জুলাই) অসিম মোল্যা তাদের বাড়িতে সালিশের কথা বলে স্বামী-স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে যায় রাত সোয়া ১১ টার দিকে। সেখানে গেলে টাকা সুদ সমেত ফেরত দেওয়া-নেওয়া নিয়ে নিহতের স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মারধর করে অসিম মোল্লা ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ সময় স্ত্রী ছুটে গিয়ে স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে এবং পিটিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। পরে তাদেরকে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে জিমি বেগম সেখানে মারা যায়৷ তার স্বামী নুর আলমের অবস্থার অবনতি দেখে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন মুকসুদপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিলয়। তিনি জানান, জিমি বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

মুকসুদপুর থানার ওসি মো. আবু বকর মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে জিমি বেগম নামে এক নারী খুন হয়েছে৷ এ ব্যাপারে ২৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৮জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে সোমবার (৪ জুলাই) আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷