

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জে বৈধ দলিলপত্র থাকা সত্ত্বেও মাহফুজা মৌ নামে এক এতিম মেয়ে নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকতে না পেরে ঘরছাড়া হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকায় এস.এ. দাগ নং ৮৮, আর.এস. দাগ নং ১০৩ এবং বিএস দাগ নং ১৬৬ ও ১৬৭ মোট ১০.১৬ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন হাজেরা বেগম। তিনি তার কন্যা পারভিন বেগম ও নাতনি মাহফুজা মৌ-কে মালিকানা হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে মাহফুজা মৌ তার নামে করা দলিল অনুযায়ী কিছু অংশ বিক্রি করেন এবং অবশিষ্ট ৩.৪৯ শতাংশ জমিতে একতলা বিশিষ্ট দুটি ইউনিটের একটি ফ্ল্যাটে ( উত্তর পার্শ্বে)জন্মসূত্রে বসবাস শুরু করেন।
কিছুদিন আগে স্বামীর চাকরির কারণে মাহফুজা মৌ ও তার স্বামী মুহিদ হাসান ঢাকায় চলে যান। ফিরে এসে (২১ অক্টোবর ২০২৫) তারা দেখতে পান তাদের ইউনিটের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগানো হয়েছে। কে তালা দিয়েছে জানতে চাইলে স্থানীয় জোসনা বেগম ও তার স্বামী মুস্তাফিজুর রহমান লিটু উত্তেজিত হয়ে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে মাহফুজা মৌ ও তার স্বামী গোপালগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এখনও পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
মাহফুজা মৌ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ওই ফ্ল্যাটের বৈধ মালিক। আমার নামে দলিল ও কাগজপত্র রয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার অধিকার ফেরত চাই।
অন্যদিকে, জোসনা বেগম (সভাপতি, ২নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগ) ও তার স্বামী লিটু বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মাহফুজা মৌ সামান্য কিছু জমির মালিক ছিলেন, তবে সেটিও আমাদের কাছে বায়না চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করেছেন।
এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, স্থানীয়ভাবে জোসনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তার রাজনৈতিক পদ ও সামাজিক অবস্থান ব্যবহার করে তিনি এলাকার উপর প্রভাব খাটান বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এতিম মাহফুজা মৌ বর্তমানে নিজের বৈধ সম্পত্তি ফিরে পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :