• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ এক বৃত্তশালীর বিরুদ্ধে


প্রকাশের সময় : মার্চ ২, ২০২৩, ৭:০৩ অপরাহ্ন / ১৩৩
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ এক বৃত্তশালীর বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের জলিরপাড় বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রোঞ্জ মার্কেটের পূর্বপাশে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, প্রভাবশালী টুলু (লিটন) বাগচি নামের এক ধনাঢ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সে দক্ষিণ জলিরপাড় এলাকার মৃত হল গোবিন্দ (পাখি) বাগচির ছেলে।

এ বিষয়ে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকদের উক্ত নির্মাণাধীন মার্কেটে নির্মাণ কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। কে মার্কেট নির্মাণ করছেন? জানতে চাইলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, প্রভাবশালী টুলু (লিটন) বাগচির নাম বলেন। সে স্থানীয় জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায়ের ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ায় এমনটি করতে পারেন বলে জানান তারা।

অভিযুক্ত টুলু (লিটন) বাগচির নিকট সরকারি জায়গায় মার্কেট নির্মাণে প্রশাসনের অনুমতির ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ডিসি সাহেব অনুমতি দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন।

নানা অনিয়মে অভিযুক্ত জলিরপাড় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) এস এম রকিব উদ্দিনের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মুকসুদপুর ইউএনও অফিসে যাওয়ার দোহাই দিয়ে বিকেলে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার সাহা এ বিষয়ে কোন বক্তব্য না দিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ইমাম রাজী টুলু বলেন, এখনই আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

এদিকে খানিক পরে মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমাদের প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মুঠো ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠান। পরে প্রতিনিধি মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার সাহার নিকট আইনগত ব্যবস্থা নিবেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত স্বরে বলেন, আমরা তো একটি কাজ নিয়ে বসে থাকি না।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি জায়গায় আমার নাম ভাঙিয়ে অবৈধ ভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ আপনার নিকট থেকেই জানতে পেরেছি। এ ধরনের কোন সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার সাহা উক্ত স্থানে গিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেটের ওপরের সারির কিছু অংশ ভেঙে সেখান থেকে ফিরে যান। পুরোটা না ভাঙ্গায় এলাকায় জনসাধারণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।