• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দৃষ্টিনন্দন ঘর নির্মাণ করে চলেছে উপজেলা প্রশাসন


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৪, ২:২৮ পূর্বাহ্ন / ১১
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দৃষ্টিনন্দন ঘর নির্মাণ করে চলেছে উপজেলা প্রশাসন

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গড়ে উঠছে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে প্রথম ধাপ পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে ৫২৫টি ঘর। যা ইতোমধ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের ২য় ধাপে ২৩৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করা হলেও অবশিষ্ট ঘর গুলো গুণগত মান ঠিক রেখে নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে চতুর্থ পর্যায়ে পঞ্চম ধাপে আরও ১০২টি ঘরের নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন ২ শতক জমি, টয়লেট ও রান্নাঘরসহ ২রুমের ঘর পাবেন। এছাড়াও বিদ্যুত সংযোগ ও পানি সরবরাহ সহ পরিবার গুলোকে কর্মসংস্থানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার পৃথক উদ্যোগ নিয়েছে মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, একের পর এক দাঁড়িয়ে থাকা প্রকল্পের রঙবেরঙের ঘরগুলো পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। দূর থেকে দেখে মনে হয় আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ঘরগুলো নতুন কোন শহরের ঠিকানা।

মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের জলিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস বেগম জানান, হায়রে কপাল জায়গা-জমি নেই, নিজের ঘরও নেই, স্বামীও বেঁচে নেই। ফলে শরম লজ্জা ত্যাগ করে অসহায় হয়ে মেয়ের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। কোথাও কোন ঠাঁই না পেয়ে আশ্রয়নের ঘর পেতে উপজেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করি। সরকারি পাকা ঘরের স্বপ্ন দেখি আর ভাবতে থাকি আমার কপালে কবে জুটবে ইটের বাড়ি। সরকারি অফিসে যোগাযোগের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে একটি ঘর আমি বরাদ্দ পেয়েছি। ঘর পেয়ে আমি খুব-খুশি। আমার কিছু থাক, বা না থাক, এখন আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। জলিরপাড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেয়ে তৃতীয় লিঙ্গের সোনা মিয়া জানান, পূর্বের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর চেয়ে বর্তমানের ঘরগুলো নিখুঁত ভাবে তৈরি করা হচ্ছে। ১’শ বছরেও এ ঘরগুলোর কিছুই হবে না। ওরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর উপহার পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এলাকাবাসী জানান, প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মানসম্মত ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘর তৈরিতে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব সময় তদারকি করছেন, যে কারণে নির্মাণ সামগ্রী এবং নির্মাণ কাজ মানসম্মত হচ্ছে। জলিরপাড় ইউনিয়নে একসাথে অনেকগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করায় প্রকল্পটির সৌন্দর্য ফুটে উঠে দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। ছোট ছোট ঘরগুলোতে উন্নত মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় দীর্ঘস্থায়ী হবে। অসহায় মানুষগুলো তাদের দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে রঙিন এ ঘরে বসবাস করবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের ঘর গুলো নির্মাণ করা হচ্ছে সঠিক মানের সামগ্রী দিয়ে। কাজের গুনগতমান ভালো রাখতে আমি সহ অফিসের লোকজন সবসময় ইট, সিমেন্ট, রড এবং মিস্ত্রীর হাতের কাজ তদারকি করছেন। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ভূ’মিহীনও গৃহহীন পরিবারগুলোর কাছে দলিলমূলে হস্তান্তর করা হবে। মুকসুদপুর উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের স্বপ্নপূরণ করতে উন্নত মানের গৃহ নির্মাণ করে তাদেরকে উপহার দিতে চাই। প্রতিটি ঘরের জন্য ভালোমানের মালামাল সরবরাহ করা হয়। দক্ষ রাজমিস্ত্রী ও সরকারের গৃহীত নকশা অনুযায়ী ঘরগুলো নির্মাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন ঘরগুলো পূর্বের ঘরের চেয়ে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ইমাম রাজী টুলু বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সুন্দর করতে সবসময়ই তদারকি করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূুমিহীন ও গৃহহীন মানুষগুলো যাতে স্বাচ্ছন্দে সুন্দর ভাবে ওই ঘরে জীবনযাপন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসনের সং কর্মকর্তারা। প্রতিটি এলাকায় আমরা ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আবেদন সংগ্রহের পর যাচাই-বাছাই-এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ ২ ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করে আসছি। পর্যায়ক্রমে এ উপজেলার সকল ভূ’মিহীন ও গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর উপহারের পর এ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ঘরপ্রাপ্তি শতভাগ ঘোষণা করার চেষ্টা করবো।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের আশ্রয়ন -২ প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের জড়জীর্ণ ২৫টি ব্যারাকের স্থলে ২৪৯টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,০৪,৫০০/- টাকা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন -২ প্রকল্পের আওতায় ইতোপূর্বে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য মুকসুদপুর উপজেলায় ৬৩৩টি গৃহ নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।