• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরের কোনাবাড়ি বিসিকের ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারিজে কি হচ্ছে?


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৩, ২০২১, ৪:২৫ অপরাহ্ন / ৪৮৪
গাজীপুরের কোনাবাড়ি বিসিকের ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারিজে কি হচ্ছে?

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারিজ অবস্থান গাজীপুর কোনাবাড়ি বিসিক এলাকায়, তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের নীচতলার স্যাতসেতে পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ আর দোতলা তিনতলায় ব্যাচেলরদের মেস ভাড়া দেওয়া হয়েছে। যখন কোম্পানির ইন্সপেকশন চলে তখন মেস মেম্বারদের অন্য জায়গায় আবাসিক হোটেলে রাখে।

ইন্সপেকশন শেষ হলেই মেস মেম্বারদের আবার আগের জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয় ( ইমা ইউনানি ল্যাবরেটরিজ’এর দোতলায় এবং তৃতীয় তলায়)।

ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারীজ এর মালিক ইকবাল হোসেন লেখাপড়া না জানলেও কবিরাজঘর নামে কোনা বাড়ি আমবাগ রাস্তার বাম পাশে ই আছে তার একটি ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্র।

লেখাপড়া না জানা স্বঘোষিত হেকিম/কবিরাজ বা চিকিৎসক স্থানীয় জনগণকে কি ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন সে বিষয় টা এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে অতিসম্প্রতি কালে গার্মেন্টস কর্মী স্বামী-স্ত্রী দুজনই যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে মৃত্যু বরণ করার পরে।

জানা গেছে, ইমা ইউনানি ল্যাবরেটরিতে যে সকল ঔষধ তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে সেসব ঔষধ সামগ্রীর লেবেল কার্টনের খসড়া ও চুড়ান্ত অনুমোদন নেই।

উক্ত কোম্পানির উৎপাদিত ঔষধ সমুহের মধ্যে আরক ইমাগ্যাস ৪৫০ এম.এল সিরাপ, সিরাপ জোফা ৪৫০ এম.এল, ইমাফল ৪৫০ এম.এল সিরাপ, ইমাটন ৪৫০ এম.এল সিরাপ, ইমোফিট (শরবত জিনসিন) এই যৌন উত্তেজক সিরাপ টি একই ডি.এ.আর নাম্বার ব্যাবহার করা হচ্ছে, ইমোফিট (শরবত জিনসিন) এটার লেবেল কার্টন কালো রংয়ের যা ৪৫০ এম.এল, ১০০ এম.এল এবং ৫০ এম.এল তিন প্রকারের ইমোফিট তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

আবার একই শরবত জিনসিন সিরাপ জিনসিন (শরবত জিনসিন) নাম দিয়ে টকটকে লাল রংয়ে ১০০ এম.এল ও ৫০ এম.এল যৌন উত্তেজক জিনসিন সিরাপ তৈরি করে বাজারে ছেড়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ও ইমা বুজুরী ৪৫০ এম.এল সিরাপ এবং শরবত ইমাপ্লেক্স ৪৫০ এম.এল সিরাপ তৈরি ও বাজারজাত করছে।

ঔষধ কোম্পানির সাথে সম্পৃক্ত একটি সুত্র জানায়, ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারীজ এর তৈরি ও বাজারজাত কৃত ইমাগ্যাস সিরাপে এন্টাসিডের কাচামাল, ইমাফল, ইমাটন এবং ইমাপ্লেক্স সিরাপ তৈরিকালে মাত্রা অতিরিক্ত ডেক্সামিথাসন গ্রুপের কেমিক্যাল এবং সিপ্রোহেপ্টাডিন গ্রুপের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়া ইমোফিট (শরবত জিনসিন) ও সিরাপ জিনসিন (শরবত জিনসিন) তৈরিকালেও ভায়াগ্রার কাচামাল ও মাত্রাতিরিক্ত কেফেইন ব্যবহার করা হয়েছে। আর মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল যুক্ত পাওয়ার ফুল এসব ঔষধ সেবন করলে মানবদেহের লিভার কিডনি ও হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি রয়েছে শতভাগ।

সাম্প্রতিক কালে কাশিমপুরে স্বামী-স্ত্রী যৌন উত্তেজক ঔষধ খেয়ে মৃত্যুবরণ করায় দেশের জনস্বাস্থ্য আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।

এ বিষয়ে ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারীজ এর মালিক ইকবাল হোসেন এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান তার কোম্পানির ঔষধের লেবেল কার্টন এর অনুমোদন এর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন, কোম্পানি ইন্সপেকশন শেষ হলেই উক্ত পদসমূহের লেবেল কার্টন এর অনুমোদন হবে।

বর্তমানে তার কোম্পানির ফাইলটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী মোবারক হোসেন গাজীর কাছে আছে বলেও তিনি জানান।

তার কোম্পানির ঔষধ সমুহের মধ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টা এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ইকবাল হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি গাজীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

উপ-পরিচালক মির্জা আনোয়ারুল বাসেদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান কোম্পানির ফাইল পত্র দেখে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাজীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক হারুন আর রশিদ এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান ওরা খুবই দুষ্ট প্রকৃতির লোক দেখি সরেজমিনে প্রত্যক্ষভাবে তদন্ত করে দেখবো।

গাজীপুরের অপর কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আহসান হাবীবের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান এসব অভিযোগ তার জানা নেই তবে ইমা ইউনানি ল্যাবরেটারীজের এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে উক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।