• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষতে ‘তড়িঘড়ি’ নিয়োগের অভিযোগ, ১৫ পদে চাকরি পেলেন ১৬ জন


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২২, ৩:২৮ অপরাহ্ন / ৩১
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষতে ‘তড়িঘড়ি’ নিয়োগের অভিযোগ, ১৫ পদে চাকরি পেলেন ১৬ জন

মোস্তাইন বীন ইদ্রিস (চঞ্চল),খুলনা: খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) ছুটির মধ্যে তড়িঘড়ি জনবল নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছয় ক্যাটাগরির পদে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের রাতেই ফল টাঙিয়ে পরদিন সকালে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আর এর এক দিন পরই নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যে দুই দিনে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে, ওই দুই দিন ছিল সরকারি ছুটি। ছুটির মধ্যে তড়িঘড়ি জনবল নিয়োগ দেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, পছন্দের লোককে নিয়োগ দিতে এমন কাজ করেছে কেডিএ। তবে কেডিএ বলছে, সব কিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি।

জানা গেছে, ৭ অক্টোবর (শুক্রবার) ৬ ক্যাটাগরির পদে ১৫ জনের নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করে কেডিএ। ওই পরীক্ষায় আট শতাধিক প্রার্থী অংশ নেন। শুক্রবার গভীর রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর (শনিবার) নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা। সকালে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে বিকেলেই ১৬ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। ওই নিয়োগের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী, সার্ভেয়ার, নিরাপত্তাপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী। ৭ অক্টোবর ৬ ক্যাটাগরির পদে ১৫ জনের নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের পরদিন নিয়োগের জন্য ১৬ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচিত ঘোষণা করেছে কেডিএ।

এ বিষয়ে কেডিএর কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, ৭ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল সরকারি ছুটি। ওই ছুটির মধ্যে তড়িঘড়ি নিয়োগের বিষয়ে কেডিএ বোর্ড সদস্য ও কর্মকর্তাদের জানানো হয়নি। এটা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কেডিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। নিজেদের পছন্দের লোককে নিয়োগ দিতে না পেরে অনেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আইন ও বিধি মেনেই ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কেডিএ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে ৯ পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বছর স্থপতি, সহকারী টাউন প্ল্যানার ও সহকারী প্রোগ্রামার পদে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর করোনার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালের নভেম্বরে সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর) ও (বিদ্যুৎ) একটি করে, কার্যসহকারী ও সার্ভেয়ার একটি করে, নিরাপত্তাপ্রহরীর ১০টি পদে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর একটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ৭ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষায় আট শতাধিক প্রার্থী অংশ নেন।

গত শুক্রবার রাতে উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী, সার্ভেয়ারের ৪টি পদে ২০ জনকে, নিরাপত্তাপ্রহরীর ১০টি পদে ৫০ জনকে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ১২ জনকে লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের ৮ অক্টোবর সকাল ১০টার মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ অক্টোবর শনিবার মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৬ জনকে প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ কমিটি।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া খুলনা নগরের নিরালা আবাসিক এলাকার এক পরীক্ষার্থী বলেন, ৭০ নম্বরের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা অংশে বাগ্‌ধারা, এক কথায় প্রকাশ, বানান শুদ্ধকরণ, সাহিত্য ও রচয়িতার নাম, ইংরেজি অংশে অব্যয়ের ব্যবহার, বানান শুদ্ধ, সাধারণ জ্ঞান ও পাটি গণিতের প্রশ্ন এসেছিল। প্রতিটি উত্তরই সঠিক ভাবে দিয়েছি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পরদিন জানতে পারি, রাতেই পরীক্ষার ফল দিয়েছে এবং মৌখিক পরীক্ষা হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কেডিএর কর্মকর্তা/ কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মো. তবিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা (এসএমএম) পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কেডিএর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।