• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

খুলনার পাইকগাছায় ডিজিটাল সাউন্ডের মাধ্যমে পাখির নকল ডাকের ফাঁদে পাখি শিকার


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৩, ১১:৫১ অপরাহ্ন / ৫৭
খুলনার পাইকগাছায় ডিজিটাল সাউন্ডের মাধ্যমে পাখির নকল ডাকের ফাঁদে পাখি শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক,পাইকগাছা,খুলনাঃ খুলনার পাইকগাছায় শীত মৌসুমে পাখি শিকারের উৎসবে মেতেছে শিকারীরা।পাইকগাছা এলাকার বিভিন্ন আমন ক্ষেত, খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের থেকে শিকারীরা দেশি ও পরিযয়ী পাখি শিকার করছে।থানা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিকারীদের বিরুদ্ধে দু একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও যথাযথ তদারকি না থাকায় শিকারীরা নানা কৈৗশলে তৎপর রয়েছে পাখি শিকারে।

উপজেলার বয়রা, কচুবুনিয়া, বাসাখালী, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, হানিমুনকিয়া, বাহিরবুনিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, চকবগুড়া, খড়িয়া, অকাইবাসী, ঠাকুনবাড়ী, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান ক্ষেত, খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের রয়েছে। এ সব খাল বিলে শীত মৌসুমের শুরুতে কমবেশি পরিযয়ী পাখির আগমন ঘটেছে। সকাল হলেই পাখিরা এসব স্থানে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ সময় ঘেরে এলাকার লোকজন সহ সাধারণ শিকারীরা পূর্ব থেকেই ওই সব স্থানে বিভিন্ন মাছ ও ফড়িং জাতীয় প্রাণীতে বিষ মিশিয়ে ফাদ পেতে রাখে।

শিকারীরা পাখি শিকারে অভিনব পদ্ধতি বের করেছে। এসব শিকারীরা সাধারণ মানুষের চোখ ফাকি দিতে রাত ৮টার পরে ধান ক্ষেত বা মৎস্য ঘেরে পাখির ডাকের ফাঁদ পেতে রেখে আসে এবং রাত ৪টার দিকে এ ফাঁদ তুলে আনে। ইন্টারনেট থেকে পাখির ডাক রেকর্ড করে সেই পাখির স্বর ধান ক্ষেতে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে বাজিয়ে পাখি শিকারে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। সাউন্ড বক্সে পাখির ডাক শুনে পরিযয়ী ও স্থানীয় পাখিরা ফাঁদে গিয়ে ধরা পড়ছে। তাছাড়া দুই/তিন একর জুড়ে বাঁশ পুতে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। এভাবেই শিকারীরা প্রতিদিন ফাঁদ ও বিষ টোপ দিয়ে পাখি শিকার অব্যাহত রেখেছে।

পাখি শিকার যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত।