• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

খুলনার পাইকগাছায় কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা আল-কারিম ট্রাষ্টের প্রধান মুফতি শাখিল


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৩, ২:৪৮ অপরাহ্ন / ৫২
খুলনার পাইকগাছায় কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা আল-কারিম ট্রাষ্টের প্রধান মুফতি শাখিল

মোঃ মানছুর রহমান জাহিদ, পাইকগাছা, খুলনাঃ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম থেকে স্বল্প মুল্যে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, ভ্যান, ইজিবাইক সহ বিভিন্ন পণ্য দেয়ার লোভ দেখিয়ে গরীব অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে কথিত আল-কারিম ট্রাষ্টের প্রধান মুফতি শাখিল আহমেদ নামের এক প্রতারক। গত ২৩শে মার্চ মাহে রমজানের শুরুর দিন তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধের পর তার এ প্রতারণা প্রকাশ্যে আসে।

প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগী অসহায় মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে টাকা ফেরত পেতে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ২ এপ্রিল (রোববার) সরজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কাতার ও দুবাই ভিত্তিক ভুয়া ও কথিত ট্রাষ্টের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় যতসামান্য মুল্যে পণ্য বিতরণ শুরু করে প্রতারক মুফতি শাখিল আহমেদ।

এ সময় খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য নাহার আক্তার জানান, প্রত্যেক এলাকায় এ সব পণ্য বিতরণ ও সার্বিক তদারকির জন্য নিজস্ব প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। যাদের মাধ্যমে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, ইঞ্জিন চালিত নসিমন, মোটর চালিত ভ্যান, ইজিবাইক বিতরণ শুরু করে প্রতারক চক্র। ওয়াজেদ সরদার নামে এক ভুক্তভোগী জানান, এজেন্টরা পন্যের বিনিময়ে সেলাইমেশিন প্রতি ২৫’শ টাকা, বাইসাইকেল প্রতি ৩ হাজার, মোটরভ্যান প্রতি ১০ হাজার, ইঞ্জিন চালিত ভ্যান প্রতি ২০ হাজার ও ইজিবাইক প্রতি প্রথমে ২৫ হাজার পরে চাহিদা বেড়ে গেলে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার পর সিরিয়াল অনুযায়ী প্রদানের আশ্বাস দেয় প্রতারক চক্র।জামাল সরদার নামে আরো একজন ভুক্তভোগী বলেন, এজেন্টরা প্রথমে এলাকায় স্বল্প মুল্যে বিভিন্ন পণ্য বিতারণে চমক দেখায়। তাদের উৎসাহ উদ্দিপনায় এলাকার মানুষ স্বল্প মুল্যের পণ্যের আশায় টাকা দিয়ে সিরিয়াল দিতে থাকেন। অল্পদিনে কোটি কোটি টাকা জমা পড়ে এজেন্টদের কাছে।ভুক্তভোগী রেখা বেগম নামে একজন নারী জানান, আমার পরিবারে সদস্যদের জন্য ৫ টি ভ্যান নেয়ার জন্য ৯০ হাজার টাকা দেই এজেন্টের ম্যাধ্যমে। ভ্যান না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলে গেছে। এখন আমার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।এছাড়া উপস্থিত বিভিন্ন ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকার পরিচিত মুখ এ সব এজেন্টগন যে প্রতারক চক্রের সদস্য ও সুবিধাভোগী তা জানতেন না কেহ। এজেন্টদের দৃঢ়তা ও আশ্বাসের কাছে পরাভুত হয় এলাকার মানুষ। তারা প্রতারণার মূলহোতা সহ এজেন্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় এজেন্ট আজিজুর রহমান জানান, আল কারিম ট্রাস্টের মুফতি শাখিল আমাকে কমিসনের ভিত্তিতে এজেন্ট নিযোগ করে। আমি বুঝতে পারিনি তিনি এতো বড় প্রতারক। আমার কাছে গ্রাহকের যত টাকা ছিল সব আমি জমা দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, ঘটনাটি মৌখিক ভাবে শুনেছি। কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি মৌখিক ভাবে শুনেছি। এ বিষয়ে আমি চার্জ নেওয়ার পরে কেউ আসে নাই। যদি কেউ আসে তাহলে আমি অবশ্যই আইনগত পরামর্শ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, আরও জানা যায় এই প্রতারক শাকিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা হতেও একইভাবে প্রতারনা করে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।