• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

খুলনার দিঘলিয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২২, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন / ৩৮
খুলনার দিঘলিয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মোস্তাইন বীন ইদ্রিস (চঞ্চল),খুলনা: দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজনীন আক্তার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এস jjjjjjjjএম তারেক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সকল অভিযোগের ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ২০২২ সালের পরীক্ষার খাতাসহ পিছনের সকল পরীক্ষার খাতা ও পুরাতন বই বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সকল বইখাতা ভ্যান গাড়িতে করে সকাল সাড়ে ৭ টার সময় শিক্ষক/শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের অগোচরে বের হয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক বই/খাতা চুরি হচ্ছে ভেবে বইখাতাসহ ভ্যান গাড়ি আটকে দেন। খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে চুরির মালামালের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা নাজনীন আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বইখাতা বিক্রির সত্যতা স্বীকার করে বিক্রিত টাকা শিক্ষকদের ট্রাস্টে জমা করার কথা বলে এড়িয়ে যান।

সহকারী প্রধান শিক্ষক এসএম তারেক সাইফুল ইসলামের (টুটুল) নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন শিক্ষক মিলে একটি সমিতি (ট্রাষ্ট) করেছি। স্কুলের পুরাতন খাতা ও পুরাতন বই অন্যান্য আসবাবপত্র বিক্রয় করি। বিক্রিত অর্থ সমিতির (ট্রাস্টের) ফান্ডে জমা হয়। আমাদের শিক্ষকদের একটি বাড়তি খরচ আছে ওই টাকা থেকে আমরা খরচ করি।

অনেক অভিভাবক এ সময় এ প্রতিবেদককে বলেন, রকমারি বই তালিকা করে ( বুকলিস্ট) বই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা লুফে নেন প্রধান শিক্ষক বলে জানা যায়।

অন্যান্য শিক্ষকদের নিকট জানতে চাইলে তারা ওই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান ও অনেক বিষয়ে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেনহাটি ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তাঁর নিকট এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনো স্কুলের কোন দায়িত্ব বুঝে পাইনি। আমি ওই বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে স্কুলের বই খাতা চুরি করে বিক্রি হচ্ছে এ সংবাদ আমি পেয়েছি।

পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোল্লা আকরাম হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি স্কুল কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষিকা ও তার সহযোগী কিছু দোষাররা এই ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে। বই,খাতা বা অন্যান্য মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানান না। এ ব্যাপারে আপনাদের প্রয়োজনীয় যা আছে সেই ব্যবস্থা আপনারা করেন।

এলাকার কিছু সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রধান শিক্ষিকা নাজনীন আক্তার ও তার স্বামী সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। কুরবানীর পশুর হাট থেকে আরম্ভ করে বিদ্যালয়ের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত এ প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি নানা প্রভাবশালীমহলের নাম ভাঙ্গিয়ে স্বামীর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষক/ শিক্ষিকা, অফিস সহকারী, গার্ড, কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, ভবন নির্মাণ ও গেট ও গেটে দোকান নির্মাণে অনিয়মসহ নানা অনিয়ম করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে বলে এলাকাবাসী জানান। কিছুদিন আগে টিউশন ফিস বাকি থাকায় ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার মত ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন এই প্রধান শিক্ষক। যা সামাজিক যোগাযোগ ও গণযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এ ব্যাপারে কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। প্রতিবাদ করলেই চাকুরীচ্যুতির ভয়, হুমকি-ধামকিসহ নানা ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে পড়বে থলের বিড়াল। বিদ্যালয়ের সভাপতি, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসীর দাবী দিঘলিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাধমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল উর্ধতনমহলের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে দুর্নীতি মুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।