• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

খিলগাঁও ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগ নেত্রীর গাঁজা ব্যবসা!


প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২২, ১১:০৩ অপরাহ্ন / ২৩৩
খিলগাঁও ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগ নেত্রীর গাঁজা ব্যবসা!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর খিলগাঁও ১ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগ নেত্রী রেখার বিরুদ্ধে মাদক ও গাঁজা ব্যবসার অভিযোগ বহু পুরানো। বিভিন্ন সময় পুলিশ অভিযান দিয়েও তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তাঁকে গ্রেফতার না করতে পারলেও বাসায় তল্লাশি করে গাঁজা উদ্ধার করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২১ শে এপ্রিল দক্ষিণ গোড়ান বাসা নং-৩৮৮ এর নিচতলায় রেখা ও তার সহযোগী রুমার বাসা থেকে প্রায় ৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি। তবে এ সংক্রান্ত মামলায় ২৫ কেজি গাঁজা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি।

সূত্রে জানা গেছে, রেখার বাসায় গোয়েন্দা পুলিশ তল্লাশি করে গাঁজা পেয়েছেন ৭০ কেজি। বাসায় তল্লাশি করার কিছুক্ষণ আগেই রেখা পালিয়ে যান। মুলতঃ এই মাদক ব্যবসায়ীর বাসায় পুলিশ যাওয়ার আগেই তথ্য পেয়ে যান। কেউ কেউ বলেছেন পুলিশের কিছু অসৎ কর্মকর্তা মাসোহারা নিয়ে তাঁকে এই ব্যবসায় সহায়তা করে আসছেন। দীর্ঘদিন এ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও রেখাকে গ্রেফতার করতে পারে নাই স্থানীয় থানা পুলিশ। থানা পুলিশকে মাসিক হিসেবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নিয়েছেন রেখা এমনটাই জানান এলাকাবাসী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপি, ঢাকার খিলগাঁও থানার মামলা নং-৫৮ (৪) ২০২২ এর এজাহারনামীয় গ্রেফতারকৃত আসামী জসিম উদ্দিনকে একদিনের রিমান্ডে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রেখা খিলগাঁও এলাকার গাঁজা ব্যবসার ডিলার বলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তাঁরা পেশাদার মাদকদ্রব্য গাঁজা ব্যবসায়ী বলেও জানান। রেখার বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকার সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম এর সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হাসান মুহাম্মদ মুহতারিম। মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান ও গ্রেফতার অব্যাহত থাকলেও থানা পুলিশ নিরব ভূমিকায়।

গত ২১ শে এপ্রিল অভিযানের সময় খিলগাঁও এলাকার দক্ষিণ গোড়ান বাগানবাড়ি রোডস্থ ২১৭/১ স্বপ্ন জুয়েলার্স দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয়ের জন্য একটি প্রাইভেট অবস্থান করেছেন মর্মে গোপান সংবাদে জানতে পারেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপির অভিযানকারী দল। এই সংবাদের সত্যতা যাচাইপুর্বক পেশাদার মাদকদ্রব্য গাঁজা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনকে একটি সাদা রংয়ের প্রিমিও প্রাইভেটকার থেকে ৫ কেজি গাঁজা সহ আটক করেন। একই গাড়ীতে থাকা মাদকদ্রব্য গাঁজা ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান পালিয়ে যান।

গ্রেফতারকৃত আসামী জসিম উদ্দিন অভিযান পরিচালনাকারী দলকে রেখা ও রুমা এই ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানান। তার তথ্যমতে ঘটনার দিন গোয়েন্দা পুলিশ রেখা ও রুমার বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। তবে এলাকার অনেকেই জানান, গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে ৭০ কেজি। গোয়েন্দা পুলিশ তা কমিয়ে ২৫ কেজি করেছেন এমন অভিযোগ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁরা জানান, রুমা দীর্ঘদিন যাবৎ এ ব্যবসা করেন। থানা পুলিশ জানা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করে না।

এ বিষয়ে জানতে রেখাকে তার ব্যবহৃত ০১৩১৬-**২৬** নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।