• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি-শশুর কর্তৃক পুত্রবধূ ধর্ষণসহ বাড়ছে অপরাধ 


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩, ১:৪৪ পূর্বাহ্ন / ২৩
কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি-শশুর কর্তৃক পুত্রবধূ ধর্ষণসহ বাড়ছে অপরাধ 

হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাস-খুন ও শশুর কর্তৃক পুত্রবধুকে ধর্ষণসহ বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড (ক্রাইম)। সূত্র জানায়, মাদক সন্ত্রাসী শক্তিশালী সিন্ডিকেটে মাধ্যমে নানারকম মাদকদ্রব্য অবাধে বিক্রি করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এসব মাদক সেবন করে জামগড়ার তাজিবুল মীর (৩১) এর মতো অনেক যুবকের অকালে মৃত্যু হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে যুবসমাজ। ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিলে মাদক সেবনকারীদের দিয়ে সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ড করাতে পারছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন আবাসন-১ এর মাঠের পাশে এক পুলিশ অফিসার ভাই মোঃ মোসলেম এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ লতিফ শেখ (৪৫) তার আপন ছেলের বৌ-নববধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেন ভিকটিম (১৭) এর বাবা। এই ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ১নং বিবাদী আসামির নাম লতিফ শেখ, পিতা-দিদার আলী, গ্রাম-সোনামরি, পোষ্ট-জাউয়াল, থানা-গোপালপুর, জেলা টাংগাইল, বর্তমান ঠিকানা,আমিনুরের বাড়ির ভাড়াটিয়া, জামগড়া রূপায়ন, আশুলিয়া ঢাকা। বিবাদীর বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, বিবাদী সম্পর্কে আমার মেয়ের শশুর, উক্ত বিবাদীর ছেলে, মোঃ আরিফ (২১) এর সহিত আমার মেয়ের গত ৪ মাস আগে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ে (১৭) কে নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় আমার মেয়ে জামাইসহ বাসা ভাড়া থাকিয়া আসিতেছিলো, আমার মেয়ে জামাই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাধে কারখানায় থাকায় ও আমার মেয়েবাসায় একা থাকার সুযোগে গত ২৮/০১/২০২৩ইং সকাল ১১টার দিকে আমার মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণ করে তার আপন শশুর।

এ ব্যাপারে আমার মেয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। আমি আমার মেয়ের ফোন পেয়ে বর্তমান ঠিকানায় আসিয়া মেয়ের মুখে সবকিছু শুনিয়া আইনের সহায়তা নেওয়ার কথা বলিলে বাড়িওয়ালা মোসলেম বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ের সাথে যে এমন ঘটনা করতে পারে তার শশুর এটা মেনে নিতে পারছিনা, এ ঘটনার আসামি লতিফ শেখকে ছাড়বো না, আইনে বিচার না হলে আমি আইন নিজে হাতে তুলে নিবো বলে কান্না করছিলো এই ভুক্তভোগী বাবা। উক্ত নববধূ ধর্ষণের বিষয়ে জানতে ভিকটিমের কাছে প্রশ্ন করলে সে স্বীকার করে বলেন, আমার ধর্ষণকারী শশুরের কঠিন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে না পারে এই খারাপ লোকটা।
এদিকে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন আবাসন-১ এর মাঠের পাশে পুলিশ অফিসার ভাইয়ের বাড়ির মালিকের দায়িত্বে থাকা মোঃ মোসলেম এর কাছে শশুর কর্তৃক নববধুকে ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা আছে বলে স্বীকার করেন এবং উক্ত ধর্ষণকারীকে পুলিশ বা র‌্যাবের কাছে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করবেন বলে জানান। অন্যদিকে আশুলিয়ার জামগড়া উত্তর মীর বাড়ির বাসিন্দা তাজিবুল মীর (৩১) কে মদ সেবন করানোর কারণে মৃত্যুর জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহত তাজিবুল মীরের বাবা ওয়াহিদ মীর। ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেননি বলে বাদীর অভিযোগ। উক্ত মামলা নং ৩৯/৩৯, তারিখ ১৮/০১/২০২৩।

ঢাকার আশুলিয়ায় ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানায় একাধিক মাদক মামলার আসামী মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগম (৪২) এর দাপটে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার শক্তিশালী মাদকের সিন্ডিকেট রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে, এরকম অনেক মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এদিকে মাদক ও দেহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী হালিম মৃধা’র বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। অনুসন্ধান করে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দড়িসয়া গ্রামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে হাতে নাতে গাঁজাসহ ফিরোজা বেগমকে আটকের পর দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। গাঁজা সেবন ও নিজ হেফাজতে গাঁজা সংরক্ষণ যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের ৩৬ (১) এর ২১ ধারা লঙ্ঘন ও দ-নীয় অপরাধ। এই ধারা মতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ (দই) বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামের আলী আকবরের স্ত্রী মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। এবারের গল্পটাই যেন ভিন্ন: স্বামী একজন রিক্সা চালক আর স্ত্রী বাসা বাড়িতে কাজের বোয়া থেকে এখন বিশাল প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের পরিচালনাকারী নারী ফিরোজা বেগম। তিনি এখন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামে ইটের দালানকোঠা তৈরি করে বাড়িতে চারসাইড দিয়ে লাগিয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এলাকাবাসীর দাবি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেখে তার বাড়িতে কারা কখন আসছে, প্রতিবেশি কেউ তার বাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করাসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। অনেকেরই প্রশ্ন: কি তার উপার্জন আর কি বা তার ব্যবসা? দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে উঠে আসে কে এই নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগম। জানা গেছে, একজন দিনমজুর আলী আকবরের অপ্রতিরোধ্য স্ত্রী ফিরোজা বেগম মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করেন, এরপর এখন ক্ষমতাধরের খাতায় নাম লিখেছে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকান্ডকে পুঁজি করে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের দড়িসয়া পাড়া গ্রামের একবেলা খেয়ে আর অন্যবেলা না খেয়ে অনাহরে অর্ধাহারে থাকা সেই দিনমজুর স্বামী আলী আকববসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফিরোজা বেগম কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মোশারফ ম্যানশন নামের একটি বাড়ির কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওই বাড়ির মালিকের বিশাল ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০বছর ধরে বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করে আসছে। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি এই মাদকের কারবার করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকাবাসী জানায়, ফিরোজা বেগমের মাদকের বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, দেশের সীমান্ত দিয়ে আসা বিদেশী মদ, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক তার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় চালান পাঠানো হয়। ২০১২ সালে সিরাজগঞ্জ, ২০১৭ সালে আশুলিয়া, ২০২১ইং সালে টাঙ্গাইলে মাদকসহ হাতে নাতে আটক হয় ফিরোজা বেগম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেকবার গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে তিনি ও তার দুই ছেলে কৌশলে বেড়িয়ে এসে ক্ষমতা ও টাকার দাপটে অবাধে চালাচ্ছে তাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড।
এলাকাবাসী-মাদককে না বলে পৃথক ভাবে একাধিকবার মাদক বিরোধী মিছিল ও মানববন্ধনসহ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। মাদক নির্মূলের দাবিতে সামাজিক ভাবে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা বন্ধের জন্য সামাজিক প্রতিরোধে এলাকার যুবসমাজকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে দড়িসয়া গ্রামের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুস সামাদ বলেন, পূর্বের ইতিহাস তারা আগে জামগড়ায় থাইকা কাম কাজ করছে। ১৫-১৬ বছর যাবতসেখানেই থাকতো তারা। তার দুই ছেলে বিভিন্ন মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে একাধিকবার, ফিরোজা বেগমও গাঁজাসহ আটক হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দুই বছরের সাজা দেন। তিনি আরও বলেন, এই ফিরোজা বেগমের পরিবারের লোকজন সবাই এখন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। শীতের মধ্যে মানুষ গরম পোশাক ও মুখোশ ব্যবহার করেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাদক বিক্রেতারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের জমজমাট কারবার করছে। কিছু মাদক সেবনকারী নির্বাচনে মিছিল মিটিং করাসহ বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে ব্যবহার করছেন প্রার্থী অনেকেই।

উক্ত বিষয়ে জানতে সরেজমিনে গিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া ও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামে মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগমের বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও তার সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গোপালপুর থানা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ এবং র‌্যাব জানায়, অপরাধী সে যেই হোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সচেতন মহলের প্রশ্ন কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাস ও খুনি, ধর্ষণকারীদের খুঁটির জোড় কোথায়?।