• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার এসআই আবুল হাশেমের হামলায় পরিবহন শ্রমিক আহত


প্রকাশের সময় : মার্চ ২২, ২০২৩, ৯:০২ অপরাহ্ন / ৬৪
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার এসআই আবুল হাশেমের হামলায় পরিবহন শ্রমিক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ চাঁদার টাকা না দেয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাচপুর হাইওয়ে থানার এসআই আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে একাধিক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২১মার্চ-২০২৩ তারিখে কাঁচপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন তিশা কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আহত পরিবহন শ্রমিক মানিক সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর আহতরা হলেন আবদুল্লাহ, সুজন ও রাব্বি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার এসআই আবুল হাশেম কাচপুর বাস স্ট্যান্ডে ফুটপাতের দোকান, বাস কাউন্টার ও বিভিন্ন পরিবহনের নিকট থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদা আদায় করে আসছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার উপর চালান অমানুষিক নির্যাতন। এছাড়া পরিবহনের বিভিন্ন শ্রমিক কর্মচারীদের বিভিন্ন সময়ে আটক করে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন।

কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার নামে চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে আদালতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে দেখা যায় এসব লোক জনের বেশিরভাগই নিরপরাধ। কেউ সাধারণ লোকজন, কেউ শিক্ষার্থী, কেউ পরিবহন শ্রমিক। এমন ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিশা কাউন্টারের সামনে থেকে শ্রাবণ পরিবহনের সুপারভাইজার মানিককে কলার ধরে আটক করেন এবং চাঁদা আদায়কারী উল্লেখ করে বেধড়ক পিটাতে থাকেন। এ সময় আরও তিন যুবককে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকেন। কিন্তু মানিককে অধিকতর পেটানোর কারণে তার পায়ে গুরুতর জখম হয় এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মানিককে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ মানিককের পায়ের ক্ষতস্থানে ৫টি সেলাই করেন। মানিক এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগী মানিক বলেন, আমি রাস্তার পাশে তিশা বাস কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকা এসআই আবুল হাশেম এসে আমাকে কলার পাকড়াও করে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি, তারপরেও আমাকে ছাড়ে না। আমার পায়ে ৫টি সেলাই করা হয়েছে। আমি শ্রাবণ পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করি। আমি কোন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই। আমাকে অযথাই এমনভাবে মারধর করেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর ন্যায়বিচার চাই।

ভুক্তভোগী আরেক যুবক আবদুল্লাহ বলেন, রাস্তায় ব্যাপক যানজট লাগলে আমি একটি পরিত্যক্ত লাঠি নিয়ে যানজট মুক্ত করতে থাকি।এ সময় এসআই আবুল হাশেম স্যার এসে আমাকে লাঠি দিয়ে এলোপাথারি পেটাতে থাকে এবং বলেন ”আমি কেন রাস্তার যানজটমুক্ত করতেছি”।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের কাচপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি জহুরা আক্তার শান্তা বলেন, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার এসআই আবুল হাশেম দীর্ঘদিন যাবৎ কাচপুর বাস স্ট্যান্ডে ফুটপাতের দোকানদার ও বিভিন্ন পরিবহনের কাছে থেকে ব্যাপক হারে চাঁদা আদায় করে আসছে। কিন্তু আমার কাউন্টার থেকে তাকে কোন চাঁদা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার শ্রমিকদের উপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করেছে। অনেক শ্রমিককে চাঁদাবাজির মামলায় আসামী করে আদালতে প্রেরণ করেছে। এ কারণে আমি চাঁদা দেয়া বন্ধ রেখেছি। এরই জের ধরে শ্রাবণ পরিবহনে শ্রমিক মানিককে তিশা কাউন্টারের সামনে থেকে ধরে নিয়ে অমানুষিক ভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

এব্যাপারে এসআই আবুল হাশেম বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি সম্পৃক্ত নই। আমার দ্বারা এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। শুনেছি কাউন্টারের দুই পক্ষ ধস্তাধস্তি করেছে। এই মহিলা আমার নাম কেন বলল জানিনা- বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।