• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

কর্ম জীবনে সর্বত্র মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম


প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৪, ৮:০৩ অপরাহ্ন / ২৭
কর্ম জীবনে সর্বত্র মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম

এম শিমুল খান, ঢাকাঃ মাত্র তিন বছরে কয়েক যুগের জঞ্জাল দূর করে একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা খুব সহজ কাজ ছিলো না। দীর্ঘদিনের সুবিধাভোগী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের রোষানল, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই মোঃ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিআরটিসির বর্তমান প্রশাসনকে তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

বর্তমানে বিআরটিসি ২০৮টি স্থানীয় রুটে এবং ৫টি আর্ন্তজাতিক রুটে বাস সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। যে কোনো সময়ের তুলনায় গত তিন বছরে বিআরটিসি’র কারিগরি সক্ষমতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারনে মাত্র ২ দিনের মধ্যে ছাদখোলা বাস তৈরি করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে বিআরটিসির সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছে এবং সর্বমহলে বিআরটিসি প্রশংসিত হয়েছে।

সারাদেশে বিআরটিসির ২২টি বাস ডিপো, ২টি ট্রাক ডিপো, ২টি যানবাহন মেরামত কারখানা, ৪টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও ২০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে আসছে।

গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪০টি ক্যাটাগরিতে ৯০৬ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন পদে ৬২৯ জনকে পদোন্নতি এবং ১০১৭ জনকে চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কল্যাণ তহবিল থেকে নিয়মিত অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষা বৃত্তিও প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও বিআরটিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, ছুটি নগদায়নের দায়-দেনার পরিমাণ ২০২১ সালের পূর্বে ছিলো ১০১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। যা ২০২১ সালের পর নিজস্ব আয় হতে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা দায়-দেনা পরিশোধ করা হয়েছে।

বর্তমানে বিআরটিসির সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় হতে প্রতি মাসের ১ তারিখে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর গ্র্যাচুইটি, সিপিএফ ও ছুটি নগদায়নের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। বিআরটিসি’তে প্রথমবারের মত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ২৬৮৭ জনকে ৪.১৪ কোটি টাকা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

বিআরটিসির মোহাম্মদপুর, নরসিংদী, গাবতলি, মিরপুর, বরিশালসহ কয়েকটি রুটের ড্রাইভারসহ কর্মচারীদের কাছে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে জানতে চাইলে অভিন্ন ভাবে তারা জানায়, বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম যোগদানের পর তারা খুব সাচ্ছন্দ্যে চাকুরী করছেন। গত তিন বছর ধরে প্রতি মাসের ১ তারিখেই বেতন পান তারা। আগে যেমন কবে বেতন পাওয়া যাবে সে চিন্তা থাকতো এখন আর তা ভাবতে হয় না। এ ছাড়া চাকুরী শেষে চাকুরী সুবিধা পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হতো আপাতত এ বিষয়েও তারা চিন্তা মুক্ত রয়েছেন।

বিআরটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উদাহরণ হচ্ছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইনহাউজ প্রশিক্ষণ, দক্ষ চালক ও কারিগর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিআরটিসি অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০২২-২৩ সময়কালে ২৬,০৪৭ জনকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রত্যেক ডিপো ও ইউনিটে অনলাইন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম মনিটরিং এর আওতায় আনা হয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, ওয়াই-ফাই সুবিধা, ই-টিকেটিং, ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ব্যবহারের মধ্য দিয়ে উন্নত পরিবহন সেবা দেয়া হচ্ছে।

বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে বিআরটিসি। উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ ধারা অভ্যহত থাকলে বিআরটিসিকে আর পিছনের দিকে ফিরে তাকাতে হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম বিআরটিসিতে যোগদানের পর বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়োগ কার্যটি স্বচ্ছতার সাথে হয়েছে বলেও সকলে স্বীকার করেছেন।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম ডিপো গুলোতে বছরের পর বছর চলতে থাকা অনিয়মগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম বিআরটিসিতে যে ধারা সৃষ্টি করেছেন এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে বিআরটিসি হবে একটি মজবুত অর্থনৈতিক ভীতের শক্তিশালী সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) গত তিন বছরে লোকসানী প্রতিষ্ঠানের বদনাম থেকে বের হয়ে এখন লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিকসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বিআরটিসির প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে সকল ডিপো কার্যালয় গুলো সুসজ্জিত করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাবে। এ সব কিছু সম্ভব হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কারনে। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি যোগদানের পর তিনি প্রতিষ্ঠানটি সাজিয়েছেন একটি সর্বাধুনিক মানের কর্পোরেট অফিসের আদলে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা দুটি বাস বিমান বন্দরের শাটল রুটে ব্যবহার করা হবে। বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী ভাইদের জন্য তা বিশেষ সুবিধা হিসেবে থাকবে। ৩০/৪০ জন যাত্রী একটি বাসে ভ্রমণ করতে পারবেন। যাত্রীদের লাগেজ রাখার জন্য বাসে সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, এ বাস দুটি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শাটলভাবে ঘুরতে থাকবে। বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে যাবে। খুব শিগগির মন্ত্রণালয় থেকে উদ্বোধনের দিন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে বিআরটিসির বহরে যাত্রীবাহী বাস রয়েছে এক হাজার ৩৫০টি। যা সুইডেন, জাপান, চীন, কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশ থেকে কেনা হয়েছে। এখন নতুন করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসে (সিএনজি) চালিত ৩৫০টি এবং ভারত থেকে ১০০টি বিদ্যুৎ চালিত বাস কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, চেসিস বানানোর সক্ষমতা এখনো আমাদের হয়নি। এই চেসিস বাদ দিয়ে পুরোপুরি একটি গাড়ি বানানোর শতভাগ সক্ষমতা বিআরটিসির রয়েছে। বিদেশ থেকে চেসিস এনে আমাদের নিজস্ব কারখানায় বাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে আমাদের বাস আমরাই উৎপাদন করতে চাই। ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। পুরনো মেশিনারিজ পরিবর্তন করে নতুন মেশিনারিজ সরঞ্জামযুক্ত কারখানার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এসব কারখানার কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে।বিআরটিসির নিজস্ব কারখানায়,নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে বাস তৈরির সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে প্রয়োজন দক্ষ একজন সংগঠকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিমওয়ার্ক, উদ্যোগ ও লক্ষ্য নির্ধারন। টিমওয়ার্ক, উদ্যোগ ও লক্ষ্য নির্ধারণ যতটা স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হবে সে প্রতিষ্ঠানটি তত দ্রুত কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষমতা অর্জন করবে। একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, যোগ্য সংগঠক যখন দেশাত্ববোধের জায়গা থেকে তার দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পাদন করতে থাকে তখন সে প্রতিষ্ঠানটি উন্নতির চূড়ায় পৌছাবে খুব স্বল্পতম সময়ে। আমি সে কাজটি করার চেষ্টা করেছি। এতে শতভাগ সফলতাও পেয়েছি।

বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম নিরলসভাবে টিমওয়ার্ক করে মাত্র তিন বছরে বিআরটিসির মতো একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠানকে সফলতার মুখ দেখিয়ে একটি আইকনিক দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন।

বিআরটিসি যে শুধু রাজস্ব আয় করে লাভের জায়গায় এসেছে এমন নয়। এ তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক সব গুলো প্যারামিটারে উচ্চতায় পৌছাতে স্বক্ষম হয়েছেন অবিশ্বাস্যভাবে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যন মোঃ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টিমওয়ার্কে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে প্রেষণে আসা কয়েকজন কর্মকর্তাও। সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও টীমওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারেরও ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে বহু গুন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সেবামূলক পরিবহন সংস্থা। মোঃ তাজুল ইসলাম বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসাবে যোগদানের সময় বিআরটিসি’র বহরে সচল বাসের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯০০টি এবং ট্রাক ছিলো প্রায় ৫০০টি। যোগদানের পর তিনি বিআরটিসির পড়ে থাকা অচল ৩১০টি গাড়ি মেরামত করে চলাচল উপযোগী করে তোলেন। এতে বহরে বাসের সংখ্যা দাড়ায় ১২১০-এ। ৫০টি গাড়িতে পরীক্ষন মূলক ভিডিও ক্যামেরা সংযোজন করেন।

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার পাশাপাশি নগর পরিবহন, পর্যটক বাস সার্ভিস, মহিলা বাস সার্ভিস, স্কুল বাস সার্ভিস, বাণিজ্য মেলা, মেট্রোরেল শাটল বাস সার্ভিস, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শাটল বাস সার্ভিস ইত্যাদি নানামুখী সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিআরটিসি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।