• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

এমপি মনুর হাতে মারধরের শিকার ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১, ৭:২৪ অপরাহ্ন / ৪৪৫
এমপি মনুর হাতে মারধরের শিকার ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ডেমরায় দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদককে মারধর করলেন এমপি মনু স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর ডেমরায় ডেমরা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খাঁনকে বিনা দোষে সংঘবদ্ধভাবে দিনদাহারে সাব-রেজিষ্টার অফিসে এসে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু চর থাপ্পর দেওয়াসহ নানাভাবে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আনোয়ার হোসেনের মাথায় তার অফিসে থাকা চেয়ার ও পানির গ্লাস ছুড়ে মারেন এমপি মনু। এছাড়া এ সাব-রেজিষ্টার অফিস থেকে তাদের চলে যাওয়ার জন্য নানা হুমকি ধমকিসহ প্রদিদিন রেজিষ্টার করা দলিল প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা চাঁদা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে ওই সাব-রেজিষ্টার অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সাব রেজিষ্টার অফিসের লোকজন চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন উপস্থিত দলিল লেখকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে এমপি মনুর শ্যালক রবিন ৫০/৬০ টি মোটরসাইকেল নিয়ে মনু সমর্থক শতাধিক লোকজনকেসহ এমপি ডেমরার বাঁশেরপুল এলাকায় ডেমরা সাব-রেজিষ্টার অফিসে আসেন।

এ সময় দ্রুত তিনি দলবল নিয়ে মল্লিকা ফেরদৌস টাওয়ারের দ্বোতলায় ডেমরা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির অফিসে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। পরে নিচে আনোয়ার হোসেনের অফিসে এসে তাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, হঠাৎ এমমি মহোদয় হঠাৎ করে আমার অফিসে এসে আমাকে মারধর করে নানা হুমকি ধমকি দেয়। এ সময় তিনি আমার চোখ তুলে ফেলবেন বলে আমার চোখেও আঙ্গুল দেন। উত্তেজিত কন্ঠে এমপি মহোদয় আমাকে বলেছেন-তুই আমাকে চিনিস, আমি যাত্রাবাড়ীর ছেলে। এখান থেকে তুই চলে যাবি যদি তোর ভাল চাস। আর রেজিষ্টার করা দলিল প্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিবি, অন্যথায় দলিলের রশিদ দেওয়া হবেনা। কেন তিনি এমন কাজ করছেন এ বিষয়ের প্রকৃত কারণ আমি জানিনা। আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, গত বছর আগস্টে আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্বের ন্যায় ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ডেমরা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন করি যা ৩ বছর মেয়াদি। এদিকে ঢাকা-৫ আসনের প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ইন্তেকালের পর গতবছর ১৭ ই আগস্ট এ আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। তারপর এ বছর মার্চ মাসে হঠাৎ করে এমপির পিএস জিয়ার নেতৃত্বে এমপির বাহিনী সাব-রেজিষ্টার অফিসে এসে আমাদের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নতুন করে এমপির স্ব-ঘোষিত অবৈধ কমিটির ঘোষণা দিয়ে সমিতির অফিস নিজেদের দখলে নেন। বর্তমানে সরকারি অনুমোদনকৃত আমাদের নির্বাচিত কমিটিকে তারা কোনঠাসা করে রেখেছেন। আর এমপির ঘোষণা করা অবৈধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটন ও সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন তাদের রাম রাজত্ব চালাচ্ছেন সাব-রেজিষ্টার অফিসে। বর্তমানে সাব-রেজিষ্টার সহ এ অফিস সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষ জিম্মি দশায় রয়েছেন। আমরা এখন এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে ডেমরা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ফাইজুল হক খাঁন বলেন, এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু মহোদয় কেন হঠাৎ এমন কাজ করলেন আমরা তা বুঝতে পারছিনা। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। নতুন কমিটি করাসহ সকল বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করলেই আমরা নতুনভাবে সব কর্মকান্ড করাসহ শান্তিপূর্ণ শুশৃঙ্খল সমাধানে আসতে পারতাম। এখন আমরা একটা আতঙ্কময় পরিস্থিতিতে রয়েছি। আমরা এখন কি করব তা বুঝতে পারছিনা। এ বিষয়ে ঢাকা-৫ আসনের এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর মোবাইল ফোনে ফোন করে তাকে পাওয়া না গেলেও তার পিএস জিয়া মোবাইল ফোনে জানান, এমপি মহোদয় সংসদে আছেন পরে কথা বলতে হবে।