• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

এবার ভটভটি নছিমন বৈধতা পাচ্ছে!


প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৩, ১:৩১ অপরাহ্ন / ৬৪
এবার ভটভটি নছিমন বৈধতা পাচ্ছে!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পরিবেশ দূষণ রোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জীবিকা রক্ষার যুক্তিতে সড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত নিষিদ্ধ যানবাহনকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে সরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, আলমসাধু ও ভটভটির মতো দেশীয়ভাবে তৈরি হওয়া যানবাহন। কারিগরি মানোন্নয়ন ও নতুন মডেল অনুমোদন শর্তে এলাকা ও সড়কভেদে এ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যক যানবাহন চলতে পারবে। খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন শেষে গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পর পুরো নীতিমালা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে দেশের সড়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষ। বাণিজ্যিক ভাবে চলাচলের জন্য পাঁচ শ্রেণির এসব যানবাহনের ইকোনমিক লাইফ ধরা হয়েছে ১০ থেকে ২০ বছর। খসড়া নীতিমালায় পাঁচ ধরনের যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল ১২ বছর, থ্রি হুইলার ১০ বছর, হালকা মোটরযান ২০ বছর, মধ্যম মোটরযান ২০ বছর, ভারী মোটরযান ২০ বছর লাইফ টাইমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন যানবাহন পরিচালিত হবে সড়ক আইন-২০১৮ অনুযায়ী। এক্ষেত্রে চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন বিধান রেখে ‘থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২১-এর খসড়া ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর ওপর অনলাইনে মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল। যদিও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওয়েবসাইটে কোনো মতামত জমা পড়েনি।নিষিদ্ধ যানবাহন অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হলে দ্রুত নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়। নতুন করে ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২১’-এর খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহনকে বৈধতা না দিয়ে অবিলম্বে উচ্ছেদ বা নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। এসব যানবাহন নিবন্ধন পেলে সড়কে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি যানজট ও জনজট বাড়বে। বাড়বে দুর্ঘটনা। তাই ঢাকাসহ সারা দেশে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে গণপরিবহন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, এসব যানবাহন রেখে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার চ্যালেঞ্জ বাড়বে।

কিন্তু নীতিমালায় বলা হচ্ছে, সম্প্রতি সরকার ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০২১’ প্রণয়ন করেছে। নীতিমালায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদিত মোটরযানের একটা বিরাট অংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী ইলেকট্রিক মোটরযানে রূপান্তরের বিষয়টি উল্লেখ আছে। এ ছাড়া সরকার পরিবহন খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ শর্তহীনভাবে হ্রাস করার অঙ্গীকার করেছে।মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অটোটেম্পোকে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিবন্ধন দিলেও নছিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটি, ইজিবাইক ও পাখি নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধ। এমনকি সরকারিভাবে ইজিবাইক আমদানি নিষিদ্ধ। তবে পার্টস আমদানি করে তৈরি করা এই যান এখন দেশে সয়লাব।

হাইকোর্ট শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিনে নির্মিত নছিমন, করিমন, আলমসাধু বন্ধে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২২টি জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশাসহ এসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ এসব যানবাহন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সহাসড়কে চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর তাগিদপত্র জারি করেছে। অন্যদিকে আবার এসব যানবাহন অনুমোদনও দেওয়া হচ্ছে! তাই বিআরটিএ পরিবহনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নীতিমালার সংজ্ঞায় ইলেকট্রিক মোটরযান সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক মোটরযান অর্থ এক বা একাধিক বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে চালিত মোটরযান, যানবাহন চালিকাশক্তি ওই মোটরযানে সংযুক্ত রিচার্জেবল ব্যাটারির সাহায্যে সরবরাহ করা হয়; কিন্তু ব্যাটারিচালিত বাইসাইকেল বা রিকশা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

নীতিমালার তৃতীয় অধ্যায়ের সাধারণ নির্দেশনার ১২ দশকি ৫-এ বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক মোটরযানে মূল বৈদ্যুতিক শক্তি সংরক্ষণের জন্য লিথিয়াম আয়ন অথবা অধিকতর উন্নত উচ্চতর দক্ষতাসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে। তবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত লেড এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমাল-২০২১’ অনুমোদন হওয়ার কথা জানিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার কালবেলাকে বলেন, নীতিমালা গেজেট প্রজ্ঞাপন আকারে ছাপানোর জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে সবকিছু কার্যকর করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ আলোকে এরই মধ্যে অল্প পরিসরে ইলেকট্রিক মোটরযানের অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়েছে। এখন এসব যানবাহনের চলাচল নীতিমালা করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশ হলে পুরো নীতিমালা কার্যকর করার কথা জানান তিনি।

এতে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এখন যেসব যানবাহন রাস্তায় দেখছে অনুমোদনের পর তা এরকম থাকবে না। একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সবকিছু নিয়ে আসা হবে। নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি কিনে রাস্তায় নামাতে হবে। ইচ্ছামতো যানবাহন চালানো যাবে না। ৪ মে বিআরটিএ ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, মে পর্যন্ত আগের নিয়ম অনুযায়ী ১৯ ধরনের যানবাহন অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ইলেকট্রিক যানবাহনের অনুমোদনের কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়ক নয়, জাতীয় মহাসড়কেও দাপিয়ে চলছে অবৈধ ছোট যানবাহন। ২০১৫ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এসব গাড়ি আমদানি বন্ধের প্রস্তাব উঠলেও কর্মসংস্থান রক্ষার যুক্তিতে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের বিরোধিতায় অনুমোদন পায়নি। ২০১১ সালে ইজিবাইক আমদানি বন্ধে সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও উৎপাদন ও আমদানি দুই-ই চলছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৫০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ এই ছোট যানবাহন। নীতিমালা প্রণয়নের সময় যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখ করে বলা হয়, মোট যানবাহনের মাত্র দেড় শতাংশ বাস ও মিনিবাস। যদিও বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ৫৭ লাখ ১০ হাজারের বেশি যানবাহন চলছে। এর বাইরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন অসংখ্য নছিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটি, ইজিবাইক, ব্যাটারির রিকশা চলছে। এসব গাড়ি কারিগরিভাবে সড়কের উপযোগী নয়। ব্রেক, স্টিয়ারিং ও সাসপেনশন কোনো কিছুই মানসম্মত নয়। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কে হতাহতের বড় অংশই এসব ছোট যানবাহনের যাত্রী; কিন্তু সাশ্রয়ী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল।

২০১৯ সালের জুনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি’ করে বিআরটিএ। পরবর্তী সময়ে ১২ সদস্যের এই কমিটি প্রতিবেদন দেয়। এরপর নীতিমালা প্রণয়নে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি হয়। বেসরকারি হিসাবে সারা দেশে অটোরিকশাসহ কমপক্ষে ৪০ লাখ নছিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটি, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা হয়েছে। তাই সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব যানবাহনকে অনুমতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্থানীয়ভাবে নির্ভরশীলতার কারণে বারবার চেষ্টা করেও এসব গাড়ি বন্ধ করা যায়নি। অবৈধ এসব গাড়িকে চলার সুযোগ করে দিয়ে বছরে হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। বৈধতা দিলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, সরকার রাজস্ব পাবে।

সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। বিধিমালা প্রকাশের পর উচ্চ আদালত যদি বলেন, কোন যানবাহন চলা সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে তা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে না। সড়কের নিরাপত্তার জন্য সাংঘর্ষিক তা জেনেও বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তারা বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালকদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষায় গাড়ির নকশাও অনুমোদিত হতে হবে। তবে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড. সামছুল হক কালবেলাকে বলেন, এসব যানবাহনকে বৈধতা দেওয়া আত্মঘাতী। অবৈধ অবস্থাতেই লাখে লাখে চলছে। বৈধতা পেলে আর সড়ক-মহাসড়কে ঠেকানো যাবে না। মানবিক কারণ দেখিয়ে বৈধতা দেওয়া অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। এতে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়বে। গতি কমবে। ফলে ব্যবসা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সামছুল হক বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কে প্রবেশ করবে। এসব যানবাহন নিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে এগোবে? ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। ফলে যে কর্মসংস্থানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে—এসব যানবাহন না থাকলে গতি বেড়ে আরও বেশি চাকরি তৈরি হবে।

সারা দেশে ইজিবাইকসহ নিষিদ্ধ যানের সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি উল্লেখ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, যেসব নিষিদ্ধ যানকে বিআরটিএ বৈধতা দেওয়ার চিন্তা করছে, তা সঠিক নয়। আমাদের ভাবনা ছিল এসব যানবাহনকে সরকার অবৈধ ঘোষণা করে মানসম্মত বাসসহ অন্য গণপরিবহন নামাবে। নিষিদ্ধ যানবাহন বৈধতা দেওয়া হলে, সড়ক নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়বে। যানজট ও জনজট দীর্ঘায়িত হবে বলেও মনে করেন তিনি। নীতিমালায় আট ধারায় বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক মোটরযান রুট পারমিটের ক্ষেত্রে অন্যান্য পরিবহনের ন্যায় ২০১৮ এবং রুট পারমিট সংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। রুট পারমিট প্রদানের ক্ষেত্রে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি-আরটিসি/সংশ্লিষ্ট রুট পারমিট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইলেকট্রিক মোটরযানের ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা (একবার চার্জে সর্বোচ্চ কিলোমিটার চলাচলের সক্ষমতা), চার্জিং অবকাঠামোগত সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনা করতে হবে।

নীতিমালার সাধারণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে অবশ্যই তা নতুন হতে হবে। তবে ভবিষ্যতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক মোটরযান আমদানি করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব মোটরযানের চার্জিং চাহিদার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক চার্জিং স্টেশন স্থাপনের ব্যবস্থা করবে।