• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন

এবার বন্ধের পথে লাইফগার্ডের সেবা : ঝুঁকি বাড়বে পর্যটকদের


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০২১, ৩:১৪ অপরাহ্ন / ১৭৩
এবার বন্ধের পথে লাইফগার্ডের সেবা : ঝুঁকি বাড়বে পর্যটকদের

ঢাকা : সমুদ্র সৈকতে পর্যটক নামলে নিরাপত্তায় থাকেন দুই শিফটে ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মী। তেমন কোনো ইকুইপমেন্ট না থাকলেও নিজেদের জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে পর্যটক উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাইফগার্ডের সদস্যরা। এবার আর্থিক সংকটে তাদের কার্যক্রম বন্ধের পথে।

জানা গেছে, মোনাকো ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থার অর্থায়নে সাত বছর ধরে নিজেদের কার্যক্রম ও বেতন ভাতা পাচ্ছিল লাইফগার্ড কর্মীরা। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে তাদের চুক্তির মেয়াদ। তারা এখন লাইফগার্ডের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে চায় না। যার ফলে বন্ধের পথে রয়েছে পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত এ সংস্থাটি।

সি-সেফ লাইফগার্ড সূত্রে জানা যায়, মোনাকো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছিল ‘সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। যাদের নানা উদ্যোগে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ‘সি-সেফ’ লাইফগার্ড। প্রথমে ২৫ জন কর্মী থাকলেও তারপর আরও দুইজন সদস্য নেওয়া হয়। যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমুদ্রে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত করেছিল সংস্থাটি। এরপর থেকে সমুদ্র সৈকতে গোসলের সময় জোয়ার-ভাটার পানিতে তলিয়ে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করে আসছিল লাইফগার্ড কর্মীরা। মাত্র ৯টি স্কি টিউব এবং একটি রেসকিউ বোট দিয়ে বছরে ১৫ লাখ পর্যটককে ঝুঁকিমুক্ত রাখলেও নিজেদের চাকরির মেয়াদ বাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাদের।

এ অবস্থায় সরকারের তত্ত্বাবধানে লাইফগার্ড ইউনিটটিকে অর্থায়ন করে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিমুখ হয়ে পড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের মুখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল পর্যটন মৌসুম। কিন্ত পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন সারা বছর মানুষ ছুটে আসছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। এমন অবস্থায় যদি লাইফগার্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সৈকতে মৃত্যুর মিছিল শুরু হবে। কারণ লাইফগার্ড ছাড়া উদ্ধার ক্ষমতা আর কারও নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা যদি সৈকত থেকে উঠে পড়ে তাহলে পর্যটকরা সমুদ্র বিমুখ হবে। আর পর্যটক না আসলে লোকসান সরকারের বা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। এখন বিষয়টির সমাধান তাদেরই করতে হবে।

এদিকে প্রতি বছর সংস্থাটির ২৭ জন সদস্য ও পর্যটকদের উদ্ধার কাজে ব্যয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো। যা অর্থায়ন করত মোনাকো ফাউন্ডেশন। মূলত তারা চেয়েছিল লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠে ছেড়ে দিতে। হয়তো একটা সময় সরকার তাদের নিয়ে ভাববে। দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষার পরও সংস্থাটি সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেনি। এক প্রকার বাধ্য হয়েই ডিসেম্বরেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নয় সংস্থাটি। তবে যদি কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা সহযোগিতার হাত বাড়ায় তখন তারা লাইফগার্ড নিয়ে পুনরায় চিন্তা করবেন।

‘সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) সি-সেফ প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক মো. শফকাত হোসেন বলেন, অর্থ শেষ হয়েছে আগেই। মূলত ডিসেম্বরটা কোনোভাবে যাবে। আমরা বেসরকারি অর্থায়নের জন্য প্রতিষ্ঠান খুঁজছি। যদি পাওয়া না যায় তাহলে বন্ধই করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তার কাছ থেকে কোনো ফান্ড পাচ্ছি না আমরা। তবে তিনি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। নতুন কোনো সংস্থার অর্থায়নে নির্ভর করবে ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মীর ভাগ্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা।