• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

একমাত্র লোভই কাল হলো আওয়ামী লীগ নেতা বিমলের


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ৪:২৪ অপরাহ্ন / ৪৫০
একমাত্র লোভই কাল হলো আওয়ামী লীগ নেতা বিমলের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাবু বিমল চন্দ্র সাহা। শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে এসে শুরু করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। জমি দখল, সালিশ ব্যবসা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রতারণা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনাকে নিয়মিত কারবার বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কোনভাবেই থামানো যাচ্ছিল না তাকে। অতিস্ট হয়ে পড়েছিলেন এলাকাবাসীও। সবাই ভেবেছিলেন তাকে থামানোর উপায় নেই!

তবে অবশেষে থেমেছে তার দৈারাত্ব। জমি দখলের অভিযোগে দুই বছর আদালতকে তোয়াক্কা না করার পর গত সোমবার জামিন নিতে গিয়ে শ্রীঘরে ঢুকতে হয়েছে তাকে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। বাবু বিমল চন্দ্র সাহা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ বারের সাধারণ সম্পাদক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহারের আগে তার কোন পরিচয় ছিলো না। বাড়িতে ছিলো একটি মাত্র কাঠের ঘর। তবে দলে পদ পেয়ে দিন বদলে যায় তার। কোনদিন কোন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিও হতে পারেননি। তবে অনৈতিক উপায়ে হাতিয়েছেন বহু সম্পত্তি। এভাবে ভারতেও করেছেন বাড়ি। এক মাত্র ছেলে বিপ্রকেও যুক্ত করেছেন মাদক ব্যবসায়। অবৈধ সম্পদ মেয়েকে দিয়ে পাচার করছেন আমেরিকায়।

স্থানীয়রা জানান, বিমলের মূল ব্যবসা ছিলো অহেতুক মামলায় এলাকার সব বয়সী ছেলেদের ফাঁসিয়ে দেওয়া। পরে তাদের পরিবারকে ডেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়ানো। গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব বাহিনী। তাদেরকে দিয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। এভাবে ব্যাকমেইল করে উঠতি নেতাদের হাতে রাখতেন বিমল। বিচারের নামে পক্ষপাতিত্ব ও মন্দিরের নামে মহাসড়কের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর জেরে কয়েক বছর আগে স্থানীয় কয়েকজনের সংঘর্ষ বাধে।

অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল আলম চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নাম ব্যবহার করে এসব প্রভাব বিস্তার করেন বিমল।

জানা যায়, নিজস্ব বাহিনী দিয়ে নদীর চর দখল করানো, সরকারি জমি দখল করানো ছিল বিমলের নিয়মিত কাজ। সম্প্রতি নিয়ামতি বাজারে একটি জমি দখল করে ঘর ভেঙ্গে দেয় সে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও দুই বছর ধরে আদালতকে তোয়াক্কা করেননি তিনি। তবে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে মামলামুক্ত হতে আদালতে গেলে ১৩ সঙ্গীসহ গ্রেফতার হন তিনি।

বিমলের সঙ্গে আটককৃতরা হলেন— মৃত আঃ হামিদ মৃধার ছেলে ইউপি মেম্বার আলমগীর মৃধা (৪৫), মৃত শাশ্বানাথ স্বাহার ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিমল স্বাহা (৬০), মৃত দেনছের খানের ছেলে মো. বাসার খান (৩৫), মৃত আঃ মন্নানের ছেলে মো. বিল্লাল মৃধা (৪০), মৃত আঃ হামিদ মৃধার ছেলে মো. বাবুল মৃধা (২৫), মৃত মোতাহার মৃধার ছেলে মো. মহারাজ মৃধা (৩৫), মৃত আনছার হাওলাদারের ছেলে মো. মন্টু হাওলাদার (৫০), মৃত খবির শিকদারের ছেলে খলিল শিকদার (৫০), মালেক শিকদারের ছেলে মো. মেহেদী শিকদার (৩৫), রঞ্জন স্বাহার ছেলে শ্যামল স্বাহা (৪২), মৃত গৌরাঙ্গের ছেলে বিমল ওরফে কালাচাঁন (৪৫), ইউনুস মৃধার ছেলে বাবুল মৃধা (৩২), মন্টু হাওলাদারের ছেলে হাসান হাওলাদার (২৮), রফিকুল ইসলাম খানের ছেলে শুক্কুর (১৮), আইয়াল শিকদারের ছেলে হেলাল শিকদার (৪২)।

মামলার বাদী মো. শাহজাহান মৃধা বলেন, আমি ১৭ বছর ধরে আমার জমিতে বাড়ি করে বাস করছিলাম। ২০২০ সালের ৭ নভেম্বর বিমল চন্দ্র সাহাসহ কয়েকজন আমার কাছে চাঁদা দাবি করলে আমি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এর জেরে তারা আমার বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে। অবশেষে তাদেরকে আটক করা হল। গত সোমবার বরিশালের বিজ্ঞ আদালত বিমল চন্দ্র সাহাকে কারাগার প্রেরণের নির্দেশ দেন।