• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

উন্নয়নের ট্যাবলেট খাইতে খাইতে এখন শ্রীলঙ্কা ভূমি কইরা দিছে——মির্জা আব্বাস


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২২, ৬:১২ অপরাহ্ন / ৬৮
উন্নয়নের ট্যাবলেট খাইতে খাইতে এখন শ্রীলঙ্কা ভূমি কইরা দিছে——মির্জা আব্বাস

মোঃ রাসেল সরকারঃ দেশের জনগণকে উন্নয়নের ট্যাবলেট আর বেশি দিন খাওয়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। সোমবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সেমিনার কক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ও শাহবাগ থানার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে সরকার উন্নয়নের ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছে। বিদ্যুতে লোডশেডিং করবেন আর উন্নয়নের কথা বলবেন। উন্নয়নের ট্যাবলেট বেশি দিন খাওয়ানো যাবে না। উন্নয়নের ট্যাবলেট খাইতে খাইতে এখন শ্রীলঙ্কা ভূমি কইরা দিছে, শ্রীলঙ্কা কিন্তু এখন উন্নয়নের ট্যাবলেট খায় না। সেখানে খালি উন্নয়ন বলতে বলতে সব শেষ করে দিয়ে এখন চাকরি-বাকরি গোল কইরা দেশের রাষ্ট্রপতি ভাইগা চইলা গেছে সিঙ্গাপুরে। আপনাদের যাওয়ার জায়গা আছে অবশ্য। ঠিকানা বলতে হবে না, আপনার ঠিকানা আগেই করা আছে।

তিনি বলেন, সরকার ঘোষণা দিয়েছে আগামী মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। ওইদিন বললেন যে, জনগণের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। কুইক রেন্টাল দিয়ে আপনারা বিদ্যুৎ দিয়েছেন, বিদ্যুতের আর অভাব নেই। এখন আবার বলছেন উল্টো কথা- লোডশেডিং করতে হবে। তাহলে এত টাকা দিয়ে কুইক রেন্টাল কেন করলেন?

যে কারণে বিদ্যুৎ নেই। যারা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক তারা কিন্তু বসে বসে টাকাটা পাবেন, বিদ্যুৎ থাকুক বা না থাকুক, বসে বসেই টাকা পাবে। এখন আমাদের প্রশ্ন তাহলে এত টাকা নিয়ে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট কেন করা হলো? এত টাকা নিয়ে পরিবেশ নষ্ট করে কেন সুন্দরবনের রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে?

সিইসির বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়ে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আজকের পত্রিকায় দেখলাম একটি খবর- ‘তলোয়ার নিয়ে আসলে রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে’। এ যে নির্বোধ ব্যক্তি (কাজী হাবিবুল আউয়াল)। আগে তো ছিল ছাগল নুরুল হুদা (কে এম নুরুল হুদা), এটা একটা পাডা, এনার (কাজী হাবিবুল আউয়াল) কোনো বুদ্ধিসুদ্ধি নেই। তলোয়ার-রাইফেল। আরে ভাই, তলোয়ার তো অনেক আগে চলে গেছে, সেই অটোম্যান সামাজ্যের পরে তো আর তলোয়ার আসেনি। আপনি তলোয়ার কোত্থেকে আবিষ্কার করলেন? তলোয়ার আনবে কে? রাইফেল আনবে কে? এটা উনাকে ঠিক করতে হবে? উনি কী রেফারির ভূমিকা পালন করতে পারবেন? সেটাও তো পারবেন না। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট- এ নির্বাচন কমিশন, এ ফালতু নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বাহারকে ভোটের সময়ে এলাকা থেকে বের করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যর্থতার সমালোচনাও করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, এ সরকারের অধীনে যদি বিদেশ থেকে তৈরি করা নির্বাচন কমিশন নিয়ে আসা হয় তবুও এ সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন হবে না। এখানে পুলিশ প্রশাসন, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেখানে দলীয়করণ করা হয়েছে সেখানে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। সংসদ ভাঙতে হবে, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে গঠন করতে হবে। তারপরে নির্বাচন হবে।

আন্দোলনের সময় আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী জাতিকে বিভক্ত করে দেশের উন্নয়ন করছেন। এমন উন্নয়ন করছেন যে আমরা আজকে ছোট্ট একটা জায়গায় মিটিং করছি। আমাদের বাইরে মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আজকে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানের সঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, আমরা কিন্তু সামনের দিনগুলোত ঘর থেকে মিছিল নিয়ে রাস্তায় যাবো। সমস্ত মিছিল যে কোনো একটা চৌরাস্তায় গিয়ে আমরা মিলিত হবো। এ মিছিল রমনা থেকে বের হবে, শাহবাগ থেকে বের হবে, শাহজাহানপুর থেকে বের হবে, ফরিকরাপুল থেকে বের হবে, মতিঝিল থেকে বের হবে,মুগদা থেকে বের হবে। সব একসঙ্গে আমরা ওই বঙ্গভবন কিংবা সরকারের সচিবালয় ঘেরাও করবো- মনে রাইখেন। সময় আসতেছে, গুলি করবে? অনেক গুলি কিনেছেন বিদেশ থেকে। ওই যে একটা বিমান ক্রাশ হলো, আমি খুব দুঃখের সঙ্গে বলছি অস্ত্রসহ একটা প্লেন ক্র্যাশ হলো। এ অস্ত্র কার জন্য ওরা আনতে গিয়েছিল? এ বিষয়ে একটা পরিষ্কার ব্যাখ্যা আমরা চাই।

মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও এমএ হান্নানের পরিচালনায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম,সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু,যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা ও মোশাররফ হোসেন খোকন বক্তব্য দেন।