• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

ঈদগাঁও’তে ষোল মাসে ষোল হত্যাকান্ডঃ ধর্ষণ,গরু লুট, ছিনতাই, ক্রমশ বাড়ছে ভূমি বিরোধ !


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২২, ৩:৩৯ অপরাহ্ন / ২৪১
ঈদগাঁও’তে ষোল মাসে ষোল হত্যাকান্ডঃ ধর্ষণ,গরু লুট, ছিনতাই, ক্রমশ বাড়ছে ভূমি বিরোধ !

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর, পোকখালী, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, ঈদগাঁও ইউনিয়নে ক্রমশ বাড়ছে হত্যাকান্ড। বিগত ১৬ মাসে ১৬ টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ঈদগাঁও উপজেলায়। গরু লুটের ঘটনা ঘটেছে ৩৬ টি, গণধর্ষণ, রহস্যজনক মৃত্যু, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, পতিতা বৃত্তি, বাইক,অটোরিকশা, টমটম, ইজিবাইকের ব্যাটারি ডাকাতি- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন,প্রতারক চক্র, মলম পার্টির দৌরাত্ম, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ, ছুরিকাঘাত, হামলা, মারামারির ঘটনা ঘটেছে শতের অধিক।এসব ঘটনায় বিগত ১ বছরে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে ৯১টি। আলাদা থানা হওয়ার পূর্বেকার ৪ মাসের ঘটনায় সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছিল ৭ টি। এসব ঘটনায় জড়িত গুটি কয়েক আসামিকে ধরতে পারলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিরা। প্রতিটি ঘটনায় স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলেছে নিয়মিত। প্রকাশ্যে দিবালোকে ছুরিকাঘাত, ছিনতাই, চুরি, হত্যা চেষ্টা,সংঘর্ষ, অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার, ইয়াবা ছিনতাই, জমি বিরোধে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে এখানকার দেড় লক্ষাধিক জনগণ। এদিকে গরু লুটের ঘটনায় ব্যাপক ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে স্থানীয় পুলিশ।

প্রাপ্ত তথ্য, অনুসন্ধান ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, বিগত ২০ সালের গণবদলীর সময়ে সেপ্টেম্বরে তৎকালীন ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রে যোগদান করেন একজন পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা। যোগদানের পর থেকে শুরু হয় একের পর এক হত্যাকান্ড, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ,ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ম, চুরি, সংঘর্ষ, ভূমি বিরোধ, অস্ত্রের ব্যবহার, গরু লুটের ঘটনা। সব-কটি ঘটনায় মামলা, অভিযোগ, জিডি হলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে জানান কয়েকজন বাদী। চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। এমন অভিযোগ বাদীদের। যদিওবা পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে কেউ কেউ। গত ১৬ মাসে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তৎমধ্যে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে ৮ টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা ছিল ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কে তরুণ কণ্ঠ শিল্পী জনি দে রাজ, মোহাম্মদ কালু, ইসলামাবাদে মা রাশেদা বেগম, মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস, ইসলামপুরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স নাছির উদ্দীন দুলাল, ইসলামাবাদে দিনমজুর নুরুল আলম, জৈবর মুল্লুক এবং সবচেয়ে লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ছিল ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর মাইজ পাড়া এলাকায় শাশুড় বাড়ির লোকজনের উপর্যপুরী হামলায় নিহত হয়েছিল প্রবাস মনজুর আলম। এছাড়া হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ইসলামপুর ইউনিয়নের পূর্ব নাপিত খালী দুদু মিয়ার ঘোনা নামক এলাকায় স্বামী মোহাম্মদ হাসানের হাতে নিহত হন স্ত্রী সীমা আক্তার (২০), পশ্চিম পোকখালীর আবদুল জব্বারের স্ত্রী রাশেদা আক্তার, ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদী থেকে নিখোঁজের তিনদিন পর বৃদ্ধা নারী ফাতেমা বেগমের লাশ উদ্ধার, ঈদগাঁও ইউনিয়নের লাল শরিয়া পাড়ার রেল লাইন প্রকল্পের ব্রীজের নিচ থেকে শামশুল আলমের লাশ উদ্ধার, ঈদগাঁও ভোমরিয়া ঘোনা এলাকার গণধর্ষণের শিকার নারী শাবনুর আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পোকখালী ইউনিয়নের উত্তর গোমাতলী থেকে জেলে আবদুর রহিমের রক্তাক্ত লাশ,সর্বশেষ ইসলামপুর ইউনিয়নের কৈলাশ ঘোনা নামক এলাকা থেকে মা জিসান আক্তার ও দুই কন্যা শিশু সাইফা, জেরিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক-গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কিত বাদীরা। এছাড়া পোকখালী, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, জালালাবাদ, ঈদগাঁও ইউনিয়ন থেকে গরু মহিষ লুটের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৩৬ টি। এ ঘটনায়ও কোনো রাঘববোয়াল গরু লুটকারীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। অটোরিকশা, টমটম, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে ৩০ টির বেশি। দোকান, চুরি, ডাকাতি, মারামারির ঘটনা ঘটেছে ৫০ টির মতো। গণধর্ষণ, বলৎকারসহ নানান অপরাধ
ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় মামলা হয়েছে ৯১ টি৷ মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে
নিশ্চিত করেছে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল হালিম। তিনি আরো জানিয়েছেন, তার সাধ্য মতো অন্যান্য অফিসার ফোর্সদের নিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত অভিযানে ধৃত হচ্ছে আসামিরা।
এদিকে নতুন উপজেলা, থানা হিসেবে সরকারি ভাবে অনুমোদন হওয়ায় হঠাৎ করে এতদাঞ্চলের জায়গা জমির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমি বিশেষজ্ঞ চিহ্নিত দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে বিরোধীয় জমি দখল করতে গিয়ে ঘটছে হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা। ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় তৈরী অস্ত্র, আহত হচ্ছে অনেকেই, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে কারো কারো। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রতিনিধিরা কোনো সালিশ বিচার না করার ফলে এলাকায় এলাকায় এসব ঘটনা গুলো নিয়মিত ঘটে চলছে বলে জানান স্থানীয় সচেতন সমাজ। তাছাড়া পুলিশের নিরব ভূমিকা, রহস্যজনক আচরণ, কারো পরামর্শকে কর্ণপাত না করা,জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, চৌকিদার, সমাজপ্রতি, সর্দার, মাতবর,শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ইমাম, পৌরোহিতদের সাথে সমন্বয় না থাকার কারণে দিনদিন আইনশৃংখলা পরিস্থতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে জানান মোহাম্মদ মোরশেদ নামের এক ব্যবসায়ী।ঈদগাঁওয়ের আমজনতার দাবি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী, কিশোর গ্যাং দলের সদস্য, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্র ব্যবহারী দূর্বৃত্ত, গরু লুটকারী চক্রের সদস্য,অপহরণকারী, ধর্ষক, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নয় তো প্রতিমুহূর্তে ঈদগাঁও উপজেলার আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হবে।