• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

আসছে ঘূর্ণিঝড় মোচা : দুশ্চিন্তায় উপকূলবাসী


প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৩, ২:৩৯ অপরাহ্ন / ৪৮
আসছে ঘূর্ণিঝড় মোচা : দুশ্চিন্তায় উপকূলবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলবাসী ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও সিত্রাংয়ের ক্ষয়-ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোচা’র বার্তা রীতিমত দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে তাদের। স্থানীয়রা জানান, শ্যামনগর উপকূলজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চললেও বেশ কিছু স্থান এখনো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আবার অনেক স্থানে দায়সারা ভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট প্লাবন মোকাবিলার সক্ষমতা রাখে না। পাউবোর দাবি, শ্যামনগর বেল্টের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কাশিমাড়ীসহ অন্যান্য ইউপির ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। পদ্মপুকুর ইউপির পাতাখালি এলাকার বাইজিদ হোসেন বলেন, আমাদের ইউপির বেশ কিছু জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কাজ চলছে। একই ইউপির ঝাপা এলাকার দেবনাথ কুমার বলেন, কিছু দিন আগে ঝাপা হাইস্কুল থেকে খেয়াঘাট অভিমুখে ৩ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ করেছে। তবে এসব বাঁধ উচ্চ-জোয়ারে টিকবে না। কাজ করা হয়েছে নাম মাত্র।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান, বর্তমানে বুড়িগোয়ালিনীর দুর্গাবাটিতে দুই জায়গায় ও দাতিনাখালীসহ মোট তিনটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ইউপির বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ জানান, হরিনগর খাদ্য গুদাম সংলগ্ন মৌখালী নদীর ধারেসহ ৪টি স্থান খুবই ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো অবিলম্বে সংস্কার করা দরকার।

গাবুরা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম বলেন, হরিষখালী, পার্শেমারী টেকেরহাট, গাবুরা, চকবারা, লেবুবুনিয়াসহ ৫টি স্থানে বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে আছে।

কাশীমাড়ি ইউপির বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ঝাপালী বাজার থেকে ঘোলা খেয়াঘাট অভিমুখে বেড়িবাঁধের ৩টি স্থান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু বলেন, আটুলিয়া ইউনিয়নে তিনটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বিড়ালক্ষীতে দুইটি ও বড় কুপটের একটি জায়গা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় মোচা আঘাত হানলে এসব জায়গার বাঁধ টিকবে কি না তা নিয়ে শংকা রয়েছে।

শ্যামনগরে কর্মরত পাউবোর এসও সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শ্যামনগরে পাউবোর বেড়িবাঁধের অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। বাকীগুলোর কাজ চলছে।

ঘূর্ণিঝড় মোচা নিয়ে শ্যামনগর প্রকল্প বান্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদেরকে সজাগ থাকার জন্য বলা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আক্তার হোসেন বলেন, এরইমধ্যে প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সিপিপি টিম লিডারদের সঙ্গে কথা বলেছি। উপজেলার ১০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোচার ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সতর্কমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছে। উপকূলে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে বলা হয়েছে।