• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

আশুলিয়ায় রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে : ক্ষোভ এলাকাবাসীর


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৫, ২০২৩, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন / ২৪
আশুলিয়ায় রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে : ক্ষোভ এলাকাবাসীর

মো.মাইনুল ইসলাম সাভারঃ সাভার উপজেলার আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন মন্ডল একজন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও আশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও আশুলিয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইউপি মেম্বার কল্যান এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আশুলিয়া পাড়াগ্রাম ৮ নং ওয়ার্ড তথা পুরো আশুলিয়া সাভার সর্বোত্র তার রয়েছে জনপ্রিয়তা। একজন জনপ্রিয় স্বনামধন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখল ও মারধরের এমনই অভিযোগ করেছেন,
বিরুলিয়ার দেউনের নারায়ন মন্ডল তার অভিযোগে বলেন, আমাদের হিন্দুদের মধ্যে মায়ের সম্পত্তি মেয়েরা ওয়ারিশ হয়ে থাকেন। আমার নানী মারা যাওয়ার পরে আমার মা শোভারানী ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হওয়ার কথা। আমার মামারা মা শোভারানীকে তার ওয়ারিশ বুঝাইয়া না দিয়ে উল্টো আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিন মন্ডলকে নিয়ে আমাদের মারধর করে বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়ে পুরো জমি তাদের দখলে নিয়ে যায়। নারায়ণ মন্ডলের এরকম অভিযোগের ভিত্তিতে এ প্রতিনিধি নারায়ণ মন্ডলকে প্রশ্ন করেন, এতে রুহুল আমিন মন্ডলের স্বার্থ কি?এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রুহুল আমিন মন্ডলের অবশ্যই স্বার্থ আছে তা না হলে আমার মামাদের টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করছেন কেন? এবং আমরা মামাদের নামে যে মামলা দিয়েছি সেই মামলার খরচ চালাচ্ছে এবং প্রকাশ্যে তাদের মদদ দিচ্ছেন। এতে রুহুল আমিন মন্ডলের লাভ কি? জবাবে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রুহুল আমিন মন্ডলের লাভ আছে আমার মামাদের সাথে একত্রিত হয়ে আমাদেরকে উচ্ছেদ করে বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়েছে এবং জমিটা তাদের দখলে নিতে পারলে নিশ্চয় রুহুল আমিন মন্ডলের লাভ আছে বিধায় সে আমাদেরকে মারধর করেছেন। আমরা সাভার মডেল থানায় মামলাও করেছি এখনো মামলা চলমান অবস্থায় আছে। তাতে কি রুহুল আমিন মন্ডল দোষী সাব্যস্ত হয়েছে? জবাবে নারায়ণ মন্ডল বলেন, পুলিশ এসেছিল তদন্ত হয়েছিল কিন্তু পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন তাই তার নাম চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছেন। আমাদের তথ্য অনুযায়ী নারায়ণ মন্ডলের কথার সাথে ও আমাদের কাছে যে সমস্ত কাগজ পত্র দিয়েছেন তার সাথে কোন প্রকার মিল পাওয়া যায়নি। নারায়ণ মন্ডলের কথা এলোমেলো ও অবান্তর বলে মনে হলো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণ মন্ডল একজন মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছে তা না হলে দেউনের জায়গা নিয়ে ওর মামাদের সঙ্গে যে ঝামেলা করছেন নারায়ন মন্ডল সে জমির ওয়ারিশ না, শুধুই ঝামেলা করছেন। ওয়ারিশ হলো নারায়ণ মন্ডলের মামারা। এই সম্পত্তি নিয়ে নারায়ণ মন্ডল এবং তার ভাই বহুদিন ধরে ঝামেলা করছে এবং তাদেরকে মারধর করে বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তৎকালীন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ভূমি অফিসের কর্মকর্তাগণ এদেরকে নিয়ে বহুবার কাগজ পত্র দেখে সবাই বলে দিয়েছেন নারায়ণ মন্ডল এবং তার দুই ভাই এই জায়গায় মালিক না। নারায়ণ মন্ডল সকলের সামনে মেনে নিয়ে আপোসে তাদের বাড়িঘর স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিয়েছে এবং তার মামারা বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে নারায়ণ মন্ডলের তিন ভাইকে পাঁচ লক্ষ টাকাও দিয়েছেন। প্রথমে তারা টাকা নেননি, পরবর্তী সময় অন্যের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা সাক্ষীদের সম্মুখে নিয়েছেন। এলাকাবাসী আরো বলেন, আমরা তো এখানে ঝামেলা দেখছি না। নারায়ণ মন্ডল আসলে একটা মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছে কারণ নারায়ণের নানী মন খুশি সরকার তার ওরসজাত ছেলেদেরকে তিনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় রেজিস্ট্রি দলিল করে দিয়ে গেছেন। আর রুহুল আমিন মন্ডলের সম্পর্কে যে অভিযোগ দিয়েছে তা সম্পূর্ণই মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। তবে আমরা রুহুল আমিন মন্ডলের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত এ ধরনের কার্যকলাপের কথা শুনি নাই। তিনি শুধু আশুলিয়া পাড়াগ্রাম কেন যেকোন মানুষের উপকারের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এলাকার উন্নয়ন রাস্তাঘাট আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সাহায্য সহযোগিতা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি কোন মানুষ বিপদে-আপদে পড়লে রুহুল আমিন মন্ডল তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মানুষকে সহযোগিতা করে থাকেন। এলাকা বাসি আরো বলেন, রুহুল আমিন মন্ডল যদি জনগণের জন্য কাজ না করতো তবে মানুষ এত বোকা না, যে তাকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। নিশ্চয় এলাকাবাসী এবং জনসাধারণের জন্য কাজ করেন। সচেতন ব্যক্তিদের এবং সর্বসাধারণের কথা হলো একজন ব্যক্তি যখন তার নিজের জায়গা বিক্রি করতে চায় তখন তো যে কেউ কিনতে পারেন। রুহুল আমিন মন্ডল একজন ক্রেতা হিসেবে প্রকৃত জমির ওয়ারিশগণের কাছ থেকেই বায়না চুক্তিনামা রেজিস্ট্রি দলিল করেছেন। এলাকাবাসী বলেন, বিগত ২০২০ সালের ঘটনা এখনো আমাদের মেম্বার রুহুল আমিন মন্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে নানা ধরনের মিথ্যা বলে আসছে এবং আমরা এলাকাবাসী এর প্রতিকার চাই। নারায়নের অভিযোগের বিষয়টি রুহুল আমিন মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা নারায়ন মন্ডলের কাছে যা শুনেছেন তা তো গত তিন বছর আগের ঘটনা ২০২০ সালের আমার বিরুদ্ধে সে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন।আমার ব্যাপারে যা বলেছে আমাকে সমাজের কাছে এবং আমার পরিবারকে ও রাজনৈতিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই নারায়ণ মন্ডল এই সমস্ত আজব কথাবার্তা বলছেন। আপনারা আমাদের এলাকায় একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন আমি প্রকৃত জমির ওয়ারিশদের কাছ থেকে বায়না চুক্তিনামা রেজিস্টার্ড করি যাহার দলিল নং – ৯৬১৩/২০২০ ইং আমি দলিল গ্রহিতা এবং দলিল দাতারা প্রকৃত ওয়ারিশগণ আমাকে বায়না চুক্তি করে দেয় ১ নং দলিলদাতা জগদীশ সরকার ওরফে জগদীশ চন্দ্র মন্ডল, ২ নং দলিলদাতা গোলক সরকার ওরফে গোলক চাঁন মন্ডল উভয় পিতা মাতা মৃত জয় হরি মণ্ডল ও মন খুশি সরকার। সর্ব সাং দেউন,ডাকঘর বিরুলিয়া থানা সাভার জেলা ঢাকা।

রুহুল আমিন মন্ডল বলেন, আমি ক্রেতা তাই কাগজপত্র দেখে শুনে পর্যালোচনা করেই জমি নিয়েছি। নারায়ণ মন্ডল উল্টো আমার নামে বাড়িঘর ভেঙ্গে দেওয়া,উচ্ছেদ ও মারধর করার ব্যাপারে সাভার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, তৎকালীন সময়ে সরজমিনে পুলিশি তদন্ত আসে এবং আমি পুলিশি তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হই। পুলিশ উক্ত ঘটনার সাথে আমার কোথাও কোন সম্পৃক্ততা পায়নি। এ নিয়ে বহুবার বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাভার ভূমি সার্কেল অফিস থেকে লোক এসে ঘটনা স্থলে বসে উভয়ের কাগজ পত্র দেখে সকলের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে নারায়ণ মন্ডলের তিন ভাইকে বলে দিয়েছেন তোমরা এখানে কোন জায়গা পাবেনা। নারায়ণ মন্ডল এই বিচার মেনে নিয়ে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে বাড়িঘর ভেঙ্গে নিয়ে অন্যত্র চলে যান।