রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সংসদ সদস্য মনুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদের পিতা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সরদারের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল এমপি মনুর হাতে মারধরের শিকার ডেমরা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবার পাওয়া গেল দেড় কোটির দুই অ্যাপার্টমেন্ট ভিখারির! পাক বিমান বাহিনীর জন্য চায়নার তৈরীকৃত ড্রোন এখন দু:স্বপ্ন অতীতে সাংবাদিকদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী স্কুলে গিয়ে চাঁদা দাবি, সাংবাদিককে পুলিশে দিলেন শিক্ষকরা সংবাদ পোর্টাল নিবন্ধন চলমান প্রক্রিয়া, হাইকোর্টের নির্দেশনা শৃঙ্খলায় সহায়ক : তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করায় প্রেস ক্লাবের নিন্দা

আফগানিস্তানে জঙ্গি উত্থান বিশ্বের জন্য অশুভ সংকেত’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ বঙ্গবন্ধু চেয়ারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ তালেবান জঙ্গিদের থাবা থেকে মুক্ত নয়। তালেবান ও ইসলাম সমার্থক নয়। জঙ্গিবাদ নিয়ে আমাদের শংকার কারন রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তালেবানদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠবেন। আলোচনা করবেন, লিখনী লিখবেন। কেউ কোথাও কিছু করেননি।

শনিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন হলে বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আফগানিস্তানে জঙ্গি উত্থান বিশ্বের জন্য অশুভ সংকেত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন ।
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার দুইটা লক্ষ একটা ইসলামকে যথার্থ ভাবে অনুসরণ করি। আরেকটা জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা। আমরা এখনই সচেতনতা হই, সর্তক হই। বাংলাদেশ মানুষের দেশ হিসে গড়ে তুলবো অসাম্প্রদায়িক। এখানে ধর্ম থাকবে, ধর্মান্ধতা থাকবে না। ধার্মিক থাকবে কিন্তু জঙ্গি থাকবে না। এই প্রতিজ্ঞা আজ আমাদের করতে হবে।

আফগানদের ধর্মচর্চা নিয়েও কথা বলেন ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আফগানরা ইসলাম গ্রহণ করতে চায় নি। অনেক চেষ্টা তদবির করে ইরানী সুফি সাধকরা ক্রমাগত ভাবে আফগানে ইসলাম নিয়ে এসেছেন। আফগানরা যখন ইসলাম গ্রহণ করেছে, নিজেদের মত করে গ্রহণ করেছে। গোত্রভিত্তিক ইসলামি চেতনা লালন করেছে। আফগানরা গোত্র চেতনায় এক গোত্র আরেক গোত্রের সঙ্গে নামাজও পড়ে না, খায়ও না তবে যুদ্ধ করে এক সঙ্গে। বাংলাদেশের জন্য আগস্ট একটি শোকের মাস এবং পাকিস্তান স্পন্সর উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসের ভয়ঙ্কর হুমকির একটি ভয়াবহ স্মারক। ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, একটি সামরিক অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অনেক সদস্যকে হত্যার দিকে নিয়ে যায়। সামরিক শাসকরা যারা পরবর্তী ২১ বছর ধরে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করে এবং শাসন করে পাকিস্তানপন্থী প্রবর্তিত উপাদানগুলিকে বৈধতা দেয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, মুজিবুরের কন্যা, শেখ হাসিনা, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, তার জনসভায় গ্রেনেড হামলা থেকে সবে বেঁচে যান। এই হামলায় ২৪ জন আওয়ামী লীগার নিহত এবং ৫০০ এরও বেশি আহত হয়। হাসিনার অন্যতম দেহরক্ষী মাহবুবুর রশিদ নিহত হন।

৭৫ সালের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিল অসন্তুষ্ট জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা, কিন্তু ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালায় ইসলামপন্থী হরকাত উল-জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) জঙ্গিরা। ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়ে বাংলাদেশ শাসন করেছেন, বিশেষ করে ২০১৬ সালের সন্ত্রাসী হামলায় ১ বিদেশীসহ ২ জন নিহত হওয়ার পর। এটি একটি পাকিস্তান পৃষ্ঠপোষক উগ্র ইসলামপন্থী বাস্তুতন্ত্র যার বিরুদ্ধে আমরা আছি। তারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চলেছে। এটি এমন লড়াই যা কখনো শেষ হয় না এবং অনন্ত সতর্কতার দাবি করে। পাকিস্তান এখনো তার অতীতের মালিক নয়। পাঠ্যপুস্তক, যাদুঘর প্রদর্শনী এবং মূলধারার আখ্যানগুলি ইতিহাস বিকৃত এবং মুছে ফেলা অব্যাহত রেখেছে এবং অতীতের একটি নির্বাচনী স্মরণ এবং ভুলে যাওয়াকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আপনি লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছেন, আমাদের মা -বোনদের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছেন এবং এক কোটি মানুষকে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছেন।”

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার ফলে বাংলাদেশে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, একটি গণতান্ত্রিক এবং বহুত্ববাদী আফগানিস্তান তার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত দেশটির স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের একমাত্র গ্যারান্টি। আমরা শেখ হাসিনার মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তালেবান ধরনের সংগ্রাম হতে দেব না। এটি একটি সুপরিচিত সত্য যে এখানে পাকিস্তান-তালিবান সম্পর্ক রয়েছে, যা বাংলাদেশের সেরা স্বার্থে নয়। পাকিস্তানের ইচ্ছা আছে যে -তালিবান দখল কিছু মৌলবাদীদের মনোবল বাড়াবে। কিন্তু এই প্রতিবাদের মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চাই যে বাংলাদেশে তাদের তেমন সমর্থন নেই।

তালেবানদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তালেবানদের বিরুদ্ধে আফগান নারীরা পুরানো আমলের পতাকা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, এ ছবিও আমরা দেখেছি। একজন নারীর বোরকা ছিলো না, গুলি করে মেরেছে তালেবান। কোরআন-হাদিসের কোথায় নির্দেশ আছে, হিজাব-নিকাব, বোরকা পরতে হবে; শালীনতার বাহিরে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল বলেছ, ‘ইসলাম সেতো পরশ মণি, কে পেয়েছে খুঁজে’। আজকে পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায় নি। ইসলামকে তালেবানরা খুঁজে পাবে না।

আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়কে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবো না। দেশের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোনো কিছু থাকতে পারে না। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিশেষ গোষ্ঠী বা বিশেষ ব্যক্তির প্রাধান্য যাতে সেখানে না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এ সময় অন্যন্য বক্তারা বলেন, পাকিস্তান-চীন আজকে তালেবান-জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদীরা তালেবানদের মত অপশক্তিকে ব্যবহার করছে। জঙ্গি-তালেবানদের বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সামজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তালেবানরা স্বাভাবিক মানুষ নয়।
বক্তারা আরও বলেন, আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থাপন আমাদের জন্য অশুভ সংকেত। আমাদের দেশের উগ্র মৌলবাদীরা সুরসুরি পাচ্ছে। তালেবানরা ইসলামের নামে সন্ত্রাববাদ করছে এতে ইসলাম ধর্মের ক্ষতি হচ্ছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম এখনে জঙ্গিবাদের জায়গা নেই। ধর্মের নাম দিয়ে ইসলামের উপরে কালিমা লেপন করা হচ্ছে। জোরজবরদস্তির করার জায়গা নেই। তালেবান, জঙ্গিরা জোরজবরদস্তির করছে। তালেবানদের অত্যাচারে আফগান মুসলিমরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। এটা কোনো ভাবেই ইসলামের বিজয় নয়।

বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বিশিষ্টি ইসলামি চিন্তা বিদ আল্লামা এটিএম ফরহাদ, মাওলানা মহিউদ্দিন খান ফারুকী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আব্দুল আজিজ, তসলিম উদ্দিন রানা, সন্তুষ দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের সমন্বয়ক শেখ জনি ইসলাম, সাংবাদিক গণবন্ধু রাহাত হুসাইন প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin