• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট করতে স্থায়ী মাঠ প্রয়োজন  : অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২২, ২০২৩, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন / ২৬
আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট করতে স্থায়ী মাঠ প্রয়োজন  : অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান

মোঃ রাসেল সরকার/এম শিমুল খান,ঢাকাঃ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকভাবে কাবাডি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে স্থায়ী বড় একটি মাঠ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।

তিনি বলেন, আমাদের কাবাডি খেলার জায়গাটা এত ছোট, যার কারণে এখানে ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট করা যায় না। আমাদের জন্য একটি স্থায়ী মাঠ প্রয়োজন। শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন আয়োজিত করপোরেট মহিলা কাবাডি লিগ ২০২৩ উপলক্ষে এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বের উন্নয়নে সব কিছুতে নারীকে সম্পৃক্ত ও এগিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারীদের এগিয়ে নেওয়ার যে আন্দোলন প্রধানমন্ত্রীর সেটির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি পিছিয়ে থাকতে পারে না। সেটি মাথায় রেখে আমরা নারীদের এই খেলাটিতে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন রকম কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে নারীদের জন্য আমরা জাতীয়ভাবে কাবাডি খেলার আয়োজন করে থাকি। এবার আমরা এই প্রথমবারের মতো নারীদের নিয়ে কর্পোরেট কাবাডি লীগের আয়োজন করেছি। প্রাথমিকভাবে ছয়টি দল এখানে অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রথম কাবাডি খেলে আমাদের মেয়েরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন।

অতিরিক্ত আইজপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখনো প্রিয় খেলা কাবাডি। ফুটবলের চেয়েও কাবাডি খেলার জনপ্রিয়তা বেশি। প্রথমত কাবাডি খেলার জনপ্রিয়তা বেশি তার পরের স্থানে রয়েছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা। আমি স্বীকার করি কাবাডি খেলায় আমাদের অর্গানাইজেশনে ত্রুটি আছে। আমরা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয়ভাবে করি। অথচ সারা দেশে যারা জেলা ক্রীড়া সংস্থা আছে, তাদেরও এ বিষয়ে আন্তরিকতা থাকা উচিত। তাহলে আমরা কিন্তু ভালো কিছু করতে পারি। আমাদের ফেডারেশনের কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে। আমি নিজেও অনেক কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় অনেক ব্যস্ত থাকি। আপনাদের সঙ্গে আমার সব কিছু যেভাবে কো-অপারেট করা উচিত ব্যস্ততার কারণে সেটা হয়তো সেভাবে হয় না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের খেলার জায়গাটা এত ছোট যার কারণে এখানে ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট করা যায় না। আমরা মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি আমাদের জন্য একটি স্থায়ী মাঠ করে দেওয়ার জন্য। কাবাডি বিশ্ব কিন্তু জানে যে কাবাডিটা বাংলাদেশের খেলা। আমি বঙ্গবন্ধুর কাপ করার পরে সারা বিশ্বে অর্থাৎ বিশ্বে যারা কাবাডি খেলে তাদের কাছে কিন্তু প্রধান আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু কাপ। তারপরেও এটি আমরা করতে পারিনি। আমরা একটি জায়গা দেখেছি ঢাকা বুড়িগঙ্গার ওপারে, যাতে সেখানে একটু বড় করে মাঠ করা যায়। আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। নিজেও কথা বলেছেন। সেখানে যদি মাঠ পেয়ে যাই তাহলে আমরা নতুন একটি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু করতে হয়তো সফল হবো।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক যে ক্রাইসিস সেটির কারণেও আমরা একটু পিছিয়ে গেলাম। তা না হলে হয়তো একটু তাড়াতাড়ি এটি করে ফেলা সম্ভবত হতো। খেলায় অংশগ্রহণকারী ছয়টি দলের মধ্য থেকে একটি জাতীয় দল গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্পোরেট কাবাডি লিগে ছয়টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় অংশ নেবে ছয়টি দল। বেঙ্গল গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স, আহসান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় মতলব থান্ডার, ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় নরসিংদী লিজেন্ডস, ব্রিজ ফার্মার পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা টুয়েলভ, টেকনো মিডিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় টেকনো মিডিয়া ও নারায়ণগঞ্জ গ্ল্যাডিয়েটর্স।

পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সবশেষ জাতীয় দলে খেলা ছয়জনকে আইকন মনোনীত করা হয়েছে। মতলব থান্ডারের আইকন শারমিন সুলতানা রিমা, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের আইকন হাফিজা আকতার, নারায়ণগঞ্জ গ্ল্যাডিয়েটর্সের আইকন দিশা মনি সরকার, ঢাকা টুয়েলভের আইকন রেখা আকতার, নরসিংদী লিজেন্ডসের আইকন রুপালী আকতার ও টেকনো মিডিয়ার আইকন স্মৃতি আকতার।

জাতীয় দলের সাবেক কোচ-খেলোয়াড়দের কোচ ও সহকারি কোচ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুনদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আশরাফুল আলম মতলব থান্ডারের, মশিউর রহমান নারায়ণগঞ্জ গ্ল্যাডিয়েটর্সের, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের মো. ইউনুস আলী, বজলুর রশীদ ঢাকা টুয়েলভের, জিয়াউর রহমান নরসিংদী লিজেন্ডসের ও বাদশা মিয়া টেকনো মিডিয়ার কোচ।

ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে ছয় প্রধান কোচ ও সহকারী কোচদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কোচ করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক দুই কোচ সুবিমল চন্দ্র দাস ও আবদুল জলিল।

করপোরেট লিগের খেলার মান বাড়াতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে গত বছর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আইজিপি কাপ অনূর্ধ্ব-১৮ যুব কাবাডি থেকে বাছাই করা খেলোয়াড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন নারী খেলোয়াড়কে তিন মাস আবাসিক ক্যাম্পে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্য থেকে ৭৮ জনকে নিয়ে ছয়টি দল করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি গাজী মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শাহিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সহ প্রমুখ।