• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

আদালতে মামলার জট ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৯, ২০২২, ১:৪৫ পূর্বাহ্ন / ২৪
আদালতে মামলার জট ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা

মোঃ রাসেল সরকারঃ মাদারীপুরে ১৭টি আদালতে প্রায় ২৬ হাজার মামলা বিচারাধীন কয়েক বছর ধরে। দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ায় আদালতপাড়ায় এসে হয়রানি আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাদীরা। বারবার আদালতে আসা-যাওয়ায় অর্থ ব্যয়ও বেড়েছে। তবে কোনো কোনো মামলায় নেই বাদীর উপস্থিতি, আবার বেশকিছু মামলায় সাক্ষ্য দিতে বিলম্ব, ফলে কমছেই না মামলার জট। এতে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন আইনজীবীরাও।

মাদারীপুরের চরমুগরিয়া বন্দর এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমান। আট বছর আগে একটি দেওয়ানি মামলা করেন আদালতে। বিচারের আশায় আইনজীবী, মুহুরি আর কাগজপত্রের পেছনে খরচ করেছেন কয়েক হাজার টাকা। কোনো সমাধান না হওয়ায় হতাশ তিনি। শুধু খলিলুর রহমান নন, তার মতো অনেকের অবস্থা একই রকম। মামলা করে আদালতে মামলার

বছরের পর বছর ঘুরছেন আদালতপাড়ায়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিরা জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য আলাদা নতুন ভবন নির্মাণে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি নির্মাণ হলেই কেটে যাবে সমস্যা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৪ হাজার ৮০০ সহকারী জজ আদালতে ৭ হাজার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাড়ে ৭ হাজার, নারী ও শিশু আদালতে ২ হাজার ৩০০, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে ৪ হাজার মামলা বিচারধীন। এই মামলার জন্য ১৭ বিচারকের বিপরীতে এজলাস রয়েছে মাত্র ১৪টি

ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান বলেন, আইনজীবী বলে আমি মামলার রায় পাব, কিন্তু কবে রায় হবে সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। আমি গরিব মানুষ, টাকা জোগাড় করা আমার জন্য বড়ই কঠিন। মামলা চালানো এখন কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী এমদাদুল হক খন্দকার বলেন, আমার বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামে। একটি মামলায় আমি আসামি। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর অভাবে সাত বছরেও মামলার কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে কর্মজীবনে সমস্যা আর টাকা খরচ করতে করতে ভয়াবহ সমস্যায় পড়ছি। কবে এর থেকে মুক্তি পাব জানা নেই। আদালতে এলেই নতুন তারিখ, কিন্তু না এলে বিপদ।

মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট যতিন সরকার বলেন, এই সমস্যার অন্যতম কারণ হলো বিচারক ও এজলাস সংকট। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী যারা আছেন, তারা সময়মতো না আসায় অনেক মামলায় রায় হয় না।

মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেন, বেশকিছু মামলায় মানুষকে হয়রানি করতে করা হয়। এসব মিথ্যা মামলায় বাদীকে আইনের আওতায় আনা হলে মামলার সংখ্যা কমে যাবে। আর প্রকৃতপক্ষে তদন্ত দেরি হলেও মামলার বিচার সঠিকভাবে হয় না। পর্যাপ্ত বিচারক ও এজলাস হলে সব ক্ষেত্রেই বাদী ও বিবাদী লাভবান হবেন।

মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি উকিল (এজিপি) অ্যাডভোকেট বিদ্যুৎ কান্তি বাড়ৈ জানান, আদালতে বিচারক সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। দু-একটি এজলাস হলেই আপাতত সমস্যা দূর হতো। মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি উকিল (ভিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবন নির্মাণ হলেই আস্তে আস্তে কেটে যাবে এ সমস্যা। এরই মধ্যে ভবন । নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হয়েছে, কিন্তু অর্থ বরাদ্দে ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।