• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

অন্যের বাড়ির কাম করে পেট চালাই মেঘ তুফানের লগেই রাত কাটাই : নাঙ্গলকোটে স্বামী সন্তানদের হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে অসহায় আমেনা


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৫, ২০২৪, ৯:৩৩ অপরাহ্ন / ৯৪
অন্যের বাড়ির কাম করে পেট চালাই মেঘ তুফানের লগেই রাত কাটাই : নাঙ্গলকোটে স্বামী সন্তানদের হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে অসহায় আমেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লাঃ কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে স্বামী সন্তানদের হারিয়ে ঝড় বৃষ্টি আর ক্ষুধা যুদ্ধের কাছে হার মেনেই জীবন যাপন করে আসছে অসহায় আমেনা বেগম।

পাশের বাড়িতে কাজ করে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে পেটের খাবার জোগান দিতে হচ্ছে আমেনাকে। ৪০ বছর আগে স্বামী আব্দুল মন্নানকে হারিয়ে বেচে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কোন রকম জীবনযাপন করছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেনা ছেলে জসিম। এরপরেও পাড়ার চা দোকানে কাজ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ছোট বেলায় টাইফয়েড জ্বরে বিকল হয়ে যায় জসিম উদ্দিনের একটি পা। তাই বৃদ্ধ বয়সেও অন্যের বাড়ির কাজ করে খাবার জোগানদিতে ক্ষুধা যুদ্ধে মরিয়া মা আমেনা বেগম।

বাশেঁর বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরে দু’একটা পুরাতন টিন রশি দিয়ে বাঁধা আর শত ছিদ্র যুক্ত পুরাতন টিনের চাউনি দিয়ে ছোট্ট একটি নড়বড়ে ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে আমেনাদের। তার মধ্যে হেলে থাকা বেড়ায় কঞ্চি দিয়ে নিজ হাতে মেরামত করা। চাউনির ফুটোতেও পলিথিন দিয়ে মেরামত করা রয়েছে।

এমনই মানবেতর জীবনযাপন করছে আমেনা বেগম। কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউপি পানকরা দক্ষিণ পাড়া আফজালের বাড়িতে তার বসবাস। সংসার জীবনে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। প্রায় ৪০ বছর আগে আমেনার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনরকমে পার করছিলেন জীবন। আমেনার বড় ছেলে চট্রগ্রামের চাকরি করে সংসারে হাল ধরেছিলো। বিয়ে করে তিন সন্তানের জনক হয় সে। এমতাবস্থায় চট্রগ্রাম থেকে গত ৪ বছর আগে বাড়ি ফেরার পথে বাসে বসা অবস্থায় ফেনী এলাকায় হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যায় ছেলে আহছানউল্লা। শোক কাটিয়ে উঠার আগেই ভাগ্যের পরিহাসে ক্ষুধা মেটানোর হাল ধরেতে হয়েছে আমেনাকে। উপযুক্ত মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পরেও স্বামীর সংসারে তুলে দিতে পারেনি আমেনা। অবশেষে গত ৪ মাস আগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যায় তার একমাত্র মেয়ে হালিমা। সব হারিয়ে নিজের জীবন ছাড়া এখন আর হারানোর কিছু নেই আমেনার।

শত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা আমেনা বেগম অশ্রু মাখা সুরে বলেন, অন্যের বাড়ির কাম করে পেট চালাই,
মেঘ তুফানের লগেই রাত কাটাই।
স্বামীর রেখে যাওয়া ১ কড়া জায়গায় কোনরকম মাথা গুঁজে মা-ছেলের রাত কাটে।

প্রতিদিন কারও নষ্ট হওয়া খাবারই হতে পারে আমেনাদের মতো অনাহারীদের বেছে থাকার আহার।
তাই সমাজের বিত্তবানদের একটু সহায়তাই হতে পারে দারিদ্র পরিবারের একমাত্র ভরসা।