মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন



অনিয়ম-দুর্নীতিতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়: দুদকে অভিযোগ 

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
  • ১৪০ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাঃ বিআইডব্লিটিএ’র তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও সিবিএ নেতা পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, চাকুরী বিধি লঙ্গন করে বাংলাদেশ নৌ যান শ্রমিকলীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি এসবের আড়ালে থেকে বিআইডরিউিটএ’র নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজী, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ, সহকর্মীদের মারধর পূর্বক জেলখাটাসহ অবৈধ ভাবে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পান্না বিশ্বাস বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিটিএ’র হিসাব বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারি ও অত্র দফতরের সিবিএ নেতা। এছাড়া তিনি আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিকলীগের কার্যকরী সভাপতি। গ্রামের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার লরেন্দা গ্রামে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নেতাদের সহযোগিতায় বিআইডব্লিটিএ’র প্রধান কার্যালয়কে অপরাধ ও দুর্নীতি আখড়ায় পরিণত করেছেন তিনি। নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজী, বিদেশে টাকা পাচার ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা, মাদক গ্রহণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ, সহকর্মীদের মারধর, জেলখাটাসহ এহেন অপরাধ নেই যে তার বিরুদ্ধে নেই। দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিটিএ’র সুনাম ক্ষুন্নকারী এই দুর্নীতিপরায়ণ কর্মচারী পান্নার অপকর্ম ও দুর্নীতির কিছু চিত্র উঠে এসেছে।

পান্না বিশ্বাস ২০১২ সালে বিআইডব্লিউটিএ’তে হিসাব বিভাগে সহকারী পদে যোগদান করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার লরেন্দা গ্রামে। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ হলেও সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর প্রভাব দেখানোর জন্য নিজেকে মাদারীপুরের বাসিন্দা পরিচয় দিতেন।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে পান্না বিশ্বাস কর্মজীবন শুরু করে। পান্নার বর্তমানে সর্বসাকুল্যে বেতন ২২ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি রাজধানীর টিকাটুলির হুমায়ুন কমপ্লেক্সের পাশের লেনে যে ভাড়া বাসায় থাকেন তার মাসিক ভাড়া প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচ মিলে মাসে তার সংসারে ব্যয় কমপক্ষে এক লাখ টাকা। এ থেকে বোঝা যায় কোন পথের আয়ে তার সংসার চলে। পান্না বিশ্বাসের অবৈধ উপার্জনের টাকা নিজের নামে না রেখে স্ত্রী, শাশুড়ি, ভারতের নাগরিক ভাইয়ের একাউন্টে রেখেছেন। তাদের নামে ব্যাংকে ডিপিএস, এফডিআর করে রেখেছেন দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা। ভারতেও তার সম্পদ আছে বলে জানা গেছে। কলকাতায় বাড়ি কিনেছেন। এছাড়া নিয়মিত টাকা পাচার করছেন ভারতে। তার ভাই রাহুল দেব বিশ্বাস ভারতের নাগরিক। তার আরেক ভাইয়ের স্ত্রীর নাম তাপসী বিশ্বাস, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করেন। তার মাধ্যমেই মূলত অর্থ পাচার করে থাকেন পান্না বিশ্বাস।

এছাড়া শাশুড়ির নামে রাজধানীর পুরান ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে পান্না বিশ্বাস। গাড়ীও কেনা আছে শাশুড়ির নামে। মাদারীপুরে বোনের নামে বাড়ি কেনা আছে পান্না বিশ্বাসের। গোপালগঞ্জ মকসুদপুরে আলিশান বাড়ি করেছেন। এছাড়া একাধিক জমি ক্রয় করা আছে তার। চাঁদাবাজির পাহাড়সম অপরাধ পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। প্রতিমাসে সদরঘাট, চাঁদপুর, আরিচা, বরিশাল থেকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় পান্না বিশ্বাসকে। এছাড়া বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তানিয়া এন্টারপ্রাইজ, দিপিকা ইঞ্জিনিয়ারিং, চায়না ট্রেডিংসহ বেনামে আরো কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন পান্না বিশ্বাস।

ক্ষমতাসীনদের ভুল বুঝিয়ে টেন্ডারবাজির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ আদায় করে। কিন্তু কাজ বাস্তবায়নে এখান থেকেও হাতিয়ে নেয়া হয় কোটি কোটি টাকা। গত অর্থ বছরে বিআইডব্লিউটিএর সাইনবোর্ড ডিজিটালকরণের ২৫ লাখ টাকা রাসেল এন্টারপ্রাইজের নামে বরাদ্দ নেয়া হয়, এটি মূলত পান্না বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খনন ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং নামক ২টি প্রকল্প হতে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় পান্না বিশ্বাস। রাজধানীতে রফিক ঠিকাদার নামে এক যুবদল নেতার বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আড্ডায় যোগদান করে পান্না বিশ্বাস। মতিঝিলে বিআইডব্লিউিটএর প্রধান কার্যালয়ে একটি কক্ষ অবৈধ ভাবে ব্যবহার করতেন পন্না বিশ্বাস। কারোর তোয়াক্কা না করে সেখানে বহিরাগতদের নিয়ে নিয়মিত মাদকের আসর বসাতেন। এক পর্যায়ে অন্যান্য কর্মকর্তারা অতিষ্ঠ হয়ে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়।

সরকার যেখানে প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, সেখানে পান্না বিশ্বাস নিয়োগ বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করে যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএতে নিয়োগ পাওয়া অনেকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন পান্না বিশ্বাস। এর মধ্যে রয়েছে নড়াইলের সুজন মোল্লা ও লস্কর অন্যতম। শুধু তাই নয়, আলামিন, লস্করকে মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দিয়ে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করেছে। এছাড়া বেয়ারার পদে জুয়েল সরদার, শুল্ক প্রহরী পদে জয়দেব পাল, ট্রাফিক সুপারভাইজার পদে অনিমেষ বৈদ্য, দেবাশীষ মিত্র, বার্লিং সারেং পদে মো. আমিনুর রহমান, এমএলএস পদে মো. কুদ্দুস মোল্লা, সমীর গাঙ্গুলী, অমিত চাকমা, নিরাপত্তা প্রহরী পদে তুষার কান্তি ঘোষ, শঙ্কর বিশ্বাসকে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছে পান্না বিশ্বাস।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত পানা বিশ্বাস। ১১ দফা দাবি আদায়ে ২০ অক্টোবর-২০২০ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হয়। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আওতাধীন আটটি সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে ধর্মঘট দীর্ঘায়িত করতে ইন্ধন যোগায় পান্না বিশ্বাস। ধর্মঘটে সহযোগিতার পুরষ্কার হিসেবে সম্প্রতি তাকে নৌযান শ্রমিকলীগ নামে সদরঘাট কেন্দ্রীক ওই সংগঠনটির কার্যকরী সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারি হয়ে এ ধরনের কোনে সংগঠনে থাকার বৈধতা তার নেই। এরপরও পান্না বিশ্বাস সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া সেই সংগঠনেই জড়িত। পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জোর তদন্ত দাবী করেছে সচেতন মহল।



Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category



© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin