• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ হাজার কিলোমিটার দূরে


প্রকাশের সময় : মে ১২, ২০২৩, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন / ৪৬
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ হাজার কিলোমিটার দূরে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ উপকূল থেকে হাজারখানেক কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ফুঁসতে থাকা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় এ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার, যা দমকা আ ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। আবহাওয়াবিদরা যেমন ধারণা করেছিলেন, মোখার গতিপথ তেমনি আছে। এভাবে চললে আগামী রোববার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের কিয়াউকপিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের বুলেটিনে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে উপকূলে আঘাত হানার সময় মোখার বাতাসের শক্তি থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার বলছে, সে সময় ২০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে মোখার ঘূর্ণিবাতাসের শক্তি। ঘূর্ণিঝড় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সময় প্রচুর বৃষ্টি ঝরাবে। সেই সঙ্গে উপকূলীয় নিচু এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ২.৭ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পরে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার সকাল ৬টায় এ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টা এ ঝড় এগিয়েছে মোটামুটি ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতিতে। বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তর উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে হতে মোখা আরও ঘনীভূত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সংকেতের মানে হল, দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ের কবলে পড়ছে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথের মধ্যে বিপদে পড়তে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।