• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

ভুয়া সাংবাদিকদের ছড়াছড়ি : হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকের মর্যাদা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ৬:১০ অপরাহ্ন / ৩২৭
ভুয়া সাংবাদিকদের ছড়াছড়ি : হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকের মর্যাদা

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ একসময় সাংবাদিকতা ছিল সমাজ বদলের হাতিয়ার—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলমই ছিল প্রতিবাদের অস্ত্র। কিন্তু আজ সেই কলমের শক্তি যেন ম্লান হয়ে গেছে ভুয়া ও অপেশাদার সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে। ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ, টিকটক লাইভ—এসবের আড়ালে সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে গড়ে উঠছে এক শ্রেণির ব্যবসা ও প্রতারণার নেটওয়ার্ক।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন দেখা যায়, হাতে ক্যামেরা আর গলায় কার্ড ঝুলিয়ে অনেকেই দাবি করছেন, আমি মিডিয়া! অথচ তাদের অনেকেরই কোনো সংবাদপত্রে চাকরি নেই, নেই সাংবাদিকতার মৌলিক জ্ঞানও। কেউ সকাল পর্যন্ত দোকানদার, আবার বিকেলে হয়ে যান জেলা প্রতিনিধি। ফেসবুকে নিজেদের চিফ রিপোর্টার বা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট পরিচয় দিয়ে তারা ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়াচ্ছেন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে—এইসব কার্ডধারী ভুয়া সাংবাদিকদের পেছনে রয়েছে কিছু তথাকথিত মিডিয়া মালিক, যারা টাকার বিনিময়ে কার্ড ও পদ বিক্রি করছেন। ঈদের অফারের মতো চলছে প্রেস কার্ড প্যাকেজ। টাকা যত বেশি, পদ তত বড়! ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা আজ বিব্রত ও অবমূল্যায়িত।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া সাংবাদিকদের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের উদাহরণও সামনে এসেছে। তিনি যখন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইলেন, তখন উল্টো তার বিরুদ্ধেই ফেসবুকে বানোয়াট সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও পাঠকের নীরবতা মিলেই ভুয়া সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটাচ্ছে। অথচ একজন প্রকৃত সাংবাদিকের মূল শক্তি হওয়া উচিত নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও জনস্বার্থে কাজ করার সাহস।

সত্যিকারের সাংবাদিকরা দিনরাত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরেন, কিন্তু তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে পুরো পেশাটিই সন্দেহের চাদরে ঢাকা পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতা পেশার এই অধঃপতন রোধে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর তদারকি, প্রেস কাউন্সিলের সক্রিয় ভূমিকা এবং মিডিয়া মালিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রকৃত সাংবাদিকদেরও উদ্যোগ নিতে হবে অপসাংবাদিকদের প্রতিরোধে।

সাংবাদিকতা কেবল একটি চাকরি নয়—এটি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও জনগণের আস্থার জায়গা। তাই এখনই সময় সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নতুন করে ভাবার। সাংবাদিকতা কার্ডে নয়, চরিত্রে; মিডিয়া অফিসে নয়, মানুষের আস্থায়—এই বার্তাই আজ সময়ের দাবি।

শেষ কথা: সত্যিকারের সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে এখনই। যারা কলম দিয়ে অন্ধকারে আলো জ্বালায়, তারাই সাংবাদিক। অন্যরা শুধু নামধারী।