

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের ১৮ নং কুশাখালী ইউনিয়নের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী -চাঁদাবাজ, মাদক কারবারী সহ বহু অপকর্মের হোতা(মিল্লাতের) অত্যাচারে অতিষ্ঠ শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী।জানা গেছে, মিল্লাত পশ্চিম কুশাখালীর ০৬ নং ওয়ার্ডস্হ মরহুম আবু তাহের মাষ্টারের ছেলে।ছোট বেলা থেকেই সে বখাটে ও বদমেজাজি স্বভাবের হওয়ায় পড়ালেখায় মনোনিবেশ না হয়ে উশৃংখল ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। লক্ষ্মীপুরের যতগুলো সন্ত্রাসী বাহিনী আছে,সকল বাহিনীর সঙ্গেই রয়েছে তার সখ্যতা।বিশেষ করে সৈরাচার সরকারের আমলে মিল্লাতের সঙ্গে আওয়ামী শীর্ষ নেতাদের উঠাবসা হতো এবং বিভিন্ন যায়গায় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে শহরজুড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের যোগান দিতো। তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কিছুটা প্রশাসনের নজরে আসলেও নিকটাত্মীয় ডিআইজি আমেনার নাম ব্যবহার করে নিজে থেকে যেতো ধরাছোঁয়ার বাইরে।এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে একটা কিশোর গ্যাং পরিচালনা করতো বলেও জানান এলাকাবাসী।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,নারী কেলেংকারীতে সে বেশ পটু। এ যাবতকাল প্রায় ডজনখানেক বিয়ে করেছে এবং ক্ষমতার জোরে বিদায়ও করেছে।বর্তমানে একটি বউ থাকলেও সারাক্ষণ চালাতে থাকে নির্যাতন।এলাকার মানুষ সহ মিল্লাতের বসত বাড়ীর লোকজনের সঙ্গেও কোন সুসম্পর্ক নেই।
এলাকার সচেতন মহল জানান, সৈরাচার আওয়ামী সরকারের বিদায় হলে মিল্লাত আগের মতো আধিপত্য বিস্তার করতে না পাড়ায় এলাকাটিকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিবর্গ জানান, মিল্লাতের চরিত্র এতো খারাপ যে বেশ কয়েকবার নারীসহ এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
জোরপূর্বক মানুষের পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে আসা, কৃষকের ক্ষেতের ধান কেটে নিয়ে আসা, মানুষের পালিত গরু নিয়ে এসে বিক্রি করে দেওয়ার ও অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় মানুষকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মামলা- হামলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা ছিল তার মুল পেশা।
তথ্যসূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিল্লাত এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অপকর্মে লিপ্ত হয়ে ৭টি বিয়ে করে। কিছুদিন সংসার করার পর নারী গঠিত খারাপ অভ্যাস অত্যাচার নির্যাতন মদ এবং ইয়াবার নেশার কারণে সব স্ত্রী পালিয়ে যায়। জানা গেছে, বর্তমানে এক ভিক্ষুকের মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করছে সে।
এলাকাবাসি জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট পদ পরিবর্তনের ফলে তত্ত্ববোধক সরকারের সময় গাঁ ঢাকা দিয়ে থাকলেও সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন আবার আগের অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কিছুদিন আগে তার সৎ চাচা এবং ফুফুদের পাওনা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
কৃষকের ক্ষেতের বড়ই জোরপূর্বক উঠিয়ে নেওয়ার সময় এলাকার মানুষের প্রতিহতের মুখে বড়ই ফেলে রেখে যায়। যাওয়ার সময় ওই কৃষককে প্রাণনাশের হুমকি এবং এই জায়গায় কিভাবে চাঁদা না দিয়ে কৃষি কাজ করে চাষবাস করে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিবর্গ জানান,মিল্লাদের কাছে রয়েছে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র। এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করলেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি ও ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখে।
সচেতন এলাকাবাসী বলছেন, বহু অপকর্মের হোতা এই মিল্লাদকে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরী।
আপনার মতামত লিখুন :