নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাঃ
* মোহাম্মদ বদিউজ্জামান ছিলেন আওয়ামী এমপির ঘনিষ্ঠ * ময়ূরী প্রকল্পের ১৫ প্লট ভাগবাঁটোয়ারা আমার * বদলি হয়েও ফিরে আসেন কেডিএতে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) আলোচিত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। অনিয়ম তদন্তে প্রমাণ মেলায় বদলিও হয়েছেন। তবে অদৃশ্য খুঁটির জোরে আবার ফিরে আসেন কেডিএতে। এবার তাকে বদলি করা হয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির ১৮ দিন পরও বহাল কেডিএতে। এ নিয়ে চলছে বিভিন্ন গুঞ্জন।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে প্রবেশ করা বদিউজ্জামান কেডিএর সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রুনু রেজার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার প্রভাবে বিভিন্ন অনিয়মে জড়ান তিনি। ২০২২ সালের ২৪ মে কেডিএর ময়ূরী প্রকল্পের ১৫টি প্লট গোপনে ভাগবাটোয়ারা করে নেন বদিউজ্জামানসহ কয়েক কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে রাখতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তাকে প্লট দেওয়া হয়। রুনু রেজা তার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে একাই নেন চারটি প্লট। অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ হলে খুলনা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রায় দুই কোটি টাকার প্লট মাত্র ২৫ লাখ টাকায় নিয়েছেন বদিউজ্জামানসহ কয়েকজন। আর এ প্লট নিজেদের নামে বাগাতে বরাদ্দ নীতিমালা দফায় দফায় সংশোধন করা হয়। এ দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হলে ২০২৩ সালের ১৬ মে মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই খুলনা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান শুভ প্লট বরাদ্দের নথি তলব করেন। অনিয়মের ঘটনায় ছয় কোটি ৪০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে কেডিএর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় উঠে আসে।
সূত্র জানায়, দুদকের তদন্ত চলা অবস্থায় ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট বদিউজ্জামানকে বরিশালের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়। হয়। কিন্তু রুনু রেজার তদবিরে এক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর তিনি সচিব হিসেবে আবার কেডিএতে বদলি হয়ে আসেন। এর পরই গতি হারায় প্লট দুর্নীতির তদন্ত।
সূত্রটি জানায়, ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর ৬ ক্যাটাগরিতে ১৫ পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয় কেডিএ। এসব পদে পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে সাবেক এমপি রুনু রেজার পরিকল্পনায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আট শতাধিক প্রার্থীর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন বদিউজ্জামান।
ওই দিন গভীর রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা। বিকালেই ১৬ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। ওই নিয়োগেও বড় ধরনের বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।
সর্বশেষ গত বছরের ৬ অক্টোবর কেডিএর বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবের লিফলেট বিতরণ করে সমালোচিত হন তিনি। এ নিয়ে আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। গত ১৮ জানুয়ারি তার বদলির আদেশ এলেও এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তিনি কেডিএতে থেকে যাওয়ার তদবির চালাচ্ছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বদিউজ্জামান বলেন, সচিব পদটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এখনো কেউ নিয়োগ পাননি। কেউ নিয়োগ পেলেই আমি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাব।