মানছুর রহমান জাহিদ, পাইকগাছা, খুলনাঃ খুলনার পাইকগাছার হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়পরিদর্শক শিক্ষাবোর্ড যশোর বরাবর লিখিত অভিযোগ হয়েছে। বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক কর্মচারী এ অভিযোগ করেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম স্বেচ্ছারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারের ও অসাধাচারণের অভিযোগ আনা হয়েছে অভিযোগে।
অভিযোগে প্রকাশ, চলতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ড.মোঃ মোকাররম হোসেনকে সভাপতি মনোনীত করেন। যদিও বিদ্যালয় থেকে প্রেরিত তিন জনের মধ্যে তার নাম ছিলনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের বিভিন্ন অনিয়ম, দর্নীতি, অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন কারণে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ১৮ ফেব্রুয়ারী শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। এদিকে আ্যাডক কমিটির সভাপতি কোন এজেন্ডা ছাড়াই গত ২৫ মে বিদ্যালয়ে এসে মিটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কেউ সভা না করায় ২৩ জুন আবার এসে একইভাবে সভা করার সিদ্ধান্ত নেন।সভায় শিক্ষক প্রতিনিধি স্বাক্ষর না করায় সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে তিনি একক ক্ষমতা বলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক প্রকাশ ঘোষ ও অফিস সহকারী সুভাষ মন্ডলকে বহিষ্কার এবং সুরঞ্জনা রায়, অনিশ রঞ্জন চক্রবর্তী ও সবুজ সরদারকে শো-কজ করেন। নীতিমালা অনুযায়ী জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ১৩ নং ক্রমিকে থাকা সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার প্রতিষ্ঠানের চলতি দায়িত্ব প্রদান করেন। এদিকে অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নিয়ে বিদ্যালয়ের নামে ব্যাংকে একাউন্ট খোলেন ও বিদ্যালয়ের টাকা সাবেক প্রধান শিক্ষককে নিয়ে নয়ছয় করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। এসব সার্বিক বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ আন্দোলন করে যাচ্ছে। যার মধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা, ক্লাস বর্জন, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সভা অব্যহত রয়েছে।
বহিস্কার হওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান সভাপতির বন্ধু যশোর বোর্ডের আইএস কামরুজ্জামান তিনি তাকে সভাপতি বানিয়েছেন। তার ক্ষমতা বলে তিনি যা ইচ্ছে তাই করছেন।
সভাপতি ড. মোকাররম হোসেন বলেন, আমি যেটা করেছি আইনগতভাবে করেছি। আমার বিরুদ্ধে বোর্ডে অভিযোগ করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটা মেনে নেবো। বিদ্যালয়ের কেউ আমার কথা শুনছেনা।
বোর্ড আইএস কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য প্রকাশ করা গেলোনা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান আলী বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আশা করি দ্রুত সমাস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, সভাপতি সাহেব কিভাবে কি করছেন বিষয়টি তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবেন। তবে দ্রুত সমাস্যা সমাধান করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য দেড়মাস যাবৎ ক্লাস বর্জন ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।