• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

২০২৫ সালে ‘খুনের শহর’ খুলনা প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড, আদালত চত্বরে জোড়া খুনে আতঙ্কের বছর


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ন / ১৬৫
২০২৫ সালে ‘খুনের শহর’ খুলনা প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড, আদালত চত্বরে জোড়া খুনে আতঙ্কের বছর

খুলনা অফিসঃ ২০২৫ সালজুড়ে খুলনা মহানগর ও জেলা পরিণত হয়েছিল ভয় আর অনিশ্চয়তার জনপদে। প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা, আদালত চত্বরে জোড়া হত্যাকাণ্ড, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং নদী থেকে একের পর এক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল এই অঞ্চল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট ৮৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৬টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪৭টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নদী থেকে অর্ধশতাধিক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আলোচিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডঃ গত ১১ জুলাই দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় দিনে-দুপুরে বাড়ির সামনে গুলি ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে। গত ৩০ নভেম্বর খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজনকে—যা বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে কালভার্টের পাশে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা ও তার দুই নাতি ফাতিহা এবং মুস্তাকিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একই দিনে সোনাডাঙ্গার করিমনগরে ঘরের ভেতরে ঢুকে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করা হয় আলাউদ্দিন মৃধা নামে এক যুবককে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজারে গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন। আর ১৪ ডিসেম্বর রাতে রূপসা উপজেলার খানজাহান আলী সেতু এলাকায় গুলিতে নিহত হয় যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাগর।

হত্যার পেছনে নানা কারণঃ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্যমতে, মহানগরের ৩৬টি হত্যাকাণ্ডে একাধিক কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সিন্ডিকেট, সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তার এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার অন্যতম। পাশাপাশি পারিবারিক কলহ, পরকীয়া, জমি ও ব্যবসায়িক বিরোধ, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব, চুরি ও অজ্ঞাত কারণেও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

কেএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত ২৩টি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। বাকি মামলা গুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে।

থানা ভিত্তিক ও মাসভিত্তিক চিত্রঃ মাস ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে, আগস্ট, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। থানাভিত্তিক হিসেবে খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানায় সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

জেলা পুলিশের তথ্যে জানা গেছে, ৯ উপজেলায় সংঘটিত ৪৭টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রূপসা উপজেলাতেই ঘটেছে ১৩টি, যার বেশির ভাগই গুলিতে। এরপর ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও দাকোপ উপজেলায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

বাড়ছে উদ্বেগ, দোষীদের ধরার দাবিঃ পুলিশ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে বের হওয়া একাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসী পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে।

খুলনার নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এবং সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।