শিরোনাম

কোরবানির ঈদ : কী খাবেন, কতটুকু খাবেন

248920_167আজকেরবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম:  আর কিছু দিন পরই কোরবানি। আর কোরবানি মানেই হলো রেড মিট বা লাল গোশতের সম্ভার এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মুখোমুখি হওয়া। গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট ও দুম্বার গোশতকে বলে রেড মিট বা লাল গোশত। আর এ গোশতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খারাপ কোলেস্টেরল, যা হৃৎপিণ্ডের প্রধান শত্রু। তবে রান্নায় কিছু কৌশল অবলম্বন করে সেই খারাপ
কোলেস্টেরল বাদ দেয়া সম্ভব। লিখেছেনডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

লাল গোশতে বিদ্যমান খারাপ চর্বি বা কোলেস্টেরল গ্রহণের ফলে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালী বা ধমনীর অভ্যন্তরে চর্বি জমে তা সরু হয়ে যায়, ফলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং পরিণামে ঘটে হার্ট অ্যাটাক। তাই কোরবানির গোশত গ্রহণে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ।

কোরবানির গোশত থেকে চর্বি বাদ দেয়ার কৌশল
• পশু কোরবানির পর গোশত কাটার সময় গোশতের গায়ে লেগে থাকা চর্বি যতটা সম্ভব কেটে বাদ দেবেন।
• গোশত রান্নার আগে গোশতকে আগুনে ঝলসে নিলে কিছু চর্বি গলে পড়ে যায়। এভাবে গোশতকে চর্বিমুক্ত করা যেতে পারে।
• গোশতকে একটু হলুদ-লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে রেফ্রিজারেটরে ঠাণ্ডা করলে কিছুটা চর্বি গোশত থেকে বেরিয়ে এসে জমাকৃত অবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় বাড়তি চর্বিটুকু একটা চামচ দিয়ে আঁচড়ে সহজে বাদ দেয়া যায়।
• এ ছাড়া গোশত একটি র‌্যাক বা ঝাঁজরা পাত্রে রেখে অন্য একটি পাত্রের ওপর বসিয়ে চুলায় দিলে নিচের পাত্রে গোশতের ঝরে যাওয়া চর্বি জমা হবে। এ পদ্ধতিতে গোশত থেকে অনেক চর্বি বাদ দেয়া যায়।

অনেকে ঈদে মুরগির গোশত খেয়ে থাকে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হলো মুরগির গোশত খাওয়ার সময় অবশ্যই মুরগির চামড়া বাদ দিয়ে খেতে হবে, কারণ একটা মুরগিতে যে পরিমাণ চর্বি থাকে তার অর্ধেকটাই আসে চামড়া থেকে। একই সাথে মগজ ও কলিজা বাদ দিয়ে খেতে হবে।

কোলেস্টেরল ভাবনা
কোরবানির গোশত খাওয়ার সময় অবশ্যই কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, কারণ মন্দ কোলেস্টেরল নীরবে মৃত্যু ডেকে আনে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি, তারা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে গোশত খাবেন। যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে কিংবা ৩০ বছর বয়সের পর যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০-এর বেশি, তাদেরকে রেড মিট বা লাল গোশত একেবারেই না খাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন।

তবে কোরবানিতে যেহেতু গোশত খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে, সুতরাং একটু বুঝেশুনে খেতে হবে। যারা হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি তারা পশুর কলিজা, হৃৎপিণ্ড ও মগজ খেতে পারবেন না। একইভাবে ডিমের তৈরি যেকোনো খাবার তৈরির সময় কুসুম বাদ দিতে হবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে পোলাও-বিরিয়ানির পরিবর্তে খিচুড়ি বেছে নেয়া উত্তম।

কোরবানিতে কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পন্থা হলো-
• রান্নার কাজে ঘি বা বাটার অয়েল ব্যবহার না করে তার পরিবর্তে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা।
• ফিরনি, পায়েস, মিষ্টান্ন প্রভৃতি তৈরির জন্য স্কিমড মিল্ক বা ননীতোলা দুধ ব্যবহার করা
• দুধজাত খাবার কম রেখে খাদ্য তালিকায় প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল রাখা।
• কোরবানিকে ভোজনের উৎসব হিসেবে না দেখে এবং সেই আনন্দে না মেতে একে ত্যাগের মহিমা হিসেবে দেখে নিজেকে সংযত রাখা।

লেখক : স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, লেখক ও সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।
চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি., ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: স্বাস্থ্য সেবার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*