শিরোনাম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ২০ বছরেও যোগ হয়নি নতুন ওষুধ

images09ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমানে দেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আইটেমের ২৫ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে ১১৭টি আইটেম। তবে এ তালিকা করা হয় ২০ বছর আগে। এরপর যুক্ত হয়নি নতুন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দেশে ১৯৮২ সালে প্রথম জাতীয় ওষুধনীতি ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ঘোষিত হয়। তখন ১৫০টি আইটেমের ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ হিসেবে নির্ধারিত করা হয়। ১৯৯৪ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জারি করা এক আদেশের ফলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতির সংশোধন করে জাতীয় ওষুধ নীতি ২০০৫ প্রণয়ন করে সরকার। কিন্তু এ নীতিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের কোনো তালিকা ছিল না। ২০০৮ সালে ২৫৬টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নানামুখী চাপে এ তালিকা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০ বছর পূর্বে নির্ধারিত ১১৭টি আইটেমের ওষুধই রয়েছে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণ করতে পারে। এ ১১৭টি ওষুধের অর্ধেকের বেশি বর্তমানে অকার্যকর।

তিনি জানান, ২০ বছরের পুরনো এ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সংশোধন করা সময়ের দাবি। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। কমপক্ষে ২০০৮ সালে নির্ধারিত ২৫৬টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ওষুধের দাম নির্ধারণের জন্য স্বাস্থ্যসচিবের সভাপতিত্বে ১৬ সদস্যদের মূল্য নির্ধারণ কমিটি রয়েছে। এতে ওষুধশিল্প সমিতি ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তবে আইনি বাধ্যবাধকতায় অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি আইটেমের ওষুধের দাম নির্ধারণ ছাড়া বাকি ওষুধের দাম নির্ধারণে এ কমিটির কোনো ভূমিকা নেই। বাকি ওষুধের ক্ষেত্রে এ কমিটি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দাম অনুমোদন করে থাকে। এ ছাড়া তাদের আর কোনো ক্ষমতা নেই। দাম প্রস্তাবনায় স্বাধীনতা থাকায় কোম্পানিগুলো নানা অজুহাতে ওষুধের দাম বাড়িয়ে থাকে।

ওষুধ শিল্পমালিক সমিতির মহাসচিব আবদুল মোক্তাদির বলেন, পৃথিবীর কোথাও এখন আর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নেই। তাই তালিকার দিকে নয়, উৎপাদিত ওষুধের গুণগতমানের দিকে কোম্পানিগুলোর বেশি নজর।

বর্তমান সরকারের বিগত আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন ৩০০ আইটেমের ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ওষুধ প্রশাসনকে দেওয়া হবে। কিন্তু এ বক্তব্য আর অগ্রগতির মুখ দেখেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ওষুধ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবম ফারুক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমাদের দেশেই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা সবচেয়ে কম। ২০ বছর আগে করা এ তালিকার অর্ধেকের বেশি ওষুধের কার্যকারিতা নেই। এ তালিকা সংশোধন করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন এ নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, নীতিমালা বা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির কোনো ক্ষমতা অধিদপ্তরের নেই। আমরা কেবল সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন করে থাকি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: স্বাস্থ্য সেবার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*