শিরোনাম

পাম চাষে ক্ষতিগ্রস্ত বোর্নিও

2015_12_02_14_53_54_zMnuEs7IGCG59ldjKD56AZ7NFYNkIV_originalপৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ বোর্নিও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয় দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভূক্ত বোর্নিয়ের সঙ্গেই আছে সুলু সাগর, সেলেবিস সাগর এবং মাকাসার প্রণালী। ঠিক তারই দক্ষিণে আছে জাভা সাগর, পশ্চিম-উত্তর দক্ষিণে চীন সাগর। বোর্নিও সম্পর্কে এতগুলো কথা বলার কারণ, প্রকৃতির এক নিবিঢ় নীরবতার মধ্যিখানে অবস্থিত বোর্নিওর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আজ হুমকির মুখে। পুঁজিকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় বাণিজ্য যেখানে মূল্য লক্ষ্য সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য টিকিয়ে রাখা সহজ কাজ নয়। যদিও সামনের সপ্তাহে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনে বোর্নিওর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি রিপোর্ট তুলে ধরার কথা রয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াইল্ডলাইফ আলোকচিত্রী ও চলচ্চিত্রকার ম্যাত্তিস লুম বোর্নিওর প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে মানুষ সৃষ্ট কারণে ধীরে ধীরে দ্বীপ হিসেবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বোর্নিও। লুম তার কাজের স্বার্থে সেই গালাপোগাস থেকে ওকাভাঙ্গো ডেল্টা পর্যন্ত গিয়েছেন, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন বিশ্ববাসীর এখনই ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার পাম গাছ চাষ এবং প্রকৃতির উপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে অবহিত হওয়ার দরকার।

গত বিশ বছর ধরে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং বোর্নিওর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুরে পাম চাষ হচ্ছে। এই পাম গাছ চাষের ফলে ক্রমশ বিশাল বর্ষাপ্রবণ বনাঞ্চল উজার হয়ে যাচ্ছে। এই বণাঞ্চল উজার করার ফলে শুধু যে গাছই ধ্বংস হচ্ছে তা নয়, এরসঙ্গে যুক্ত অনেক প্রাণবৈচিত্র্যও হারিয়ে যাচ্ছে। গত দশ বছরে বোর্নিও দ্বীপাঞ্চলে বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। কারণ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া দেশ হিসেবে মাছের জন্য বোর্নিওর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাণিজ্যিক কারণে সাগর থেকে বোর্নিওর জেলেরা যে মাছ ধরে, তার অধিকাংশই বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। যে কারণে স্থানীয় পর্যায়ে পণ্যের মূল্য অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বোর্নিওর প্রাণ হলো এর নদীগুলো। কিন্তু অধিকাংশ পাম শিল্প প্রতিষ্ঠানই নদী তীরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত নদীগুলোও দূষণের শিকার হচ্ছে। এই নদী দূষণের ফলে বোর্নিওর মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও পরছে বিরুপ প্রভাব। যদিও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বরাবরই এই দূষণের জন্য স্থানীয় চাষীদের দোষারোপ করা হচ্ছে, কিন্তু যতিদিন যাচ্ছে ততই অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। তাই পরিবেশবিদদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বোর্নিওর পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে।

বিশেষ করে ২০০৮ সাল থেকে বোর্নিওর পাম শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আগে যেখানে নদীতে বর্জ্য ফেলার আগে শিল্প-কারখানাগুলোকে অনেক কিছু ভাবতে হতো, কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। রাজনৈতিক অস্থিতিশীল অবস্থার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়িরা দ্বীপের আরও গভীরে পাম চাষের পাশাপাশি বড় বড় গাছ কেটে অবৈধ উপায়ে বিক্রি করে দিয়ে মুনাফা অর্জন করছে। যেহেতু এই মুনাফার একাংশ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছেও যায়, তাই অনেকটা দেখেও না দেখার অবস্থায় আছে বোর্নিও ও এর জনগণ।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: সারা বাংলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*