শিরোনাম

ঘর থেকে বের হওয়াও দায়

5d2eff060282d217af0758c19a5a4b31-5a59b40f9b230নিজস্ব প্রতিবেদক: এলাকায় ঢোকার সব কটি পথ কার্যত বন্ধ। এখন প্রধান সড়কসহ দুটি গলিপথের জায়গায় জায়গায় তুলে রাখা মাটির স্তূপ, পুরোনো পাইপ ও নির্মাণসামগ্রীর কারণে ঘর থেকে বের হওয়ার পথও রুদ্ধ হওয়ার জোগাড়।

এমন অবস্থা পূর্ব তেজতুরি বাজার এলাকার। বর্ষা মৌসুমজুড়ে জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়েছিল এই এলাকার বাসিন্দারা। এখন পানিনিষ্কাশন নালার পাইপ বদলানোর কাজ চলছে। সেখানেও অব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পূর্ব তেজতুরি বাজার এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে নালার পাইপ বদলানোর কাজ শুরু নভেম্বরের গোড়ার দিকে। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনভোগান্তি লাঘবে ন্যূনতম ব্যবস্থা নেয়নি। পুরোনো পাইপ ওঠানো ও নতুন পাইপ বসানোর কাজে মাটি খোঁড়ার সময় দুই দফা গ্যাস ও বিদ্যুতেই লাইন কাটা পড়েছে। পরে সেগুলো ঠিক করতে হয়েছে নিজেদের চাঁদার টাকায়। মাটি খোঁড়ার সময় দুটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়লেও এখন পর্যন্ত তা ঠিক করা হয়নি। সিটি করপোরেশনে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
গতকাল শুক্রবার পূর্ব তেজতুরি বাজার লোহার ব্রিজ থেকে মহিলা কলেজ রোডে ঢুকে দেখা গেল, সড়কে মাটি স্তূপ করে রাখা। এর সঙ্গে তুলে আনা পুরোনো পাইপগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে, তাতে এই পথ দিয়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর। এখান থেকে কয়েক শ গজ এগিয়ে চৌরঙ্গী মোড়। এই মোড় থেকে বাম দিকের গলি দিয়ে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের মোড়ে যাওয়া যায়। ওই গলির পুরোটাই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লোকজন কোনোভাবে এক পাশ দিয়ে কিংবা উঁচু মাটির টিবির ওপর দিয়ে হেঁটে চলাফেরা করছে। একই অবস্থা চৌরঙ্গী মোড়ের ডান দিকে বারি স্টুডিও গলির। এই গলি দিয়ে কারওয়ান বাজারের টিনপট্টিতে পৌঁছানো যায়। দেখা গেল, এই গলিতেই দুটি বিদ্যুতের খুঁটি বিপজ্জনকভাবে হেলে আছে। একটিতে দড়ি বেঁধে কোনোভাবে সামলে রাখা হয়েছে। অন্যটি গিয়ে পড়েছে উল্টা পাশের একটি ভবনে। টিনপট্টির যেখান থেকে এই গলিতে ঢোকা যায়, তার মুখও বন্ধ।
বারি স্টুডিও গলির বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই গলিতে ২২ বছর ধরে মুদিদোকান চালাই। এবার বর্ষাকালে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তাতে নতুন পাইপ বসানোর কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু সেই স্বস্তি আর থাকছে না।’
বিজ্ঞান কলেজ গলির বাসিন্দা নজরুল ইসলাম মাটির স্তূপ দেখিয়ে বলেন, ‘বাড়ি থেকেই তো বের হতে পারছি না। এর থেকে বড় সমস্যা আর কী থাকতে পারে।’
চৌরঙ্গী মোড় থেকে সোজা মহিলা কলেজের দিকে যেতে সড়কের কিছু অংশ মোটামুটি পরিষ্কার দেখা গেলেও সেটা স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগেই করা হয়েছে বলে জানান পূর্ব তেজতুরি বাজার কল্যাণ সমিতির সদস্য মো. আজাদ আলম। কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনারও একটা মাত্রা থাকে। এই কাজ করতে গিয়ে গ্যাসলাইন কাটা পড়েছে, বিদ্যুতের লাইন কাটা পড়েছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাটি সরিয়ে সরিয়ে হাঁটাচলার পথ বের করতে হচ্ছে। কিন্তু যে ঠিকাদার এই কাজ করছেন, তাঁর নাগাল আমরা এখনো পাইনি। সিটি করপোরেশনে দুই দফা অভিযোগ জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।’
শহীদুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় মোট ভবনের সংখ্যা ১৮৬ টি। তাতে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো মানুষের বসবাস। সবাই কম-বেশি ভোগান্তির শিকার।
এই এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কাউন্সিলর শামীম হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বক্তব্য জানার জন্য ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী কর্মকর্তা অজিয়র রহমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: সারা বাংলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*