শিরোনাম

এবারই কর নথিতে বাড়িভাড়ার ব্যাংক হিসাব দিতে হবে

safe_imageচলতি করবর্ষেই বাড়িভাড়ার আয় ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার তথ্য কর বিবরণীতে রাখতে হবে। প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া পেলে তা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। গত অর্থবছর (২০১৪-১৫) থেকেই এ নিয়ম। গত অর্থবছরে, অর্থাৎ গত জুলাই থেকে জুন মাস পর্যন্ত যেসব করদাতা মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি বাড়িভাড়া পেয়েছেন, তাঁরা এ বছর বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে (রিটার্ন) উল্লেখ করবেন।
তবে এই বাড়িভাড়ার আয়ে বেশ কিছু খাতে কর ছাড় পাবেন বাড়িওয়ালারা। বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, পৌর কর, ভূমি রাজস্ব; এমনকি গৃহঋণের সুদাসল বাবদ কিস্তির অর্থ বাদ দিয়ে করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
২০১৫-১৬ করবর্ষের আয়কর বিবরণী পূরণ করার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর বিবরণী জমা দিতে হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাড়িভাড়া থেকে যত আয় হবে, এর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণকাজে ব্যয় বাদ দেওয়া যাবে। এই খরচের জন্য কোনো প্রমাণ দাখিলের প্রয়োজন নেই। বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দেখানো যাবে। এ ছাড়া বার্ষিক পৌর কর, ভূমি রাজস্ব হিসেবে যে টাকা ব্যয় হবে, তাও আনুপাতিক হারে কর রেয়াত পাওয়া যাবে। এমনকি কোনো বাড়িওয়ালা যদি গৃহঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেন, তবে প্রতি মাসে যে টাকা সুদাসল বাবদ কিস্তি শোধ করেন, সেই টাকারও আনুপাতিক হারে কর রেয়াত মিলবে।
আয়কর বিবরণীতে ১২ মাসেরই ভাড়ার পরিমাণ দেখাতে হবে। যদি এক বা একাধিক মাস বাড়ি বা ফ্ল্যাট খালি থাকে, সে ক্ষেত্রেও ১২ মাসের বার্ষিক ভাড়ার মূল্য বিবরণীতে দেখাতে হবে। তবে খালি থাকা মাসের ভাড়া খরচ হিসেবে দেখানো যাবে। এ ছাড়া বিবরণীতে বাড়ির অবস্থান, কত তলা ইত্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে। এসব বিধান না মানলে বাড়িভাড়া বাবদ আয়ের ৫০ শতাংশ বা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা (যেটি বেশি) হারে জরিমানা হবে।
তবে বাড়িভাড়ার অর্থ ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখার তথ্য কর বিবরণীতে প্রদর্শন নিয়ে করদাতাদের হয়রানি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করিম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিংহভাগ করদাতা সর্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেন। এত দিন এ পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিলে বিনা প্রশ্নে মেনে নিতেন কর কর্মকর্তারা। কিন্তু এ বছর থেকে সর্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিলে আয়–ব্যয়, কর হিসাব-নিকাশ করে প্রাপ্তি সনদ দেবেন। এ ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা করদাতাদের বিবরণী মানা না-মানা নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হতে পারেন।’
উল্লেখ্য, এ বছর আয়কর অধ্যাদেশের ৮২ বিবি ধারা সংশোধন করে কর কর্মকর্তাকে বাড়তি এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আয়কর অধ্যাদেশের ২ (৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো করদাতার বাড়িভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ যদি যুক্তিসংগত না হয়, তবে কর কর্মকর্তা ওই এলাকার সমতুল্য অন্য বাড়িভাড়া মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ওই করদাতার বাড়িভাড়া বাবদ আয় নির্ধারণ করতে পারবেন।
গত অর্থবছরের (২০১৪-১৫) বাজেটে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি ভাড়া পেলে পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার বিধান করা হয়। ভাড়াটেরাই সেই ব্যাংক হিসাবে চেকের মাধ্যমে টাকা জমা রাখবেন। পরে তা সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে বলা হয়, বাড়িওয়ালা চাইলে ভাড়াটের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নগদ নিয়ে তা তাঁর যেকোনো ব্যাংক হিসাবে রাখতে পারবেন।
অভিযোগ আছে, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর বাড়িওয়ালাদের অনেকে কর ফাঁকি দিতে নথিতে বাড়িভাড়া থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত আয় দেখান না। প্রতি মাসে যত টাকা ভাড়া হিসেবে পান, বছর শেষে কর নথিতে তা দেখান না। এটাই সহজ প্রক্রিয়া, এর কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: সর্বশেষ খবর, সারা বাংলার খবর

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*