শিরোনাম

রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটি ঝুলে আছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে !

বুলবুল আহমেদ সোহেল :  রমনা বটমূলে বাঙালীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত ২টি মামলার মধ্যে হত্যা মামলা নিষ্পত্তি হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া গত ১৫ বছর ধরে ঝুলে আছে। কবে এই মামলার বিচার কাজ শেষ হবে তা এখনও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৪ আসামি এখনও পলাতক। এদিকে আগামী ২৪ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করা রয়েছে। এই মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৯ জনের সাক্ষী শেষ হয়েছে। এই মামলায় মোট ১৪ জন আসামি। তবে একই ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৩ জুন হত্যা মামলার রায়ে হরকাতুল জেহাদের (হুজ্জি) জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ৮ জনের ফাঁসি ও ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা চলমান থাকায় ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি ৮ জঙ্গির। এই মামলার পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবু আবদুল্লাহ্ জানান, রমনা থানার এসআই কবির হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা {নং ৪৭(৪)১} দায়ের করেন। ২০০৯ সালে ১৬ এপ্রিল এই মামলার চার্জ গঠন করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১ নং আদালতে বিচারাধীন আছে। জানা গেছে, কোন ঘটনা ঘটলে একই ঘটনায় দুইটি মামলা করা হয়। একবার সাক্ষী দিলেও দ্বিতীয় বার হয়রানির ভয়ে কেউ আদালতে আসে না। যার ফলে সাক্ষীর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।

Exif_JPEG_420

বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে ২০০১ সালে পহেলা বৈশাখ রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল ৮টা ৫ মিনিটের সময় অনুষ্ঠান স্থলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে ৯ জন নিহত ও পরে আরও ১ জন হাসপাতালে মারা যান। ওই দিন একই ঘটনায় আহত অবস্থায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের অনেকেরই হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। ঘটনার পর রমনা বটমূল ও আশপাশের এলাকাজুড়ে হাজার হাজার নারী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ভয়ে চারদিকে দৌড়াতে থাকে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে চলে যায়। আবার অনেকেই আহতদের দেখতে ও স্বজনদের খোঁজে হাসপাতালে ছুটে যান।
পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনা তদন্ত করে। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ২০০১ সালে ১৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের এসআই কবির হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলা দিনের পর দিন ঝুলতে থাকে। বারবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। সব মিলিয়ে মোট ৭ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হরকাতুল জেহাদের হুজ্জি জঙ্গি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে চিহ্নিত ও অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এর মধ্যে জঙ্গি মুফতি হান্নানসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য ৪ জঙ্গিরা এখনও পলাতক।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৪ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই মামলায় দ-প্রাপ্ত জঙ্গিরা আসামি। হত্যার মামলার ফাঁসির দ-প্রাপ্তরা হচ্ছেন জঙ্গি মুফতি হান্নান, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসাইন, মওলানা মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই। যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্তরা হচ্ছেন- শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মওলানা আবদুর রউফ, মওলানা সাবি্বর ওরফে আবদুল হান্নান সাবি্বর, মওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ ও হাফেজ মওলানা ইয়াহিয়া। ফাঁসির ৮ আসামির মধ্যে ৪ জনই পলাতক। তারা হলেন- তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, মুফতি শফিকুর ও আবদুল হাই পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে , রমনার বটমূলে বোমা হামলায় নিহতরা হলেন আমিন উল্লাহ আমান, রফিকুল ইসলাম, মামুন ইব্রাহিম ওরফে খলিল, মাহমুদুল কবীর, ওমর ফারুক, মাহবুব, আফজাল, স্বপন কুমার দাস, রেজা ও অসীম। আর আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় ওইদিনই রমনা থানার এসআই কবির হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথম এ মামলা তদন্ত করেন রমনা থানার তৎকালীন এসআই মোহাম্মদ হানিফ। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। সিআইডি দীর্ঘ সাত বছর পর ২০০৮ সালে ২৯ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে।
২০০১ সালের ওই হামলার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।  সিসি টিভি, বিস্ফোরক শনাক্ত করার আর্চওয়েসহ আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিয়ে রমনা বটমূলকে নিরাপত্তা দেয়া হয়। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এতট বছর হয়ে গেল রমনার বটমূলে বোমা হামলার বিস্ফোরক আইনের মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি বলে চাপা ক্ষোভ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। দ্রুত বিচার কার্য শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করা হলে জনমনেও শস্থি ফিরে আসবে জঙ্গিবাদও সন্ত্রাসী হামলা হ্রাসপাবে। অন্যথায় এ বিলম্ব দু:ষ্কৃতিকারিরা নানা রকম সুযোগ গ্রহণ করার শঙ্কা থাকে। ###

Be Sociable, Share!
বিভাগ: প্রধান খবর - ২, সম্পাদকীয়

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*