শিরোনাম

রায় শুনেই জ্ঞান হারালেন রাকিবের মা

a02407213a59fb1aea03a420bf44aa3b-Untitled-1সকাল সকালই অশ্রুসিক্ত নয়নে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছে যান রাকিবের মা লাকি বেগম, বাবা নূর আলম ও বোন রিমা। তাদের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসীও। ছেলে হত্যায় ফাঁসির দাবি নিয়েই তারা আদালত প্রঙ্গণে আসেন।

সংবাদকর্মীদের কাছে অশ্রুসিক্ত নয়নে সন্তানের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ ফাঁসির দাবি জানান লাকি বেগম। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতেই ভাই হত্যার বিচার চায় বোন রিমাও। বাবা নূর আলমও চান সন্তানের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি।

রোববার দুপুরের দিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলাতানা। রায়ে গ্যারেজ মালিক শরীফ (৩৫), সহযোগী মিন্টু মিয়াকে (৪০) ফাঁসির দণ্ড দেন বিচারক। এছাড়া মামলার অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে (৫৫) খালাস দেয়া হয়।

এদিকে ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি হয়েছে জানার পরপরই মূর্ছা যান মা লাকি বেগম। মাঝে মাঝে আহাজারিও করেন পুত্রশোকে।

তবে এ রায়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা খুশি হলেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিহত রাকিবের খালা। ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘যে মহিলার কারণে আমার বোনের কোল খালি হয়েছে তাকে কীভাবে আদালত খালাস দেয়, আমরা এ রায় মানি না।’ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত গ্যারেজ মালিক শরিফের মা বিউটি বেগমকে সর্বোচ্চ না হোক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট বিকেলে খুলনা নগরীর টুটপাড়া এলাকায় শরীফ মটরসে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে শিশু রাকিবের পায়ূপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরীফ ও মিন্টু মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে শরীফের মা বিউটি বেগমকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন ৪ আগস্ট নিহত শিশুর বাবা মো. নূর আলম বাদী হয়ে তিন জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৫ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোস্তাক আহমেদ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: শিরোনাম

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*