

রুবেল মাদবর, মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবী বাজার ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা প্রতীমা রানীর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৫ এপ্রিল ১৯৯২ সালে রিকাবী বাজার ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন প্রতীমা রানী। দীর্ঘ অনেক বছর শিক্ষকতা জীবন শেষে বিদ্যালয় এবং স্থানীয় সমাজে তার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও প্রাক্তম ছাত্র এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এক উষ্ণ পরিবেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তার কর্মময় জীবনের স্মৃতি, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান, প্রতীমা রানী শুধু একজন শিক্ষিকা নন, তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার গবেষণাধর্মী পাঠদান, কোমল আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে।
সহকর্মীরা বলেন, তার শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের প্রতি মমতা এবং জটিল বিষয় সহজভাবে বোঝানোর দক্ষতা সবসময়ই আলাদা সম্মান এনে দিয়েছে। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, কুইজ প্রতিযোগিতা ও অভিভাবক পরামর্শ সভায় তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতেন।
শিক্ষার্থীরা আবেগঘন পরিবেশে প্রিয় শিক্ষিকাকে স্মরণ করে নানা অনুভূতি প্রকাশ করে।
এসময় রিকাবী বাজার ১নং সরকারি প্রাথমির বিদ্যায়য়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম জাহান সাইদা শিক্ষিকা প্রতীমা রানীর হাতে সম্মাননা সারক তুলে দেন। পরে শুভেচ্ছা বার্তা জানান, আপনার স্নেহ, মূল্যবোধ ও দিকনির্দেশনা আমাদের জীবন গঠনে চিরদিন পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। আমরা আপনার শেষ মুহূর্তের শিক্ষাটুকুও স্মৃতিতে ধরে রাখবো।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের রিকাবী বাজার ১নং সরকারি প্রাথমির বিদ্যায়য়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদদ্য মোঃ ইসমাইল হোসেন রাহাত, রিকাবী বাজার ১নং সরকারি প্রাথমির বিদ্যায়য়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জুশ্রী কুন্ডু,
সহকারি শিক্ষক অঞ্জনা সাহা, ফারজানা আক্তার, জাকিয়া সুলতানা, অপি সাহা, ফেরদৌসী আক্তার, বিলকিস আরা, মোঃ মাজেদুল শেখ, অমিত হাসান, এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রিকাবী বাজার ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়য়ের প্রাক্তন ছাত্র সাংবাদিক রুবেল মাদবর বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতীমা রানী মতো নিবেদিত শিক্ষক সমাজে যত বেশি থাকবে, ততই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আলোকিত হবে।
শেষাংশে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতীমা রানীর হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাই তার সুস্বাস্থ্য, শান্তিময় জীবন এবং আগামীর সফলতার জন্য শুভকামনা জানান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তার শূন্যস্থান পূরণে সময় লাগবে, তবে তার কর্মদর্শন ও মূল্যবোধ শিক্ষার পরিবেশে দীর্ঘদিন ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :