শিরোনাম

সরকার মিথ্যাচার করছে : ফখরুল

251666_191নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার তাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে ও জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জিয়া পরিবারের সম্পদ পাচার নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে মিথ্যাচার ও কল্পকাহিনী দাবি করে করেন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিদেশে টাকা পাচারের তদন্ত হচ্ছে’ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর করা এ মন্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

তিনি বলেন, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরণের মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, রোহিঙ্গা সমস্যার মোকাবিলায় ব্যর্থতা ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ অবলীলায় মিথ্যাচার করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করতে, বন্যা পরবর্তী সংকট মোকাবিলা করতে, বেহাল সড়ক সচল করতে, রাখাইনে গণহত্যা ও রোহিঙ্গাদের বিতাড়ণে নিন্দা জানাতে ব্যর্থতা, চালের দাম কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এই মিথ্যাচার করছে। এই সরকার আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্টের নামে সরকার বিলিয়ন ডলার লোপাট করছে। লুট করছে জনগণের সম্পদ।

শেয়ার মার্কেট লুট, ব্যাংক লুট, পাওয়ার প্ল্যান্ট, পদ্মা সেতু, কুইক রেন্টাল, মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, উড়াল সেতুতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে এখন জিয়া পরিবারের সদস্য এবং গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রীর বিরুদ্ধে এই মিথ্যাচারের জবাব জনগণ দেবে বলেও জানান তিনি।

এসময় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে বিদেশে যে কল্পিত সম্পদের কথা বলা হয়েছে তা হাস্যকর মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, এই ধরণের কল্পকাহিনীর কোনো প্রমাণ তারা ১০ বছর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও বের করতে পারেননি, এখনো পারবেন না। এই মিথ্যাচার শুধুমাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবার হীন উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। এসময় এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা এবং এই ধরণের মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার এবং ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির ত্রাণের ট্রাক আটকে দেয়ার প্রতিবাদ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে কক্সবাজার থেকে উখিয়া রওনা দিলে পুলিশ বাধা দেয়। নেতৃবৃন্দকে বিএনপি অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের নামে সরকারী অর্থে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, জনাব সাধারণ সম্পাদক বিদেশে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী কার কত সম্পদ রয়েছে ইতিমধ্যে দেশী বিদেশীর মিডিয়াতে আসতে শুরু করেছে, কানাডায় কারা বেগম পল্লী, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, সিঙ্গাপুর, ব্যাংককে বিশাল শপিং মল কিনেছেন, আমেরিকায় কারা নতুন বাড়ী কিনেছেন, কতগুলো বাড়ী কিনেছেন-তা এখন দেশবাসীর অজানা নয়। ত্রাণের নামে আওয়ামী লীগের বিশাল লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করে, অন্য কাউকে ত্রাণ দেয়ার সুযোগ না দেয়া মানবতার বিরুদ্ধে অবরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলেও জানান তিনি।

মানুষের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করা তা বিতরণ করতে যাওয়া এক নয় দাবি করে তিনি বলেন, লোক দেখানো কাজ আপনারা করেন। লোক দেখানো নামে উন্নয়নের লুটপাট আপনাদের স্বভাবজাত। কাদের মাথায় সোনার মুকুট পরে বিয়ে হয়েছিলো, কাদের নামে ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগ উঠেছিলো তাদের এই কয় বছরে দখলদারিত্বের ক্ষমতা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ করেছেন।

কাদের নামে-বেনামে স্ক্যান্ডাল সেটির তালিকা দেশের মানুষ অবগত। কারা ব্যাংকের মালিকানা থেকে জনগণের সম্পদ লুট করছে, কারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে লোপাট করে দিচ্ছে তা দেশবাসী অবগত। গতকাল সংসদে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: প্রধান খবর - ২, রাজনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*