শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে থাকতে চায় বিএনপি ; নির্বাচনে অনাগ্রহী তৈমুর

BNPডেস্ক রিপোর্ট: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২২ ডিসেম্বর। এটিই হবে প্রথমবারের মতো কোনো সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন।অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও থাকতে চায় বিএনপি। তবে এই নির্বাচনে থাকা না-থাকা নিয়ে দলের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।  তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৪ নভেম্বর।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও এর আগে-পরে প্রায় সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। সারা দেশে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ছিল। তবে এই তিন সিটিতে ভোটের দিন দুপুরে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল।
এর আগে ২০১৩ সালের জুনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটে এবং ওই বছরের জুলাইয়ে গাজীপুরে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও থাকতে চায়। বিএনপি ধরে নিয়েছে, এই নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনেরা ফল নিজেদের পক্ষে ‘ছিনিয়ে নেবে’। তারপরও বিএনপি থাকতে চায়, কারণ এতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি আরও জোরালো হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়বলেন, বিএনপি অতীতে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। সে ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বিএনপির সূত্র জানায়, কাল বৃহস্পতিবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মূলত নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও এর কাঠামো নিয়ে একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জন্য ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির থাকা না-থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হতে পারে।
বিএনপি নির্বাচনে থাকতে চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জেলা কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান  বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাস করে। গত কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কীভাবে দখল হয়েছে, তা সবাই দেখেছেন। তারপরও বিএনপি স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে ছিল। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে থাকা না-থাকা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটিতে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচন ছিল নির্দলীয়। ওই নির্বাচনে নাগরিক সমাজের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। সে নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন তৈমুর আলম খন্দকার। কিন্তু ভোট গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ‘দলীয় সিদ্ধান্তে’ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে কি না, তা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নেবেন। নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে তৈমুর বলেন, এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি নিজে প্রার্থী হতে চান না। গতবার ভোটের পাঁচ ঘণ্টা আগে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেন বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। এবার নির্বাচন করার কোনো আগ্রহ তাঁর নেই। তবে বিএনপি যে প্রার্থী দেবে, তাঁর পক্ষে তিনি কাজ করবেন।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: জাতীয় খবর, প্রধান খবর - ২, রাজনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*