শিরোনাম

জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যর্থতায় সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে

12814150_951407534908732_3712496899351410550_nবাংলাদেশের মতো একটি শান্তিপ্রিয় দেশে যখন জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যায় কিংবা তাদের নানান কর্মকান্ড সংঘটিত হতে থাকে, তখন তা সার্বিক অর্থেই উদ্বেগজনক যা বলার অপেক্ষা রাখে না। সঙ্গত কারণেই পরিপ্রেক্ষিত সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে এটাই প্রত্যাশিত। কেননা বিষবৃক্ষে শেকড় সমূলে উৎপাটিত না হলে তা একটি আশঙ্কাজনক অধ্যায়েরই জন্ম দেবে যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।জঙ্গিবাদকে বর্তমানে বিশ্বের প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আতঙ্কের যে, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশেও জঙ্গিদের উত্থান উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশেও তার ধাক্কা এসে লাগছে। বাংলাদেশ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত নজরদারি ও গৃহীত ব্যবস্থার কারণে জঙ্গিরা এখনো এখানে মাথাচাড়া দিতে পারেনি সত্য, কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যায়। সে জন্য জঙ্গি দমনের পাশাপাশি জঙ্গিগোষ্ঠীর অর্থের উৎসমুখও বন্ধ করা জরুরি। জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যর্থতায় যেমন সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে জঙ্গিবাদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধের বিষয়টি অনেকবারই সামনে এসেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সত্য, কিন্তু অর্থায়ন বন্ধ করা যায়নি। সম্প্রতি এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অব মানি লন্ডারিং (এপিজি)-এর প্রতিবেদনে জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের দুর্বলতার দিক উঠে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই সরকারের বিবেচনা করা সংগত।
অর্থায়ন ছাড়া যে সন্ত্রাসী সংগঠন কিছুতেই চলতে পারে না তা রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরাও অবগত। এ সত্ত্বেও অর্থায়ন প্রতিরোধ করা যায় না কেন, তা নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় বৈকি। এপিজের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দুর্বলতার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে বিষয়টি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তারা এ দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে জানা গিয়েছিল, জঙ্গিবাদের অর্থের উৎস বন্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও পুলিশবাহিনীর অব্যাহত নজরদারি রয়েছে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন কিংবা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন মূল্যায়ন থেকেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। এপিজে যে তথ্য দিয়েছে তাতেও এটা স্পষ্ট, মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে যেমন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল তেমনি জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত উৎকণ্ঠার। এ দুর্বলতার ভেতর দিয়ে একটি দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কিংবা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যে কষ্টসাধ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
লক্ষণীয় যে, জঙ্গিবাদ যেসব দেশে জেঁকে বসেছে, সেসব দেশ ক্রমেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সংগত কারণে দেশের কোনো সুস্থ নাগরিকই প্রত্যাশা করে না যে, বাংলাদেশও একই পথে যাক। আমাদের অনেক রকম সীমাবদ্ধতা রয়েছে সত্য। যে কারণে উন্নয়ন কর্মকা- চালিয়ে যাওয়া কিংবা দেশকে এগিয়ে নেয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। কিন্তু কোনো অপশক্তি যদি দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে চায়, উন্নয়নের চাকা পেছনের দিকে ঘোরাতে চায়, তাহলে সর্বশক্তি দিয়ে তাদের প্রতিরোধই হয়ে ওঠে প্রধান দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আপস প্রদর্শনের কোনো সুযোগ থাকা সমীচীন নয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রা পাচার, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি-ছিনতাইসহ আরো অনেক অনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমেই জঙ্গিরা অর্থ সংগ্রহ করে। ফলে বিদ্যমান বাস্তবতায় এদিকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া কর্তব্য। পাশাপাশি সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম রোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন, মানি লন্ডারিং আইনের ব্যবহার বাড়ানো, দুদককে কার্যকর করা, চোরাচালান ও মানব পাচার বন্ধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এপিজের শর্ত পূরণেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া বাঞ্ছনীয়।
সর্বোপরি বলতে চাই, হুন্ডি বা মানি লন্ডারিংসহ জঙ্গি মনোভাবাপন্ন মানুষের আর্থিক সহায়তাও পেয়ে থাকে জঙ্গিরা। তাই জঙ্গি উত্থান ঠেকাতে অর্থের উৎস বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি দুদকের সক্ষমতা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে এপিজে যে প্রশ্ন তুলেছে তারও যৌক্তিক সমাধান হতে হবে। অন্যদিকে এপিজে প্রতিনিধিরা যদিও মনে করছেন, স্বল্পতম সময়ে বাংলাদেশ মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে উন্নতি করেছে; কিন্তু আমরা মনে করি এ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ তখনই করা যাবে যখন জঙ্গি অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ গোয়েন্দা কার্যক্রম আরো শক্তিশালী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করা দরকার। পাশাপাশি এপিজিসহ আরো যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ক্ষেত্রটিতে কাজ করে, তাদের সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অশুভ ছায়া পড়ুক, তা কেউই প্রত্যাশা করে না।###
(বুলবুল আহমেদ সোহেল,ডিরেক্টর এন্ড এডিটর,আজেকের বাংলাদেশ টুয়েন্টিফোর ডট কম )
Be Sociable, Share!
বিভাগ: রাজনীতি, সম্পাদকীয়

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*