শিরোনাম

এবার একলা চল নীতি হবে আত্মঘাতী : মেনন

282189_129নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, এবারে জাতীয় নির্বাচন একটু হলেও অন্যবারের চেয়ে ভিন্ন হবে। তাই এ নির্বাচনে মহাজোটের কেউ একলা চল নীতি অবলম্বন করলে তা হবে আত্মঘাতী। এধরণের নির্বাচনকে একলাভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ আয়োজন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন একথা বলেন।

এতে পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, সুশান্ত দাস, নুর আহমদ বকুল, হাজেরা সুলতানা এমপি, কামরূল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। আগামী ৩ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকাল তিনটায় এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মেনন আরো বলেন, এ বছরেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন হতে চলেছে। এবছরই নির্ধারিত হবে যে ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নের ধারায় দেশ এগিয়েছে তা অব্যাহত থাকবে, নাকি বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ জঙ্গিবাদের পুনরুত্থানে দেশ আবার পিছিয়ে যাবে অন্ধকারের পথে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর দেশ আবার অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি পুনর্বাসিত হয়েছে। বিচার হয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনি আর একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী মূল চক্রের। হেফাজতীদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করা গেছে। প্রতিরোধ করা গেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে জামায়াত-শিবিরের নিষ্ঠুর তাণ্ডবের।

তিনি বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিকে অব্যাহত রাখতে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচন পরবর্তীতেও সরকারে আছে। এসবই এ সময়কালে এদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামের বড় অর্জন।

তবে সরকারের কিছু পদক্ষেপের ভুলের কারণে উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের এই উন্নয়নের পাশাপাশি গরীব-বড়লোকের মধ্যে ধন বৈষম্য বেড়েছে বহুগুণ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত হিসাবে গত পাঁচ বছরে উপরতলার ১০ ভাগ মানুষের হাতে দেশের অধিকাংশ সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে। বেড়েছে গ্রাম-শহরের বৈষম্যও। দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানায় বিশাল সংখ্যক ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, জালিয়াতি প্রভৃতি দুর্বৃত্তপনা এ ক্ষেত্রকে লুটেরার রাজত্বে পরিণত করেছে। ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বিদেশে টাকা পাচার অব্যাহত গতিতে চলছে। শিক্ষা বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বৃহৎ বইয়ের বোঝা পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকরণ এসব ক্ষেত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্যগুলিকে ম্লান করে দিচ্ছে। বিশালসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার। সন্ত্রাস, মাদকাশক্তি, জঙ্গিবাদী ধ্যান ধারণার বিস্তার ঘটছে যুবকদের মধ্যে ব্যাপকহারে।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: রাজনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*