শিরোনাম

অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপানোর চক্রান্ত বামরা রুখে দেবে : সেলিম

273150_153নিজস্ব প্রতিবেদক: সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, হরতালের আগেই সিপিবি অফিসে হানা দিয়েছে পুলিশ। সারাদেশে হামলা-নির্যাতন, গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ ‘সনিক ক্যানন’ (শব্দ কামান) ব্যবহার করেছে। কিন্তু হামলা-নির্যাতন করে আন্দোলন থামানো যাবে না। হরতাল করেই বামপন্থিরা থেমে থাকবে না। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সরকারের সব অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চক্রান্ত বামপন্থিরা রুখে দেবে। তারা দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেই আন্দোলন এগিয়ে নেবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আজ শুক্রবার আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় সেলিম এসব কথা বলেন।

গতকাল বৃহস্পাতিবার হরতালে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি হানা, হরতাল চলাকালে ঢাকাসহ সারাদেশে দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন এবং ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের মোশারফ হোসেন নান্নু। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর আলী খান। সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক কমরেড ফিরোজ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বহ্নিশিখা জামালী।

সমাবেশে সেলিম আরো বলেন, বামপন্থিরা হরতাল, আন্দোলন করছে জনগণের স্বার্থে। আমাদের আন্দোলন বুর্জোয়া দলগুলোর মতো ক্ষমতার কামড়াকামড়ির জন্য নয়। বিএনপি বলছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে তারাও দাম বাড়িয়েছে। আবার আওয়ামী লীগও বিরোধী দলে থাকলে কখনও কখনও দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগ, বিএনপির মতো বুর্জোয়া দলগুলো ক্ষমতার সংকীর্ণ স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কখনও কখনও জনগণের পক্ষে কথা বলে। আসলে তাদের অবস্থান জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে। জনগণের স্বার্থে আওয়ামী লীগ, বিএনপিকে চিরতরে বিরোধী দলে পরিণত করতে হবে। বামপন্থিদের ক্ষমতায় বসাতে হবে।

সমাবেশে সাইফুল হক বলেন, সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ফ্যাসিবাদী কায়দায় সিপিবি’র কেন্দ্রীয় অফিসে, সারাদেশে নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ সরকার জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা নির্যাতন চালিয়ে, জোর করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে যথাযথ জবাব দেয়া হবে।

রতন বলেন, সরকার দলীয় একজন নেতা বলেছেন, হরতাল করে নাকি বামপন্থিরা মৌলবাদীদের শক্তিশালী করছে! কিন্তু নির্মম সত্য হচ্ছে, সরকার দলীয় ওই নেতা মৌলবাদী হেফাজতের সাথে সরকারের আপসের উদ্দেশ্যে হেফাজত নেতার কাছে ছুটে গিয়েছিলেন এবং হেফাজত নেতার পায়ের কাছে বসে পড়েছিলেন। এই সরকার মৌলবাদীদের সাথে আপস করে কীভাবে দেশকে মৌলবাদী ধারায় নিয়ে গেছে সেটা দেশবাসী ভালো করেই জানে।

নান্নু বলেন, সরকার সব মতামতকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছিলেন কিভাবে বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকার জনগণের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায়।

বিদ্যুৎ ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে সমাবেশ থেকে আগামী ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে এবং সারাদেশে ডিসি অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরনো পল্টনে এসে শেষ হয়।

Be Sociable, Share!
বিভাগ: রাজনীতি

এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি.

মন্তব্য করুন

*