

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাজী শামসুল কবির পারভেজ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি লুটপাটের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। এখনো সে নেশায় মত্ত(কাজী শামসুল কবির পারভেজ)।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলের আসিফের ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই পারভেজ। ৫ আগস্ট পরবর্তী ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ফসল ফ্যাসিবাদ বিরোধী অন্তবর্তী কালীন সরকারের এ সময়ও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন তার সিন্ডিকেট!
তথ্যসূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের ৭ রাস্তা ও বসিলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা। ৫ আগষ্টের পূর্বের গণঅভ্যুত্থানের সাধারণ মানুষের দমন পিড়নের মাস্টারমাইন্ড এই পারভেজ ।স্থানীয় বখতিয়ার হোসেন জানান আমরা আশ্চর্য হই এত রক্তের বিনিময়ে একটি নতুন দেশ পেলাম সেখানে কিভাবে এখনো এই ফ্যাসিবাদের দোসর ঘুরে বেড়ায় আর আগের মতই চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে!
স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসিফ-সহ তার সহযোগীদেরকে বসিলা গার্ডেন সিটির ৯/৩/ই ভবনে তার নিজ ফ্লাটে গোপন আস্তানা বানিয়ে সেল্টার দিয়েছেন। এমনকি তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে পুরো ভবনটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তার ভয়ে ভবনের অন্য ফ্ল্যাট মালিকরা কোন প্রতিবাদ করতে পারে নাই। এছাড়া সন্ত্রাসী ও মাদককারবারিদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত এই ভবনটি । উল্লেখ্য কয়েক মাস আগে ডিবি উক্ত ভবনকে কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ রেখে মাদক কারবারিদের আটক করতে সক্ষম হয়। তখনও এই দুর্ধর্ষ পারভেজ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
জানা যায় যে, এই ভবনটির যারা মূল উদ্যোক্তা ছিল তাদেরকেও বিভিন্ন অপপ্রচার হুমকি ধামকি মানহানি করে কোন ঠাসা করে রেখেছে।
এমনকি এই পারভেজ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য, লক্ষ লক্ষ টাকার জাল ভাউচার তৈরি করেছে , তার প্রমাণও ভুক্তভোগীদের কাছে রয়েছে।
এছাড়াও তার অপকর্মের অনেক তথ্য গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। পারভেজ এর টাকা আত্মসাতের কারণে ভবনের দ্বিতীয় লিফট আজও পর্যন্ত হয়নি।
তিনি প্রভাব খাটিয়ে কোন ফ্ল্যাট মালিকদের ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি হতে দিচ্ছে না । যাতে করে সে সবাইকে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। এই দুর্নীতিবাজ পারভেজের রোসানলে পড়া একজন ভুক্তভোগী জানান যে , তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি দিয়েই যাচ্ছে, সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। পরবর্তীতে তিনি ভবনের সভাপতি বরাবর বিষয়টি জানিয়ে দরখাস্ত করেন।
আলমনগর হাউজিং এর একজন ভুক্তভোগী বলেন ১৫ নম্বর রোডে ২০ নাম্বার বাড়িতে সবাই লটারিতে ফ্ল্যাট পেলেও, পারভেজ লটারি ছাড়াই আরেকজনের প্রাপ্ত ৩ তলার ফ্ল্যাটগুলো তিনি দখল করে নেন। যেখানেই পারভেজের নজর পড়েছে সেখানেই অনিয়ম দখলদারিত্ব চলেছে, তাকে থামানোর যেন কেউ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এই স্বল্প শিক্ষিত শামসুল কবির পারভেজ টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ বহন করতো। সে এই সামান্য সময়ের মধ্যে কিভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন।
শ্যামলী -২ , ৯/৪ ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট যেখানে সে বসবাস করে। বসিলাতে ৩টি ফ্ল্যাট, হেমায়েতপুরের আলমনগরে একাধিক বাড়িতে ছয়টি ফ্ল্যাট, আমিন বাজারে বিশাল বাড়ি, টাঙ্গাইলের রিসোর্ট, ঢাকা উদ্যানের পাশে অনেক জমি জমা, এবং একাধিক গাড়ি সহ নামে বেনামে অঢেল সম্পত্তি ও ব্যাংক ব্যালেন্স হাতিয়ে নিয়েছ তা কারোরই বোধগম্য নয়।
বর্তমান সরকারের ন্যায় প্রতিষ্ঠার সময়ে এই সকল প্রতারক ও অসৎ ব্যক্তিরা কিভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে জনমনে সেই প্রশ্ন উঠছে।
শ্যামলী এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, যে বাড়িতে বসবাস করেন সেই বাড়িতেও প্রভাব খাটিয়ে কোন সার্ভিস চার্জ দেন না এই শামসুল। সেখানেও রয়েছে তার ব্যাপক ক্ষমতার দাপট।
অথচ এক সময় তিনি বলে বেড়াতেন, কমিশনার ফোরকান,আসিফ আমার ঘরে ঘুমায়,আমি যা বলি তাই তারা শুনে। স্থানীয়রা আরো বলেন, তিনি নারী কেলেঙ্কারিতেও অভিযুক্ত ।ভুক্তভোগীরা খুব দ্রুত দুদক ও প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে তার মতামত জানতে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য তার বিরুদ্ধে গত ০৮-১২-২০২৫ইং তারিখে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি জিডি লিপিবদ্ধ হয়।
আপনার মতামত লিখুন :