• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

রাজউক প্রশাসন নীরব কেন : অথোরাইজ অফিসার ইলিয়াস হোসেন ও পরিদর্শক আল নাঈম মোরাদের খুটির জোর কোথায়


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন / ৮৫
রাজউক প্রশাসন নীরব কেন : অথোরাইজ অফিসার ইলিয়াস হোসেন ও পরিদর্শক আল নাঈম মোরাদের খুটির জোর কোথায়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষের (রাজউক) মূল দায়িত্ব পরিকল্পিত নগরায়ন ও নগর উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা। কিন্তু বর্তমানে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূর্নীতি ও অনিয়মের কারণে অভিযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ (রাজউক) বিশেষ করে রাজউক জোন ৭/১ এর অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস হোসেন ও পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারনে সংস্থাটি এখন প্রশ্ন বিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

অথরাইজড অফিসার ইলিয়াস হোসেন ও পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদকে ঘিরে গড়ে ওঠা দূর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে জোন ৭/১ এখন পুরো দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। ৭/১ জোন এখন একটি দুর্নীতির সেফজোন হিসাবে পরিনত হয়েছে।

সূত্রমতে, রাজউকের জোন ৭/১ যার আওতায় সূত্রাপুর, কোতয়ালী, গেন্ডারিয়া, সদর ঘাট, রায়ের বাজার, বংশাল, শ্যামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই অঞ্চলে ভবন নির্মানে প্রতিটি ধাপেই রয়েছে ঘুষের ব্যাপক অভিযোগ। উক্ত এলাকায় যে কোন নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বড় অংকের ঘুষ ছাড়া ফাইল অনুমোদন করা হয় না। এছাড়াও বয়েছে কর্মকর্তাদের মেনেজমেন্ট করার নাম করে বড় ধরনের অর্থ গ্রহণ করা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজউকের ৭/১ এর জোনে একদল ইমারত পরিদর্শকদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। নতুন ভবনের ত্রুটি খুঁজে চাপ সৃষ্টি করা, যোগাযোগ না করলে নির্মান কাজ বন্ধ বা ভাঙ্গার হুমকি দেওয়া হয় ভবন মালিকদেরকে। এ ভাবেই আদায় করা হয় মাসিক মাসোহারা। মাসিক মাসোহারা আদায়ের একটি বড় একটি অংশ সরাসরি অথোরাইজ অফিসার ইলিয়াস হোসেনের পকেটে ঘুষ পৌছানোর অভিযোগও রয়েছে। অনেকে এটিকে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত মাসিক মাশোহারা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দূর্নীতির শীর্ষে অবস্থানরত ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের হাতে।

হয়রানি ও উচ্ছেদের আতঙ্কঃ বৈধ ভবন মালিকদের ক্ষেত্রেও অভিযোগ রয়েছে সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে নকশার ব্যাতিক্রম দেখিয়ে ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ ও উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে দালালদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আদায়। আদায়কৃত অর্থের বিনিময়ে নিষ্পত্তি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে উক্ত এলাকার প্রতিটি ভবন মালিক ও ডেভেলোপার কোম্পানীর মালিকরা ইলিয়াস হোসেন ও আল নাঈম মুরাদের দুর্নীতি ও অত্যাচারের কারনে অতিষ্ট হয়ে ওঠেছে।

যেসব ভবন থেকে প্রতিমাসে মাশোহারা আনা হয়ঃ ৩৩/১৩/এ, সতিশ চন্দ্র সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ৩০/কে, হাজী আব্দুল কাদের মোল্লা টাওয়ার, ৮৮/এ/২, ডিস্টিলারি রোড, গেন্ডারিয়া, ৪৬ নং রজনী চৌধুরী রোড, গেন্ডারিয়া, ৫০ এস.কে দাশ ব্যাটারী গলি, ২নং ফরাজগঞ্জ, সুত্রাপুর, ৮নং দ্বিননাত রোড, ৪৯ নং মিরহাজীবাগ। এ ছাড়াও টাকার বিনিময়ে উক্ত এলাকার ২ শতাংশ জায়গার উপর, বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে জানা যায়।

জনমনে আতঙ্কঃ রাজউক মানেই হয়রানি। সেবা গ্রহীতাদের মনে একটাই ধারণা ঘুষ ছাড়া রাজউকের কোন ফাইল নড়ে না। রাজউকের কিছু কর্মকর্তার কর্মকান্ডের কারনে প্রতিষ্ঠানটি এখন সেবা নয় বরং ভয় ও হয়রানির প্রতিক হয়ে উঠেছে। এর ফলে পরিকল্পিত নগরায়ণের বদলে অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুকিপূর্ণ নগর গড়ে ওঠার ঝুঁকি প্রতিদিন বাড়ছে। একজন অথোরাইজ অফিসার ও একজন পরিদর্শকের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ ওঠে তখন পুরো প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থাহীনতা তৈরী হয়। তখন সেটা শুধু ব্যক্তি নয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যও হুমকি হয়ে দাড়ায়। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্য উদঘাটন এখন সময়ের দাবী।

উক্ত দূর্নীতির প্রতিবাদে প্রতিকার চেয়ে এক ব্যক্তি গত ২৩/১১/২০২৫ ইং তারিখে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর একটি দরখাস্ত জমা দেন। অদৃশ্য কোন এক শক্তির কারনে দরখাস্তটির আজও কোন প্রতিকার মেলেনি।

(চলবে)