• ঢাকা
  • রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

রংপুরের কাউনিয়ায় বিতর্কিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এখনো বহাল তবিয়তে : প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৯, ২০২৫, ১০:০২ পূর্বাহ্ন / ৩০৭
রংপুরের কাউনিয়ায় বিতর্কিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এখনো বহাল তবিয়তে : প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুরঃ হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়েও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ৩নং কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন আব্দুল মজিদ। তিনটি উপজেলা মাসিক সভায় পরপর অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের নামে রয়েছে হত্যা ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মামলা নং ৩৮/২০২৩ (দফা ১৪৩/৩৪১/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী) এবং মামলা নং ১৭/২০২৪ (দফা ১৪৩/১৪৭/৩২৬/৩০৭/১১৪)। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাবন্দি ছিলেন। তিন সভায় অনুপস্থিত থেকেও বহাল তবিয়তে। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, কোনো চেয়ারম্যান টানা তিনটি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় অনুপস্থিত থাকলে তার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আব্দুল মজিদ জোরপূর্বক পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সচিবের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হকের কাছে মাসিক সভায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য না পাঠিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, একটি ভিডিও ফুটেজে সচিবকে এ বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও হামলার অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশনা দেওয়া ও অর্থের যোগান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তার নেতৃত্বে একাধিক নাশকতা সংঘটিত হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান: বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কেও অবহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, সচিব যদি বলে থাকে আমি তিনটি সভায় অনুপস্থিত ছিলাম, তাহলে সে প্রমাণ দিক। আমি কেবল দুটি সভায় অনুপস্থিত ছিলাম।
স্থানীয়দের ক্ষোভ: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, একাধিক মামলা, প্রশাসনিক অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের পরও কেন এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, একজন হত্যামামলার আসামি কীভাবে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এটা আমাদের বুঝে আসে না। প্রশাসন চাইলে একদিনেই ব্যবস্থা নিতে পারে।” চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ একসময় রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।